সংঘর্ষ ভাংচুর পুলিশের গাড়িতে আগুন

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৩, ২২:০৮
পুলিশ-বিএনপি-আওয়ামী লীগ ত্রিমুখী সংঘর্ষ, দলীয় কার্যালয় ও একাধিক যানবাহন ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার বিভিন্ন স্থানে হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে ফেনীর দাগনভুঞা ও কুমিল্লার দেবিদ্বারে পিকেটারদের হামলা ও ধাওয়ায় কমপক্ষে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, রংপুর, জামালপুরের ইসলামপুর, চাঁদপুর, ঝিনাইদহসহ আরো কয়েকটি স্থানে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ দেড়শতাধিক আহত হয়েছে। রংপুরে বিএনপি অফিস ভাঙচুর করেছে হরতালবিরোধীরা। ভোলা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল নিক্ষেপ করে পিকেটাররা। এছাড়া সাতক্ষীরায় জেলা পরিষদে ককটেল হামলা চালানো হয়। এসব ঘটনায় পুলিশ সারাদেশ থেকে ১৮ দলীয় জোটের শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ ীয় কার্যালয় থেকে দেড়শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ১৮ দলীয় জোট দেশজুড়ে দুই দিনের লাগাতার এই হরতাল কর্মসূচি দেয়। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হরতাল চলবে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে গতকাল সন্ধ্যার পর হরতাল সমর্থকরা খুলনা নগরীতে বোমা বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসময় ডাকবাংলো ও পিকচার প্যালেস মোড় এলাকায় এপিসি স্কুলের সামনে পর পর ৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বোমার বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন এবং এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। চাঁদপুর থেকে হাজীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, উপজেলার এনায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। আহতদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক জাকির হোসেন খোকা রয়েছেন। আহতদের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান আবুল হোসেন জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে ৯ রাউন্ড টিয়ার সেল ও কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। রংপুর প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় পিকেটাররা যানবাহন ভাংচুর করলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ও সাইনবোর্ড ভাংচুর করে। বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ, টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে থানা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম আজাদসহ ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ যুবদল থানা সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন মনু ও ছাত্রদল থানা সাধারণ সম্পাদক রাহেনুজ্জামান খোকনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে তাদের অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাদেরকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহত ছাত্রদল নেতা রাহেনুজ্জামান খোকনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। এর আগে ভোরে হরতাল সমর্থকরা রংপুর-বদরগঞ্জ রেললাইনের শিংগীমারী রেল ব্রীজে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে স্থানীয় জনতা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। এছাড়াও রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের উত্তম হাজিরহাটে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে হরতাল সমর্থনকারীরা। এদিকে সকালে গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ দলীয় কার্যালয় থেকে হরতাল সমর্থনে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরীতে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এদিকে রবিবার রাতে নগরীর কলেজপাড়া এলাকার তৃণা ছাত্রাবাস থেকে শিবির ক্যাডার ছাদেকুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ, মোসলেম উদ্দিন, মেহেদী ইকবাল, মাহমুদ হাসান, খোকন, মোস্তফা, শাহিনুর ইসলাম, রবিউল ইসলাম, আহসান হাবীবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে ককটেল, পেট্রোল, হকিস্টিক, লোহার রড, জেহাদী বইসহ বিপুল পরিমাণ লাঠিসোটা উদ্ধার করা হয়। চট্টগ্রাম অফিস জানায়, বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই চট্টগ্রামে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৩৬ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। হরতাল সমর্থকরা সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের একটি বাথরুমে আগুন লাগিয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে পাথর ছুঁড়ে কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভাঙা হয়। রবিবার গভীর রাতে জেলার বাঁশখালি উপজেলার নাপোড়া বাজারে একটি বেইলি ব্রিজ খুলে ফেলে হরতাল সমর্থকরা। এর ফলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা এবং দক্ষিণ বাঁশখালির সাথে চট্টগ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সীতাকুণ্ড উপজেলায় বিএনপির একটি মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে মামুন চৌধুরী, আরমান ও সায়মন নামে বিএনপির ৩ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতা রুম্মানকে গ্রেফতার করেছে। খুলনা অফিস জানায়, খণ্ড খণ্ড মিছিল, সমাবেশ আর পিকেটিংয়ের মধ্যে খুলনায় হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। সকালে মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছালে পুলিশ এ রাস্তার দু’প্রান্তে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দৌলতপুর থানা বিএনপি হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করে। খালিশপুর থানা বিএনপি সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিমের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। সকাল ৮টার দিকে রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে পুলিশ মহানগর বিএনপির সহ-প্রকাশনা সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এছাড়া খালিশপুর থেকে বিএনপির কর্মী শহিদুল ইসলাম ও সোনাডাঙ্গা থানায় যুবদল নেতা হাসিবকেও আটক করে পুলিশ। রাজশাহী অফিস জানায়, বিএনপি’র মিছিলে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর মালোপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হরতালে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলার বাস চলাচল এবং অধিকাংশ মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে ট্রেন, রিকশা ও ইজিবাইকসহ হালকা যানবাহন চলাচল করেছে। এদিকে রবিবার রাতে পবার হড়গ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদকে পুলিশ আটক করেছে। সিলেট অফিস জানায়, জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল চলছে। নগরীর জিন্দাবাজার কাজী ইলিয়াছ এলাকায় টায়ার পুড়িয়ে পিকেটিংয়ের সময় দুই ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। যশোর অফিস জানায়, পক্ষে বিপক্ষে মিছিল এবং ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে জেলায় হরতাল পালিত হচ্ছে। পিকেটিং করার সময় ৪ পিকেটারকে আটক করেছে পুলিশ। কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, জেলার লাকসামে হরতালকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ভাংচুর, গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। ভোরে জেলার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালিকাপুর ইউনিয়নের লালারপুল নামক স্থানে একটি মালবাহী কন্টেইনারে পিকেটাররা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় এলাকার লোকজন ২ পিকেটার শিবির কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ৯ জনকে আটক করেছে। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, সংবাদপত্রবাহী গাড়ি ভাংচুর , ককটেল বিস্ফোরণ ও বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে জেলায় হরতাল চলছে। শহরের বগুড়ার মোকামতলায় একটি সংবাদপত্রবাহী গাড়ি ভাংচুর করেছে পিকেটাররা। হরতাল চলাকালে শহরের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করে হরতালকারীরা। এদিকে রবিবার রাতে পুলিশ ৪ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। দাগনভূঞা (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার আজিজ ফাজিলপুর গ্রামের মুক্তারবাড়ীর দরজা নামক স্থানে পিকেটারদের হামলায় পণ্যবাহী গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালের গাড়ির ড্রাইভার নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোর ৩টার দিকে ফেনী-মাইজদী সড়কে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালের মালবাহী গাড়ি (চট্ট-মেট্রো-ট-১১-১১৩৭) সেনবাগ যাওয়ার পথে পিকেটাররা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে গাড়ির কাঁচ ভেঙে ড্রাইভার নূর মোহাম্মদের শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সকাল ১০টায় সে মারা যায়। নিহত নূর মোহাম্মদ বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার মশাং গ্রামের মো. মান্নানের পুত্র। দাগনভূঞা থানা অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দেবীদ্বার (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, পিকেটারদের ধাওয়া খেয়ে এবং পুলিশি আতঙ্কে দেবীদ্বারে নসিমন উল্টে এর চালক ছমিরুদ্দিন ওরফে সবুজের (৩০) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরো ৩ যাত্রী। ঘটনাটি ঘটে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট সড়কের দেবীদ্বার পৌরসভার বারেরা এলাকায়। পিকেটারদের হামলার আশংকায় ৩ যাত্রী নিয়ে নছিমন চালক দ্রুত পালাতে গেলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত ছমিরুদ্দিন উপজেলার মাশিকাড়া গ্রামের বদিরুদ্দিনের পুত্র। সে পেশায় রংমিস্ত্রি ছিল। আহত ৩ জনই নিহতের চাচাতো-জেঠাতো ভাই বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গুনাইঘর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম বলেন, নিহত ছমিরুদ্দিন খুবই দরিদ্র। সে নিজেই নছিমনটি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা যায়। তবে দেবীদ্বার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. কবির আহমেদ বলেন, চালক অভিজ্ঞ ছিল না, নতুন নছিমন কিনে তা দ্রুত চালাতে যেয়ে উল্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি এবং তারা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় লাশ নিয়ে গেছে। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের সিরাজগঞ্জের নলকা ব্রিজের উপর দুটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ ও ৪টি বাস ভাংচুর করেছে হরতাল সমর্থকরা। ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে সিরাজগঞ্জ দমকল বাহিনী পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে রবিবার রাতে শহরের বাজার স্টেশন চত্বর, কাজিপুর রাস্তার মোড়, শিয়ালকোল, তাড়াশ উপজেলার তিনটি স্পট ও উল্ল¬াপাড়ার বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এব্যাপারে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবত্ থাকবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহরে মাইকযোগে প্রচার করা হয়েছে। অন্যদিকে কাজিপুর আঞ্চলিক সড়কের খোকসাবাড়িতে ১৮ দলের হরতালকারী নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা সদরে হরতালকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ৩ মহিলা গুলিবিদ্ধ ও ৪ মহিলা লাঞ্ছিত হয়েছেন। এছাড়া শিবিরের স্থানীয় সভাপতিসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের বাখুঁয়া ওয়াপদা মোড়ে হরতাল সমর্থনকারী বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করার সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। এতে হরতালকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে গ্রামের ভিতর ঢুকে পড়ে। এ সময় গুলিতে গৃহবধূ সখিনা (৭২), শাহানা (৩৫) ও রোজিনা (৩০) গুলিবিদ্ধ হন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, আসামি ধরার কথা বলে পুলিশ সাধারণ মানুষের বাড়িতে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় গৃহবধূ সবুরা, শাপলা, আতিকা ও মালেকা লাঞ্ছিত হন। পুলিশের এই তাণ্ডবে সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলোর শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে দিকবিদিক পালিয়ে গেলে স্কুলগুলো ছাত্রশূন্য হয়ে পড়ে এবং সকল পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে শিবির পূর্ণিমাগাঁতী ওয়ার্ড সভাপতি বুলবুল, বরাত আলী ও ব্যবসায়ী নয়ন মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এলাকাবাসী গ্রেফতারের প্রতিবাদে গাছ কেটে সড়কে ফেলে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। বিকাল ৩টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তারা প্রায় ১৫ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। সংঘর্েষ পুলিশের ২ সদস্য মাহবুব ও এসআই কামরুজ্জামান আহত হন। জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার ইসলামপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ ১৭ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ছয় রাউন্ড টি আর সেল ও পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় একে অপরকে অভিযুক্ত করে উভয় দল সংবাদ সম্মেলন করেছে। হরতালের সমর্থনে বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল স্থানীয় বটতলা চত্বরে পথসভা করার সময় থানা মোড় দিয়ে আওয়ামী লীগের হরতাল বিরোধী একটি মিছিল অতিক্রমকালে দুই দলের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দৈনিক নয়া দিগন্তর ইসলামপুর প্রতিনিধি খাদেমুল হকসহ ১৭ জন আহত হন। রাস্তার দুই পাশের ফুটপাতের ১০-১৫টি দোকান ও পৌর বিএনপির অফিস ভাঙচুর করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা মনিরুজ্জামান মনি ও বিএনপি নেতা বুদুকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইসলামপুর থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এদিকে দায়িত্বপালনকালে সাংবাদিকের উপর হামলা ও ক্যামেরা ভাঙচুরের প্রতিবাদে ইসলামপুর কর্মরত সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবে তাত্ক্ষণিক এক প্রতিবাদ সভায় এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বরিশাল অফিস জানায়, হরতালের প্রথম দিন সকালে ছাত্রদলের কর্মীরা সিএন্ডবি রোডে পিকেটিং করে। সাড়ে ৬টায় মহানগর বিএনপির সভাপতি সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের নেতৃত্বে জেলেবাড়ি পুল থেকে একটি মিছিল সদর হাসপাতালের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এছাড়া হরতালের প্রথম ভাগে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পুলিশের সাথে পিকেটারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ ও ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে জেলায় হরতাল পালিত হয়। হরতাল সমর্থকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ২ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়। সকাল সোয়া ৯টার দিকে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর টোল ঘরের সামনে হরতাল সমর্থকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের একটি পিক-আপ ভ্যানে ককটেল নিক্ষেপ করে হরতাল সমর্থকরা। গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এতে কেউ হতাহত হয়নি। রূপগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকায় যানবাহন ভাঙচুর করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। হামলা ও সংঘর্ষে ছাত্রদলের ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল নেতা আনোয়ার সাদাতসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। রূপগঞ্জ থানার ওসি মঈনুর রহমান জানান, আটককৃতদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে ছাত্রদলের হামলায় ৭/৮ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শর্টগানের গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। আহত ৬ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষের সময় জেলা বিএনপির কার্যালয় ও সাবেক এমপি মসিউর রহমানের বাসার সামনে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কালীগঞ্জের চাঁদবা গ্রামে হরতালকারীরা দুই বার রেল লাইনে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। এছাড়া মহেশপুরের খালিশপুরে জামায়াত-শিবির সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, জেলা সদরসহ বিজয়নগরে সংঘর্ষে পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় পিকেটাররা ট্রাক, পিক-আপ ভ্যানসহ ৫টি গাড়ি ভাঙচুর করে। ১২ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, বাস ভাঙচুর, অটো-রিকশায় অগ্নি সংযোগ এবং ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে জেলায় ঢিলেঢালাভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। পুলিশ বিএনপির একজন পৌর কাউন্সিলারসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। শেরপুর প্রতিনিধি জানান, সকালে শহরের নিউমার্কেট মোড়ে ২টি এবং নারায়ণপুর এলাকায় ২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় হরতাল সমর্থকরা। দুপুরে বিএনপিতে সদ্য যোগদানকারী নেতা তরুণ শিল্পপতি হযরত আলীর অটো রাইছ মিলে প্রবেশ করে ১৫ হরতাল সমর্থককে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, পিকেটাররা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩টি অটো রিকশা ভাংচুর করে। সড়কে দূরপাল্লার গাড়ী না চললেও ট্রেন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। দোকান পাটসহ সকল মার্কেট বন্ধ ছিল। নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, হরতালে সহিংসতার আশংকায় পুলিশ রবিবার রাত ও গতকাল ভোরে বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে বিএনপির ৭ জন ও জামায়াত-শিবিরের ৮ জন কর্মী ও সমর্থককে গ্রেফতার করেছে। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, হরতাল চলাকালে জেলা পরিষদের ভিতর ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। দুপুর ১টার দিকে জেলা পরিষদ প্রশাসক জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুনসুর আহমেদের অফিস কক্ষের পাশের প্রাচীরে ককটেলটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সকাল থেকে হরতাল সমর্থনকারীদের শহরের কোথাও পিকেটিং করতে দেখা না গেলেও শহরের অদূরে বিনেরপোতা এলাকায় রাস্তা কেটে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এছাড়া শহরের অদূরে তালতলা, বাকাল, মাধবকাটিসহ বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করা হয়। ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, বেলা ১২টার দিকে হরতাল সমর্থনকারীরা শহরে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় নাজির নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এদিকে রবিবার রাতে শহরে দুটি তেলবাহী লরিতে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুটি পেট্রোল বোমাসহ ইমাম উদ্দিন নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, বিক্ষোভ মিছিল, টায়ারে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে জেলায় হরতাল চলছে। জেলা শহর থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভোলা উত্তর প্রতিনিধি জানান, জেলায় ঘুইগারহাটে হরতালের সমর্থনে মিছিলে বাধা দেয়ায় পুলিশের সাথে বিএনপি কর্মীদের ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১১ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ পিকেটাররা পুলিশের বহনকারী একটি ট্রলি ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ভোলা কোর্টের ওসি বেলায়েত হোসেন ও দুই এসআই, বিএনপি কর্মী মীর গিয়াসসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, দুপুরে বাহাদুর বাজার মোড়ে বিএনপি মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেয়। ফলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। মিছিলকারীরা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য প্রথমে লাঠিচার্জ করে। পরে তিনটি টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে ও ৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ৪-৫ জন আহত হয়। বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, জেলায় নাশকতার আশংকায় পুলিশ বিভিন্ন উপজেলা থেকে গতকাল সকালে ৬ জনকে আটক করেছে। তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সকাল ৮টার দিকে কলারোয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার সরসকাটি বাজার থেকে তিন জামায়াত নেতাকে আটক করেছে। এরা হলেন: উপজেলা খোরদোবাটরা গ্রামের মৃত ইব্ররাহীম সরদারের ছেলে জামায়াত নেতা সরসকাটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. রোকনুজ্জামান (৩৮), তার বড় ভাই খোরদোবাটরা সর:প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. নূরুজ্জামান (৪০) ও গাজনা গ্রামের মৃত মুছাব্দী সানার ছেলে ত্রিমোহিনী সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আ: করিম (৫০)। ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, কয়েকটি টেম্পু ভাংচুর ছাড়া বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হরতালে বাস চলেনি। অধিকাংশ দোকান-পাট বন্ধ ছিল। আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন চলেছে। পিকেটাররা সকালে শহরের চরপাড়া লাশকাটা গেইটের সামনে ৪/৫টি অটোটেম্পু ভাংচুর করে দ্রুত পালিয়ে যায়। লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, সকালে একতা পরিবহনের একটি নাইট কোচ ভাংচুর করেছে পিকেটাররা। এতে ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। এছাড়া গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় চিরিঙ্গা বদরখালী সড়কে পিকেটিংকালে পুলিশ উপজেলা শ্রমিকদল নেতা মেম্বার রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় পুলিশ পিকেটারদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে।