বাঙালি জাতির ইতিহাস গৌরবে ভরপুর। নানান ভাষার, নানান জাতি-গোষ্ঠি বিভিন্ন সময় বাঙালি জাতির উপর আঘাত হেনেছে। মুছে দিতে চেষ্টা করেছে বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে। আর এসব জাতি, গোষ্ঠীকে সাহায্য করেছে তাদেরই এদেশিও কিছু দোসর। যারা বাংলাকে চায় না, বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু বাঙালি জাতি দমবার পাত্র নয়। শত ষড়যন্ত্র আর কু-মন্ত্রণা দিয়েও তাদের কেউ কখনো দমাতে পারেনি তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য থেকে। যেমন পারেনি ৫২-তে, পারেনি ৭১-রে।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে অংকন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে শাহপরাণ হল পর্যন্ত। প্রায় ২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কে বিশ্বের দীর্ঘতম পথচিত্র রোড পেইন্টিং। পথচিত্রটি অংকন করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এই অর্থের উত্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা। পথচিত্রে নকঁশার কাজটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রথমেই চোখে পড়বে ‘সংগ্রামের পথচলা’ লেখাটি। তারপর শান্তির প্রতীক পায়রার কতগুলো ছবি দিয়ে শুরু হয়েছে পথচিত্র। পথচিত্রের বাম পাশে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন রংয়ের বর্ণ ও মুক্তিযুদ্ধের চিত্র। আর ডান পাশে স্থান পেয়েছে ইতিহাসের সারাংশ।
সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, তোমরা সব কিছু করতে পার। তোমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় আল্পনা এঁকেছ। তোমরা ইচ্ছা করলে এরকম আরো একশটা আল্পনা আঁকতে পার। আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবকিছু আগে শুরু করি। তিনি আরো বলেন, নিজের উপর বিশ্বাস রাখো, আমরা তোমাদের বিশ্বাস করি। তোমরা সবকিছু করতে পারবে। বিচার এখনও শেষ হয়নি। জানি না সামনে কি হবে। তোমরা এখানে যারা আছ কেউ কেউ হয়তো থাকবে না। তারা কিন্তু হায়েনার মত তোমাদের পিছনে আছে, আমাদের পিছনে আছে। ভবিষতে যাই হবে হোক।
