গতকাল বিএনপি’র ডাকা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি অনেক উপজেলাতেই হরতাল পালিত হয়েছে। উপজেলা থেকে ইত্তেফাক সংবাদদাতারা হরতালের খবর পাঠিয়েছেন।
মিঠাপুকুর (রংপুর)
মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপি শাখার উদ্যোগে হরতাল সফল এবং সকল অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে শাহ্ মো. শাহ্জাহান-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র নেতা খাজানুর রহমান, উপজেলা শাখার বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান (লট), গোলাম রব্বানী, যুবদলের সভাপতি মোরশেদ হাসান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিঠু, ছাত্রদলের সভাপতি সাদেকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মিন্টু, ময়নুল, আশরাফুল প্রমুখ। মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয় তবে দূর পাল্লার কোন যানবাহন যাতায়াত করতে দেখা যায়নি।
হোমনা (কুমিল্লা)
উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে এম কে আনোয়ার এমপি’র বাসভবন থেকে হরতালের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা মোড়ে আসলে পুলিশ বাধা দিলে শিল্পকলা মোড়েই রাস্তা অবরোধ করে সমাবেশ করে হরতালকারীরা। উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মাহফুজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা এ্যাড আজিজুর রহমান মোল্লা, মোজাম্মেল হক মুকুল, ছানাউল্লাহ সরকার, মিজানুর রহমান, হানিফ মিয়া, শেফালী বেগম, হিমেল ও অহিদুজ্জামান মোল্লা প্রমুখ।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা)
হরতাল সফল করতে বিএনপি’র ৪ গ্রুপের মধ্যে ৩ গ্রুপ এখানে বিক্ষোভ মিছিল করে। কড়া পুলিশি প্রহরার মধ্যে উপজেলা বিএনপি’র একাংশের সভাপতি পৌর মেয়র নোয়াব আলীর নেতৃত্বে নোয়াব আলী গ্রুপ, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আক্তারুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খানের নেতৃত্বে বাবু খান গ্রুপ ও পৌর বিএনপি’র সভাপতি শাহজাহান কবীর ও সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে মোজাম্মেল হক গ্রুপ বিক্ষোভ মমিছিল করে। জোটের শরিকদল জামায়াত শিবিরও পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলকালে বিএনপি শহরের মধ্যে ঢুকতে চাইলে এবং জামায়াত-শিবির জীবননগর-কালীগঞ্জ সড়কের বৈদ্যনাথপুরে পিকেটিং করার চেষ্টা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে পণ্ড হয়ে যায়।
রায়পুরা (নরসিংদী)
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপিসহ হরতাল সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. ফায়জুর রহমান ও বেলাব উপজেলার সররাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. জহিরুল হক তানবীরের যৌথ নেতৃত্বে মিছিলটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই উপজেলার সংযোগস্থল নারায়ণপুরসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে নারায়ণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যে সমাপ্ত হয়। এসময় বক্তব্য দেন: নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল বাছেদ মাস্টার, বিএনপি’র প্রবীণ নেতা আ. ছাদেক, মো. নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান সরকার, বাবুল মিয়া প্রমুখ।
লাকসাম (কুমিল্লা)
হরতালের সমর্থনে লাকসামে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় উভয় গ্রুপ ইট-পাটকেল নিক্ষেপে পৌর বিএনপি’র সভাপতির মার্কেট, দৌলতগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্নে ৫/৬টি দোকান ও কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করা হয়। তাছাড়া বাইপাস সড়ক, ব্যাংক রোড, চাউল বাজার, উত্তর বাজার, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড, রাজঘাট ও ধানবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছে।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পৌর এলাকার বাকুয়া বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী হরতাল সমর্থনে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধায় তা পণ্ড হয়। এ সময় হরতাল সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এ ঘটনায় উল্লাপাড়া থানার এস. আই কামরুজ্জামান, কনস্টেবল মাহবুবসহ অন্তত ৫জন আহত হয়। তাদের উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার স্থল থেকে পুলিশ উল্লাপাড়া দক্ষিণ শাখার শিবির সভাপতি সাজিরুল ইসলাম বুলবুল, শিবিরকর্মী নয়নসহ ৩জনকে আটক করেছে।
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)
ঘাটাইলে হরিপুর, বানিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পিকেটাররা ১০টি ট্রাকসহ ২০টি যানবাহন ভাংচুর করেছে। তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হরিপুরে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলকর্মীরা ৭/৮টি মালবাহী ট্রাক ও ৫টি টেম্পো ও সিএনজি ভাংচুর করে ।
লালপুর (নাটোর)
উপজেলা মোড় ও গোপালপুর বাজারের সকল দোকানপাট, স্কুল, কলেজ বন্ধ ছিল। পোস্ট অফিস ও ব্যাংকসমূহে দরজা গুটিয়ে কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হলেও লোকজনের উপস্থিতি ছিল না। এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলীর নেতৃত্বে হরতালবিরোধী মিছিল বের হয়। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমূহে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
হরতালের সমর্থনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্বাধীনতা চত্বরে এসে সমবেত হয়।
উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও পৌর মেয়র মুহাম্মদ ইলিয়াস-এর সভাপতিত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ও গ্রেফতার হওয়া সকল নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে নি.শর্ত মুক্তির দাবিতে বক্তব্য রাখেন: উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইকলিল আজম, উপজেলা বিএনপি সহ-সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন হেলাল ও মো. বেনজির আহাম্মেদ রাশু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম ভুঁইয়া প্রমুখ।
বটিয়াঘাটা (খুলনা)
উপজেলা বিএনপির ডাকা হরতাল শান্তিপূর্ণ ভাবে পালিত হয়েছে। দোকান-পাটসহ সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশের বাধার মুখে হরতালকারীরা পিকেটিং বা মিছিল করতে পারেনি।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে হরতাল সমর্থকরা ৫টি গাড়ি ভাঙচুর ও ৩টিতে অগ্নিসংযোগ করেছে। পুলিশ এঘটনায় উপজেলা উত্তর শাখার শিবির সভাপতি বোরহান উদ্দিনসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলো- শিবিরকর্মী কালিকাপুরের এখলাছ উদ্দিন, বাবুর্চি শফিকুল ইসলাম, গুনবতীর আবু জাহের, খাটরার সালাউদ্দিন ও তালগ্রামের দেলোয়ার হোসেন। জিএম তাহের পলাশীর নেতৃত্বে বিএনপি ও সাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে জামায়াত নেতা-কর্মীরা চৌদ্দগ্রাম বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে।
মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
মহেশপুরে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালে দোকান-পাট বন্ধ ছিল। শহর থেকে কোনো দূর পাল্লার যানবাহন ছেড়ে যায়নি। ১৮ দলীয় জোটের পিকেটাররা খালিশপুর বাজারে অবস্থান নেয়। মোড়ে মোড়ে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন ছিল।
রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় বিএনপির ডাকা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়। পৌর শহরে হরতালের সমর্থনে বিএনপির কোনো মিছিল দেখা যায় নি। অধিকাংশ দোকান-পাট, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল।
নাসিরনগর (বি.বাড়িয়া)
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান আহসানুল হক মাস্টার ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গোকর্ন ইউপি চেয়ারম্যান এম এ হান্নানের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে নাসিরনগর-সরাইল সড়কে ভারী কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)
রাজারহাটে হরতালের পক্ষে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম।
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোনো সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। সড়ক ও নৌপথে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি, অফিস আদালতের কাজকর্ম ছিল স্বাভাবিক। হরতাল সমর্থনে বিএনপি দুই গ্রুপ-এর নেতা-কর্মীরা আলাদাভাবে পিকেটিং ও মিছিল-সমাবেশ করেছে।
আদমদীঘি (বগুড়া)
বগুড়ার আদমদীঘি ১৮ দলের উদ্যোগে রাস্তায় কাঠের গুঁড়ি ফেলে হরতাল পালন করা হয়। সকাল থেকেই হরতালের সমর্থনে পিকেটিং ও খণ্ড খণ্ড মিছিল বের হয়। হরতাল চলাকালে দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলেনি। অধিকাংশ দোকান-পাট ছিল বন্ধ। বেলা ১১টায় বাসষ্ট্যান্ড শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কালকিনি (মাদারীপুর)
কালকিনি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে কোন মিছিল বা সভা-সমাবেশ দেখা যায়নি। এছাড়া হরতাল সমর্থনে উপজেলার কোন জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওযা যায়নি। উপজেলা সদরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি এবং আসেনি।
