১৮ দিনের ব্যবধানে মংলা বন্দরে ডুবে যাওয়া দু’টি কার্গো জাহাজের কোনটিকেই এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে সুন্দরবনের প্রবেশমুখে ডুবে যাওয়া সিমেন্টবাহী কার্গোর কারণে বনের অভ্যন্তরে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ডুবন্ত কার্গোর জ্বালানি তেলের ভাসমান আস্তরণে ইতিমধ্যে ওই এলাকার নদীর পানি দূষিত হয়ে জলজ প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন বিভাগ এ কারণে ওই কার্গোর বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করেছে।
জানা গেছে, মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংলগ্ন সুন্দরবনের শেলা নদীর জয়মনি এলাকায় ১১ হাজার ব্যাগ সিমেন্ট নিয়ে ডুবে গেছে এমভি মোতাহার হোসেন নামের একটি কার্গো জাহাজ। ১৪ মার্চ সকাল পৌনে ১০টায় মংলা-ঢাকা নৌ রুটের মুখেই ডুবে যায় এ কার্গো জাহাজটি। এ কার্গো ডুবির ঘটনায় মংলা-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ নৌ রুটে লাইটারেজ জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এদিকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হারবাড়িয়া এলাকায় ক্লিংকার বোঝাই মোকসুদপুর-২ নামের অপর একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যায়। এ ঘটনায় ওই জাহাজের ২ নাবিকের মৃত্যু হয়।
ডুবন্ত কার্গো মোতাহার হোসেনের মালিক মোঃ শাহ আলম জানান, কার্গো ডুবির পর পরই স্থানীয় ডুবুরিদের মাধ্যমে কার্গোটিকে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু বন বিভাগ মামলার দোহাই দিয়ে তা উদ্ধারে বাধা সৃস্টি করে। এতে করে ডুবন্ত কার্গোটিকে নদী থেকে অপসারণ করা যাচ্ছে না। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার এনামুল হক জানিয়েছেন, মোকসুদপুর-২ নামের কার্গোটিকে নদী থেকে উদ্ধারে ২ মাসের সময় দেয়া হয়েছে মালিকপক্ষকে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম মাস্টার জানান, মংলা থেকে ঢাকা ও বরিশালসহ অন্যান্য স্থানের সাথে নৌ যোগাযোগের একমাত্র প্রধান এই চ্যানেলে আড়াআড়িভাবে কার্গো জাহাজটি ডুবে যাওয়ায় ওই চ্যানেল দিয়ে নৌ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন জানান, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ডুবে যাওয়া সিমেন্টবাহী কার্গোর কারণে বনের অভ্যন্তরে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
