আরপিও সংশোধন চূড়ান্ত পর্যায়ে

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৩, ২১:২৪
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের কাজ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দু’-একদিনের মধ্যে তা ভেটিংয়ের জন্য তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ গতকাল দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান। এসময় তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত আরপিওয়ের চূড়ান্ত মুদ্রণের কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত আরপিওতে কোন ঋণখেলাপীর গ্যারান্টারকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করার বিধান করা হয়েছে। আগে শুধুমাত্র ঋণখেলাপী ব্যক্তিগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত ছিল।’ তিনি বলেন, এতে যেকোন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন দল যাকে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করবে সেটি ছাড়া অন্য প্রার্থী মনোনয়ন আপনা-আপনি প্রত্যাহার বলে বিবেচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। কেননা এ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য যে ইভিএম এবং তা ব্যবহারের জন্য জনবলের প্রয়োজন তা কমিশনের নেই। শাহনেওয়াজ বলেন, তবে নির্বাচনে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারকে উত্সাহিত করার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জাতীয় নির্বাচনে যাতে ইভিএম ব্যবহার করা যায় তার বিধান রাখার জন্য সংশোধিত আরপিওতে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আরপিওতে রিটার্নিং কর্মকর্তাও যাতে কোন কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত, কোন কেন্দ্র বাতিল করতে পারে তার ব্যবস্থা রাখার বিধান করা হয়েছে। আগের আরপিও অনুযায়ী শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার কোন কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত ও কোন কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করতে পারত। সময়ের প্রয়োজনে এবং বাস্তবতার প্রেক্ষিতে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের খরচ ১৫ লাখ টাকার পরিবর্তে ২৫ লাখ টাকা এবং জামানতের পরিমাণ দশ হাজার টাকার পরিবর্তে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যে কোন সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচন কমিশনের সাথে পরামর্শ করে বদলী করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনের স্বার্থে যে কোন বদলী যেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করা হয় তার বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য প্যানেলভুক্ত কোন কর্মকর্তা-কর্মচারিকে বদলী করা হলে যেন কমিশনের পূর্বানুমতি নেয়া হয় সে ব্যাপারেও প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে ডোনেশন দেয়ার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে।