স্মৃতির জানালায় বইয়ের পাতা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৩, ২১:২৪
‘বই পড়ার বাল্যস্মৃতি’ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক বিপ্রদাশ বড়ুয়া বলেছেন, বাড়ির কাছের নদী, অরণ্য আর প্রকৃতি আমার জ্ঞানের জগেক আরো উন্মুক্ত করেছে। তিনি বলেন, ছেলেবেলায় শুধুমাত্র বই পড়েই আমরা জ্ঞানের জগেক সমৃদ্ধ করেছি। তখন তো টেলিভিশন, ইন্টারনেট বলতে কিছুই ছিল না। তাছাড়া বই-পুস্তকও ততটা সহজলভ্য ছিল না। মঙ্গলবার বিকেলে শিশু একাডেমীর বইমেলার তৃতীয় দিনে শহীদ মতিউর মঞ্চে নির্ধারিত আলোচনার বিষয়ে আলোচনা করতে এসে শিশুদের উদ্দেশে নিজের বই পড়ার বাল্যস্মৃতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ১০ দিনব্যাপী বইমেলার আয়োজন করেছে। অন্যান্য দিনের মতো মেলার প্রবেশদ্বার খুলেছে বিকেল ৩টায়। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও এসেছেন মেলায়। মেলা মঞ্চের অনুষ্ঠান উপভোগের পাশাপাশি তারা বইও কিনেছেন। বিকেলে কবি বেলাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে কবি ও ছড়াকারদের অংশগ্রহণে শুরু হয় ছড়া-কবিতা পাঠের আসর। সুজন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন নাসির আহমেদ, আখতার হুসেন, কাজী রোজী, নাসের মাহমুদ, সিরাজুল ফরিদ, আহসান মালেক, রবীন্দ্র গোপ, খালেক বিন জয়েনউদদীন, বিমল গুহ, ফয়সাল শাহ, মুস্তাফা মাসুদ, সুজন বড়ুয়া, আশরাফুল আলম পিন্টু, আইরিন নিয়াজী মান্না এবং আমিনুর রহমান সুলতান প্রমুখ। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় অনুসন্ধিত্সু চক্রের আয়োজনে টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ পর্যবেক্ষণে অংশ নেয় শিশুরা। এরপর মেলা মঞ্চে যথারীতি আমন্ত্রিত শিশু সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। আজ ২০ মার্চ মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায়। মেলার মুক্তমঞ্চে নির্ধারিত আলোচনার বিষয় ‘কথার কলকব্জা’ নিয়ে কথা বলবেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার। আরো উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশনের আয়োজনে ঘুড়ি তৈরি বিষয়ক কর্মশালা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। মেলায় অর্ধশতাধিক প্রকাশনা সংস্থার শিশুতোষ গ্রন্থের পাশাপাশি অন্যান্য সৃজনশীল ও মননশীল বই প্রদর্শন এবং বিপণনের ব্যবস্থা রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে একটি লেখকছাউনি। এছাড়া আরো থাকছে মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক, কবির বকুল প্রমুখ প্রিয় লেখকের সান্নিধ্য। আকাশ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, রঙিন ঘুড়ি ও রঙিন ফানুস তৈরির কর্মশালা এবং বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিশু সংগঠনের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও রয়েছে।