কলম্বো টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের লিড মাত্র ৫২ রান। লিড আরো বাড়তে পারত, যদি রঙ্গনা হেরাথ ফের জ্বলে না উঠতেন। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের চার উইকেটের মধ্যে তিনটিই পুরেছেন নিজের পকেটে। এক হেরাথের কাছে কুপোকাত বাংলাদেশের তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। দিনশেষে স্কোরবোর্ডে চার উইকেটে ১৫৮ রান। সেটিও সম্ভব হয়েছে তামিম ইকবালের ফিফটি, জহুরুল ইসলামের ৪৮ ও মোমিনুল হকের হার না মানা চমত্কার ৩৬ রানের কারণে। উইকেটে থাকা মোমিনুল ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের উপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের লিড কোথায় গিয়ে ঠেকবে। তবে হেরাথ কলম্বো টেস্টে যেভাবে জ্বলে উঠেছেন, তাতে বাংলাদেশ আজ মঙ্গলবার চাপ নিয়েই ম্যাচের চতুর্থ দিন ব্যাট করতে নামবে।
কাল দিনের শেষ সেশনটা বাদ দিলে বাকি দুই সেশন বাংলাদেশের কেটেছে স্বপ্নের মত। মাত্র ৫২ রান যোগ করতেই শ্রীলংকা হারিয়ে ফেলে শেষ চার উইকেট। এর মধ্যে সেঞ্চুরিয়ান কুমারা সাঙ্গাকারাও রয়েছে। টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যানকে দিনের শুরুতে ফিরিয়েছেন আবুল হাসান। কাল সাঙ্গাকারা যোগ করেন মাত্র ১২ রান। সাঙ্গাকারার বিদায়ের পর লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা লিড বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সোহাগ গাজী ও ইনজুরি থেকে ফেরা রুবেল হোসেনের কারণে সেটা বেশিদূর এগোয়নি। কাল দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশি বোলারদের দাপটে লাঞ্চের আধাঘন্টা আগেই স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ৩৪৬ রানে। ফলে স্বাগতিকরা লিড পায় ১০৬ রানে।
প্রথম সেশনে ব্যর্থ হওয়া তামিম জহুরুলকে নিয়ে প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাট করে গেছেন। এর মধ্যে নিজে পেয়েছেন বারোতম হাফ সেঞ্চুরি। কিন্তু একটি ভুল শটে তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে (৫৯)। জহুরুল দিনের শুরু থেকে একটু মারমুখী ছিলেন বটে, তবে বল খরচের বেলায় তাকে অনেক বেহিসাবী মনে হয়েছে। ৪৮টি রান করতে তিনি খরচ করেছেন ১৭০টি বল! অথচ, হেরাথের বল উইকেট ছেড়ে খেলতে গিয়ে স্ট্যামড তিনি! গল টেস্টে সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ আশরাফুলের আউটটিও ছিল বিতর্কিত। মাত্র চার রানে ফিরে গেছেন তিনি। আর সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ক্রিকেট ভুলতে বসেছেন তিনি। রানের খাতা খোলার আগেই হেরাথের কারিশমায় তিনি বোল্ড। শেষ পর্যন্ত মোমিনুল ও মুশফিক দলকে ৫২ রানের লিড এনে দিয়েছেন। কিন্তু এই দুইজনও পেয়েছেন একটি করে লাইফ। ৩০ রানে মিডঅফে কুলাসেকারা ফেলেছেন মোমিনুলের ক্যাচ আর স্লিপে এঞ্জেলা ম্যাথুয়েস ফেলেছেন মুশফিকের ক্যাচ। এই লাইফ না পেলে এই দুইটি উইকেটও দিনশেষে হেরাথের নামের পাশে যোগ হত।
