ডেইরি গেট থেকে শহীদ মিনার অথবা প্রান্তিক কিংবা পুরাতন কলাভবন। সর্বত্রই ক্যাম্পাসের প্রাণ খুঁজে পাওয়া যায় একইভাবে। সেটা অবশ্যই আড্ডায়। কিন্তু সারা ক্যাম্পাস জুড়ে আড্ডা চললেও এর রয়েছে চরিত্রগত ও বৈচিত্র্যগত ব্যাপক ও ভীষণ পার্থক্য। শহীদ মিনার কিংবা টি.এস.সি যেভাবে গানে গানে মুখর হয়ে ওঠে, খালেদা ও প্রীতিলতা হলের সামনের আড্ডা ঠিক সেরকম নয়। সেখানকার ঘাস, কাঁঠালতলার খোশগল্প আর পিঠার দোকানজুড়ে যে প্রাণবন্ত শব্দমালা ওড়াউড়ি করে তার চেহারা-চরিত্র অন্য রকম। বিশ্ববিদ্যালয় এবং আড্ডার কথা মনে এলেই প্রথমে মনে পড়ে শহীদ মিনারের কথা। ছেলে-মেয়েরা বসে গল্প দিচ্ছে দিনের প্রায় যে কোন সময়ে শহীদ মিনারের এ দৃশ্য চোখে পড়বে। এ ব্যাপারে অনেকের কাছে প্রচলিত ধারণা হলো, শহীদ মিনার ক্যাম্পাস আড্ডার প্রাণকেন্দ্র। তবে এ কথা কোনোভাবেই মানতে নারাজ মীর মশাররফ হলের ছাত্র রবিউল ইসলাম। তার মতে, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আনন্দপূর্ণ স্থান হলো ক্যাফেটেরিয়া ও কেন্দ্রীয় মাঠ এলাকা। সুপারিতলায় বসে রবিউল ইসলামের কথাকে সমর্থন করল ওর বন্ধু সাগর, মাহী, চাঁদনী, নাহিয়ান, শিলা, সবুজ, সম্পা আর নয়ন। কে কতদূর অগ্রসর হলো, এসএমএসের জবাব পেল কিনা, কখন কারা ব্যর্থ হয়েছিল এসব আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে চলে সময়। সব মিলিয়ে এখানকার আড্ডায় আছে এক অদ্ভুত আকর্ষণ। ইচ্ছা করলেই নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারে না কেউ। ইংরেজি বিভাগের শ্রাবন্তি জানাল, একদিন বন্ধুদের সঙ্গে শহীদ মিনারে আড্ডা না দিলে মনের তৃপ্তি মেটে না।
শহীদ মিনারের মত খালেদা জিয়া ও প্রীতিলতা হলের সামনেও সরগরম থাকে। কিন্তু এখানে আড্ডার লাগামহীন ভাবটা সবসময় থাকে না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল ও সন্ধ্যার পরে এখানে এলে মনে হয় যেন আড্ডা বাজার। রং-বেরঙের পোশাকে প্রেমিক-প্রেমিকা ও বন্ধু-বান্ধবীদের আড্ডার আসর দেখতে ভারি মজা লাগে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মৌসুমি জানান, তাদের মজা করতে দেখে কখনো কখনো খারাপ লাগলেও একটু পরেই মনে পড়ে-‘আগুনের দিন শেষ হবে একদিন,ঝরনার সাথে গান হবে একদিন...।’ রঙের বৈচিত্র্য আড্ডার আরেক বর্ণিল ভুবন টিএসসি, ক্যাফেটেরিয়া ও মুক্তমঞ্চ। বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান নিয়ে সবসময় জমজমাট এরা। শুধু আড্ডাই নয়— গান-বাঁশি কোন কিছুতেই জুড়ি নেই এদের। থিয়েটার, জলসিঁড়ি, ধ্বনিসহ সামাজিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে আয়োজন করে থাকে নানা উত্সবের। ফলে চাইলেও নিজেকে দূরে রাখা যায় না এসব উত্সবের আনন্দ থেকে। আর ক্যাফেটেরিয়ার চারপাশের দৃশ্য দেখলে তো চোখ জুড়িয়ে আসে।
ক্যাম্পাসের প্রতিটি স্থান সুমধুর আড্ডার আসরে মাতানো। শিক্ষার্থীদের সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিকেলে আবার তাদের মন সতেজ হয়ে ওঠে। আর সে মন আরও বেশি খুঁজে পায় ডেইরি গেট, প্রান্তিক, কেন্দ্রীয় মাঠ প্রাঙ্গণে। বিকেলে বা সন্ধ্যায় এই জায়গাগুলোতে আড্ডা দেয়নি, ক্যাম্পাসে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীরা সবাই মেতে ওঠে প্রাণবন্ত হূদয়ের আহবানে সাড়া দিতে। এই ক্যাম্পাসে মালা গাঁথার অদ্ভুত এক আনন্দ আছে। যার সঙ্গে কোন কিছুরই আসলে তুলনা চলে না। আর তৈরি করে নতুন কোন সিঁড়ি। যেটা অপেক্ষা করে অনেক নতুন আর রঙিন পদক্ষেপের।
