রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যাংকের ঋণ বিতরণ কমেছে

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৩, ১৯:৫৫
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার ফলে ঋণ বিতরণ করতে পারছেনা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। আমানতের তুলনায় ব্যাংকগুলো কত শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারবে সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুর্দিষ্ট সীমা নির্ধারিত রয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের সীমা অনেক নীচে রয়েছে। আর বেশি পরিমাণ ঋণ বিতরণ না হওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগও হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাংকগুলো কি পরিমাণ ঋণ বিতরণ করছে ঋণ-আমানতের অনুপাত হার (এডিআর রেশিও) দেখলে তা বোঝা যায়। আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ কম বা বেশি হলে উভয় ক্ষেত্রেই আমানতকারী ও ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্থ হবার আশঙ্কা থাকে। এজন্য কতটুকু ঋণ বিতরণ করা হবে সে বিষয়ে ব্যাংককে খেয়াল রাখতে হয়। আর ব্যাংকগুলোতে সহযোগিতা করতে অনেক সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। সম্প্রতি ঋণ-আমানত অনুপাতের নির্ধারিত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যেখানে এ সীমা অনুযায়ি প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো তাদের আমানতের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক কম পরিমান ঋণ বিতরণ হয়েছে। যা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক খারাপ অবস্থার মধ্যে নতুন করে বিনিয়োগ করা বিপদজ্জনক। এজন্য বিনিয়োগের জন্য ব্যাংক ঋণের পরিমাণ কমছে এমনকি আমদানীর জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণও কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত সার্বিক ব্যাংকিং খাতে এডিআর অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৭৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। এ সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ-আমানতের গড় অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকে ৮০ দশমিক ৫২ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৭৯ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে ৭৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলোর ইসলামী নীতি মেনে শাখাগুলোর এডিআর দাঁড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ।