গল্প নয় সত্যি

অভিনব ফাঁকি

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৩, ১৯:৩৮
কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের উপর নজরদারি করা কিংবা তাদের কাছ থেকে সেরা কাজটুকু আদায় করে নিতে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বাড়ছে ঠিক তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টাও। তবে এ ধারায় সম্প্রতি ব্রাজিলের কয়েকজন চিকিত্সক যে পন্থা অবলম্বন করেছেন সেটিই সত্যিই চমকে ওঠার মতো। হাসপাতালে উপস্থিত না থেকেও নিজেদের উপস্থিতির রেকর্ড রাখার জন্য এই তিন চিকিত্সক রীতিমতো ফাঁকি দিয়েছেন হাতের ছাপের সাহায্যে হাজিরার রেকর্ড রাখা বায়োমেট্রিক যন্ত্রকে। আর অভিনব এই প্রতারণার জন্য তারা তাদের দক্ষতা আর সুবিধাকে কাজে লাগিয়েই তৈরি করেছিলেন সিলিকনের তৈরি নকল আঙ্গুল। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ব্রাজিলের বৃহত্তর সাও পাওলোর অন্যতম ব্যস্ত এই হাসপাতালটিতে বেশ অনেকদিন থেকেই ডাক্তারদের হাজিরা ও তাদের কাজের সময় রেকর্ড করার জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে আসছিল। এ ধরনের পদ্ধতিতে সাধারণত একজন চিকিত্সক বা কর্মীকে তাদের হাতের ছাপ মেশিনের একটি নির্দিষ্ট অংশে পাঞ্চ করার মাধ্যমে প্রবেশ করতে হয়। সাধারণ আইডি কার্ড নকল করা সম্ভব হলেও একজনের হাতের ছাপ অন্যজনের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয় বলে এতদিন ধরে এই পদ্ধতি নিয়ে বেশ সন্তুষ্টই ছিলেন হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে গেল অনেকদিন থেকেই নিজেদের হাতের ছাপের অনুকরণে তৈরি কৃত্রিম সিলিকনের আঙ্গুল দিয়ে ভুয়া উপস্থিতির রেকর্ড তৈরি করছিলেন বেশ ক’জন চিকিত্সক। কিন্তু সম্প্রতি এক ভিডিওচিত্রের সূত্র ধরেই চিকিত্সকদের এই প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। ব্রাজিলের টেলিভিশন চ্যানেল গ্লোবোভিশনে প্রচারিত এই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, এক নারী চিকিত্সক বায়োমেট্রিক যন্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে তার নিজের উপস্থিতি রেকর্ড করার পর ব্যাগ থেকে কৌশলে নকল আঙ্গুল ব্যবহার করে আরও দু’জনের উপস্থিতির তথ্য দেন এবং যন্ত্রটি থেকে দু’জন চিকিত্সকের উপস্থিতির প্রমাণও সংগ্রহ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই চিকিত্সকরা এভাবেই আরেকজনের কাছে রাখা নকল আঙ্গুলের সাহায্যে তাদের উপস্থিতির মিথ্যা তথ্য রেকর্ড করিয়ে আসছিলেন। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের এই প্রতারণার শাস্তি হিসেবে হাসপাতাল থেকে অভিযুক্ত এই চিকিত্সকদের বহিষ্কারের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হতে পারে যেখানে শাস্তি হিসেবে নিজেদের চিকিত্সা সনদও খোয়াতে পারেন এই ডাক্তারেরা।