চট্টগ্রাম নগরী থেকে বাইশ’ কিলোমিটার উওরে নাগরিক কোলাহল মুক্ত দূর পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রামিবশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর অতীতের অনেক স্মৃতি হারিয়ে যায়। কিন্তু হারিয়ে যায় না বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী দিনগুলোর কথা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করার পর পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন স্মৃতি তার আনন্দ-বেদনায় ঘেরা কর্মকাণ্ড বিনোদন সাড়া দিয়েই যাবে। কত আড্ডা। হৈ-হুল্লোড় করা। রাত জেগে পড়াশোনা। রাতে ঘুমোতে গেলে ছাড়পোকার অত্যাচার তো বাড়তি পাওনা। রুমমেট অসুস্থ হলে নির্ঘুম রাত জেগে সেবা করা। সুখে-দুঃখে একসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী দিনগুলো কাটিয়ে দেয়া। হল জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে এভাবেই বলেছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে পাস করা উম্মে হাবিবা।
ঝুপড়ির আড্ডা ছিল সার্বজনীন। ক্যাম্পাসের চৈত্র সন্ধ্যা, শ্রাবণের রিমঝিম দুপুর, শরতের বিকাল, শীতের মধুর উজ্জ্বল সকাল সবই ঝুপড়ির আড্ডা নিরব ঘন্টা বাজিয়ে যায়। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে শিক্ষার্থীরা দেয় এখানে ম্যারাথন আড্ডা। এমন কোন বিষয় নেই যা এই আড্ডায় উঠে আসেনি। বলছিলেন ইতিহাস থেকে পাস করা মামুন আবেদিন।
শিক্ষা সংস্কৃতি খেলাধুলা থেকে শুরু করে পরিণয় বিচ্ছেদ সবই স্থান পায় এই আড্ডায়। এছাড়া ঝুপড়ির কোণায় বসে অল্প দামে চা-নাশতা খেতে কার না ভাল লাগে। এভাবেই অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছিলেন সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রী তানিয়া ফারাহ আলম। বিশ্ববিদ্যালয়ের হতাশার মোড়ের আড্ডার কথা কেউ কখনো ভুলতে পারবে না। শামসুন নাহার হলের ছাত্রী রাজিয়া বলেন, হল জীবনে এই ব্যস্ততার কথা কখনো ভুলতে পারবো না। শহীদ মিনারের সেই চত্বর মনে করিয়ে দেয় বিরামহীন আড্ডার কথা। হলের দাদুদের ভালবাসার কথা কখনো ভুলতে পারবো না। বলছিলেন খালেদা জিয়া হলের মাস্টার্সের ছাত্রী শান্তা।
ক্যাম্পাসের কোন বিষয়টি বেশি আকর্ষণ করে? নিঃসন্দেহে ঝুলন্ত সেতু। জোর দিয়েই বললেন খালেদা জিয়া হলের আইন বিভাগের ্্এম.এস.এস এর ছাত্রী নিশাত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা। পুরো ক্যাম্পাসের বিস্ময় উদ্ভিদ উদ্যান, শহীদ মিনার, জাদুঘর, প্রাকৃতিক ঝর্ণা মেয়েদের হলের সামনে ছেলেদের আড্ডা দেখতে খুব ভাল লাগে। এই নৈসর্গিক দিকটি এবং পরিবেশের নান্দনিক বৈশিষ্ট্য খুবই আকর্ষণীয়। আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের শহর থেকে আসার জন্য অন্যতম মাধ্যম রয়েছে শাটল ট্রেন। যা বাংলাদেশের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। পাহাড়ের ঢালের মত আঁকা-বাঁকা রাস্তা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সমারোহ এই বিশ্ববিদ্যালয়।
