ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে সিরাজগঞ্জ জাতীয় জুট মিল

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৩, ২২:১৬
সিরাজগঞ্জ জাতীয় জুট মিলটি এখন লোডশেডিংয়ের কারণে লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে চলেছে। বিজেএমসির ৮টি জুট মিল পিডিবির বিদ্যুতে পরিচালিত হলেও সিরাজগঞ্জের এই মিল ছাড়া অন্য কোন জুট মিলে লোডশেডিং নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই মিলে প্রতিদিন ১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের দরকার হলেও গত ৩ মাস ধরে প্রতিদিন লোডশেডিংয়ের কারণে মিলটিতে উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে। সংশ্ল্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের লক্ষ্যে ১৯৮০ সালে এই মিলের নিজস্ব অর্থায়নে এক্সপ্রেস ফিডার নির্মাণ করা হয়। এ ফিডারে শুধুমাত্র মিলের বিদ্যুত্ সংযোগ ব্যতীত অন্য কোন গ্রাহক ও কোন প্রতিষ্ঠানের সংযোগ দেয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু মিলের এক্সপ্রেস ফিডার থেকে কান্দাপাড়া পুলিশ লাইন, জেলখানা, বিভিন্ন তেল মিলে বিদ্যুত্ সংযোগ থাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়াও বিদ্যুত্ বিভাগের লোডশেডিং ম্যানেজমেন্ট ঠিকমত পরিচালিত হচ্ছে না বলে কয়েকজন বিদ্যুত্ প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান। তবে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে কোন লোডশেডিং ছিল না বলে জাতীয় জুট মিলের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দিন জানান। সরেজমিনে গতকাল সোমবার গিয়ে দেখা যায়, মিলে বিদ্যুত্ নেই। বিদ্যুত্ বিভাগে যোগাযোগ করলে তারা জানান, দুই ঘন্টা লোডশেডিং থাকবে বলে মিলে কোনো বিদ্যুত্ থাকবে না। মিল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত ২৪ দিনের লোডশেডিংজনিত কারণে প্রায় উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও ঠিকমত উত্পাদন না হওয়ায় দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের পাটজাত পণ্য চাহিদা সময়মতো সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। উত্পাদন অব্যাহত রাখতে এই মিলের প্রতিদিন ১ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ খুবই জরুরি বলে মিল সংশ্লিষ্টরা জানান। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, লোডশেডিংয়ে উত্পাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন ২/৩ কর্মঘন্টার মজুরি না পেয়ে দরিদ্র শ্রমিকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতীয় জুট মিলের প্রকল্প প্রধান নূরুল ইসলাম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিজেএমসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট পত্র দেয়া হয়েছে। এই লোডশেডিং বন্ধ না হলে উত্পাদন ব্যাহত হয়ে রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।