অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে তালিকাভুক্ত কতিপয় সম্পত্তি মূল মালিক বা উত্তরাধিকারীর কাছে প্রত্যর্পণের লক্ষ্যে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ প্রণয়ন করা হয়। এর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কতিপয় সম্পত্তি অবমুক্তির লক্ষ্যে গঠিত ট্রাইবুনালে অবমুক্তির আবেদন দাখিলের সুযোগ প্রদান করা হয় এবং নির্ধারিত সময় দেয়া হয় গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ৩০০ দিন। এ আইনের মাধ্যমে প্রকাশিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত গেজেট পর্যালোচনা করে দেয়া যায় যে, এই গেজেটের তালিকা সিএস ও এসএ রেকর্ড অনুযায়ী বিভিন্ন সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ঐ সব তালিকাভুক্ত বিভিন্ন সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তিত হয়েছে এ আইনে উল্লেখিত সময়ের আগেই যার ফলে অনেক সহজ-সরল ভূমির মালিক অর্পিত সম্পত্তির তালিকা বা প্রত্যর্পণের বিষয় সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেননি। আবার গেজেট প্রকাশিত হলেও সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় তা সংগ্রহ করতেও অনেক সময় পার হয়। যার ফলে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে আবেদন দাখিল করতে পারেননি।
এছাড়া গেজেটে প্রকাশিত নির্ধারিত সময়ে আবেদন দাখিল করতে না পারার কিছু প্রতিবন্ধকতাও বিশেষভাবে বিবেচ্য। যেমন—
ক. গেজেট প্রাপ্তি ক্ষেত্রে বিলম্ব।
খ. দেশে বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি।
গ. সরকারি বিভিন্ন ছুটিসহ আদালতের অবকাশকালীন ছুটি।
ঘ. প্রয়োজনীয় দাখিলীয় কাগজপত্র সরবরাহ ও প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং
ঙ. ব্যাপক প্রচারের কথা থাকলেও কতিপয় ক্ষেত্রে সীমিত প্রচারণার ফলে এ বিষয়ে অবগত হওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব হওয়া।
যেহেতু ভূমির স্বত্ব ও স্বার্থ দেওয়ানী প্রকৃতির এবং এটা একটি স্পর্শকাতর বিষয়। আবার বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদির বিষয়টিও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সেহেতু তালিকাভুক্ত সম্পত্তির বৈধ মালিকদের স্বত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির অবমুক্তির জন্য আবেদনপত্র দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন। তাই ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে তালিকাভুক্ত সম্পত্তি অবমুক্তির জন্য ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি অবমুক্তির আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ভূমিকর বৈধ মালিকদের আবেদন দাখিলের সুযোগ দেয়ার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।
জহুরা খাতুন জুঁই,
অ্যাডভোকেট, জজ কোর্ট, ঢাকা
