বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী পার্বত্য শান্তিচুক্তি মানে না এবং এই চুক্তি বাতিল করে পার্বত্য অঞ্চলকে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা। তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার চার বছর অতিক্রম করে গেলেও চুক্তি বাস্তবায়নের কোন সদিচ্ছা না দেখিয়ে বরং শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার তা ভঙ্গ করে চলেছে।
তিনি গতকাল সোমবার রাঙ্গামাটি জুরাছড়ির পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি তৃতীয় সম্মেলন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ১৫তম কাউন্সিলের গণ-সমাবেশে এ অভিযোগ করেন।
জুরাছড়ি উপজেলা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, জুরাছড়ি উপজেলা শাখার উদ্যোগে জুরাছড়ি উপজেলা কেন্দ্রস্থল শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি তৃতীয় সম্মেলন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১৫তম কাউন্সিল উপলক্ষে গণ-সমাবেশ ও আলোচনা সভা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সাধারণ সম্পাদক মায়াচান চাকমার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেএসএসের সদস্য রিটন চাকমা, জেএসএসের সাধারণ সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা, পিসিপির রিপেশ চাকমা, যুব সমিতির তাপস চাকমা, মহিলা সমিতির সুপ্রভা চাকমা, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবর্তক চাকমা প্রমুখ।
সমাবেশে সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন ও পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন কার্যকর না করে পার্বত্য চুক্তিতে বাধা সৃষ্টি করছে। পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী সরকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ (ভূমি বিরোধ, বন ও পরিবেশ, মাধ্যমিক শিক্ষা, পর্যটন) হস্তান্তর না করে কিছু গুরুত্বহীন বিভাগ হস্তান্তর করে পার্বত্যবাসীদের মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাঙ্গামাটি সফরে এসে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা না বলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের নামে পার্বত্য চুক্তি বাতিলের ষড়যন্ত্র ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব ধ্বংসের বিষ ঢেলেছে বলে অভিযোগ করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফকে সরকার মদক দিচ্ছে অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি লংগদু নৌ পথে যাওয়ার সময় জেএসএসের সমর্থক ৫০ জন ইউপিডিএফ অপহরণ করার পরও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার ও প্রশাসন এদের উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফ শুধু চুক্তির বিরোধিতা করছে না, বরং হাজার হাজার জুম্মের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, শত শত মানুষকে ভিটেছাড়া করেছে। সরকার ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ না করে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ করে পাহাড়ে শান্তি আনয়নের দাবি জানান তিনি।
