পরিচালক বাড়ছে ব্যাংক পর্ষদের

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৩, ২২:১৯
ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পর্ষদের পরিচালক পদের সংখ্যা বাড়ছে। আর এ পর্ষদে থাকবেন চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক। উদ্যোক্তা পরিচালকরা পাবেন না বাড়তি কোন সুবিধা। এক পরিবার থেকে একই ব্যাংকে একাধিক পরিচালক থাকতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি একটি ব্যাংকের পরিচালক হলে তিনি অন্য কোন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বীমা কোম্পানির পরিচালক হতে পারবেন না। এসব নিয়মের কথা বলা হয়েছে ব্যাংক কোম্পানি আইন (সংশোধন)-২০১৩-এর খসড়ায়। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মো. মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া এ কথা জানান। খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হবে সর্বোচ্চ ২০ জন। পরিচালক পদের মেয়াদ হবে তিন বছর। পর পর দুই মেয়াদে পরিচালক হওয়া যাবে। এরপর কেউ পরিচালক হতে চাইলে কমপক্ষে তিন বছর বাধ্যতামূলকভাবে বিরতিতে থাকতে হবে। তাছাড়া পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তার চেয়ে নিম্নতর দুইস্তর পর্যন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ বা পদায়ন, অব্যাহতি, বরখাস্ত বা অপসারণ করার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে পরিচালক ও কর্মকর্তা হওয়ার জন্য যোগ্যতা ও উপযুক্ততা অর্জন করতে হবে। ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও পর্ষদের শৃংখলা নিশ্চিত করার জন্য এসব আইন করা হচ্ছে বলে আইনের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব কি হবে সে বিষয়ে খসড়া আইনে নতুন ধারা যোগ হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, পর্ষদের ভূমিকা- (১) ব্যাংক কোম্পানির নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও উহার পরিপালনের জন্য পরিচালনা পর্ষদ দায়বদ্ধ থাকবে। (২) প্রত্যেক ব্যাংক-কোম্পানি তার পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির সদস্য নন-এমন সদস্যদের সমন্বয়ে একটি অডিট কমিটি গঠন করবে। (৩) প্রত্যেক ব্যাংক-কোম্পানি তার পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করবে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা অন্যের সঙ্গে যৌথভাবে, কোন ব্যাংক-কোম্পানির উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধারক (৫ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি) হতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে বলে খসড়া আইনে বলা হয়েছে। এছাড়া সংশোধিত আইনের উল্লেখযোগ্য দিকের মধ্যে রয়েছে—প্রতারণামূলকভাবে ব্যাংক শব্দের অপব্যবহার রোধ করা; সমবায় সমিতি আইনকে সুরক্ষা দেয়া; ব্যাংকের আমানতের ঝুঁকি কমাতে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ ও ব্যাংক তদারকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা বৃদ্ধি প্রভৃতি। শেয়ার বিষয়ে খসড়া আইনে বলা হয়েছে, আইনের ২৬ (ক) ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যাংক কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে নিম্ন বর্ণিত পরিমাণের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না; যথা (ক) ধারণকৃত শেয়ার বাজারমূল্যের উক্ত ব্যাংক কোম্পানির আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি, রিটেইল আর্নিং-এর মোট পরিমাণের ৫ শতাংশ এবং (খ) উক্ত কোম্পানির আদায়কৃত মূলধনের ১০ শতাংশ। এদিকে খসড়া আইনে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতি তদারকি ও নজরদারী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়ছে। এ বিষয়ে বেশ কিছু নতুন নিয়ম খসড়ায় যোগ হয়েছে। খসড়া আইনে খেলাপী ঋণের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ ছয়মাস অনাদায়ী হলে সেটা খেলাপী বলে চিহ্নিত হবে। ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালার ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করলে শাস্তির বিধান করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারী ব্যাংক কোম্পানিকে অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা জরিমানা করবে এবং জরিমানার সময় পার হওয়ার পর তা আদায় না হলে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকেও জরিমানা করা হবে। আগে শুধু ব্যক্তিকে জরিমানা করা হতো। প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইনটি বেশ কিছু পর্যবেক্ষণসহ নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। গতকাল তা মন্ত্রিসভা তার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এরপর এ সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে যাওয়ার পর তা সংসদে উপস্থাপিত হবে। সংসদে পাস হলে এটি আইনে পরিণত হবে।