মেধা বী র গ ল্প

‘পড়াশোনায় নিয়মিত ছিলাম’

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৩, ১৮:৫১
পরীক্ষা শুরু হলেই অসুস্থ হয়ে যেতো ছেলেটি। জীবনের কোন পরীক্ষা ভালভাবে দেয়া হয়নি। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষায় অসুুস্থতার কারণে পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্র পরীক্ষায় ৩০ মিনিটের মধ্যে খাতা দিয়ে বের হয়ে আসতে হয় তাকে। কিন্তু কেউ কি জানত-পরীক্ষায় ভয় পাওয়া অসুস্থ ছেলেটিই একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বিভাগে সবার সেরা হবে? তাই সম্ভব করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্র নাসিরউদ্দিন। ছোট বেলায় খেলাধুলার প্রতি প্রচণ্ড ঝোক থাকলেও স্কুলে বরাবরই প্রথম স্থান দখল করতেন তিনি। তবে জীবনের লক্ষ্য ঠিক না থাকায় পড়াশুনা নিয়ে তেমন কোন স্বপ্ন ছিল না। চাঁপঁইনবাবগঞ্জের রাধানগর এএনসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালে এসএসসি ও রাজশাহী বরেন্দ্র মহাবিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। কলেজে পড়ার সময় ভালো বিতর্ক করতেন। তার হাত ধরেই রাজশাহীর সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তাদের কলেজ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল। কলেজ জীবন শেষ করার পরে বিপাকে পড়তে হয় নাসিরকে। বাবা গ্রামের ডাক্তার হওয়ায় ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হওয়ার। স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি। পরে তাকে ভর্তি হতে হয় রাজশাহী বিশ্বদ্যািলয়ের রসায়ন বিভাগে। ২০০৭-০৮ শিক্ষা বর্ষে বিভাগে ভর্তি হয়ে প্রথম বর্ষেই তিনি যুক্ত হন একটি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানিতে। সাথে সাথে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় কাজ করলেও প্রথম বর্ষে যৌথভাবে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। ওই বর্ষে সর্বোচ্চ ৩.৪৭ থাকলেও তিনি পেয়েছিলেন ৩.৩৯। দ্বিতীয় বর্ষে বিভাগে প্রথম হওয়ার জেদ চাপে মাথায়। প্রথম হয়েও যান তিনি। এবার তিনি পেয়ে যান ৩.৮৩। সব মিলে দুই বর্ষে প্রথম হয়ে যান তিনি। পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চতুর্থ বর্ষে ৩.৯৬ পেয়ে বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন নাসির। নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষকরা আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। সঠিক সময় সঠিক দিক-নির্দেশনা ও তাদের ভালোবাসা আমাকে বিভাগে প্রথম করতে তাড়িত করত। প্রথম বর্ষ থেকে ক্লাস প্রতিনিধি থাকার সুবাদে সব শিক্ষকের সাথে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলতাম।’ তবে তিনি এখন স্বপ্ন দেখেন রসায়নের সাথে থেকে দেশে ও দেশের বাইরে গবেষণামূলক কাজ করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে সেই স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার পথ সোজা হবে বলেই তিনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার চিন্তা করছেন।