এর একটা বিহিত হওয়া দরকার

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৭
চির চেনা দেশটা কেমন যেন অচেনা মনে হয়। যুদ্ধকালীন সময়ে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, কে নিঙ্কলঙ্ক এবং কে সত্যি অপরাধী—এইসব বিষয় কেবলই তদন্তের দাবি রাখে। তবে এদেশের দীর্ঘ সময়ের অমীমাংসিত বিষয় এটি। দেশের গতরে এ যেন এক মস্ত বিষফোঁড়া। কে ফাঁসির দড়িতে ঝুলবে আর কে ঝুলবে না—এ বিষয়ে মোটেও আলোচনায় যেতে চাই না। দীর্ঘদিনের এ সমস্যার একটা বিহিত হওয়া দরকার বলে মনে করি। তা না হলে ফ্যাসাদ দিনদিন বাড়বেই। আইন যাতে তার নিজস্ব পথেই চলতে পারে, তা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের পক্ষে জরুরি। আমাদের বিরোধীদল এবং সরকারকে এটা অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে। গণতন্ত্র আরও একটি বিষয় দাবি করে। তা এই যে আইনের শাসন যে সত্যিই ক্রিয়াশীল তা জনসমক্ষে দৃশ্যমান হওয়াও জরুরি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের বিরোধীদলকেও আকারে ইঙ্গিতে দ্বিমত করতে দেখা গেছে। সঠিক নয় তা বলছি না; এ বিচার প্রক্রিয়ার গতিপথ যে পরিষ্কার তা বুঝিয়ে দেবার দায়িত্ব কিন্তু সরকারের। আমাদের রাজনীতির প্রাঙ্গণটি কর্দমাক্ত। সামপ্রতিককালে এতে ক্লেদ জমেছে ভাবলে সঙ্গত হবে না। তবে সভ্যতার বিভিন্ন পর্বে, গণতন্ত্রের বিভিন্ন পর্যায়ে রাজনীতি এবং অপরাধের ভেতর যোগাযোগ নানাবিধ মাত্রা পেয়েছে। সেই মাত্রায় সামপ্রতিক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বিচার বানচালের লড়াই নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশের আমজনতা চায় এর একটা বিহিত হোক। জানমাল অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। বলতেই হয় দেশ এক কঠিন সময় পার করছে। দেশ জুড়ে যা হচ্ছে তাতে ভয় হচ্ছে—গুম হওয়ার ভয়, খুন হওয়ার ভয়, দাঙ্গা-হাঙ্গামার ভয়, বোমাবাজির ভয়, হরতালের ভয়, দেউলিয়াত্বের ভয়, সর্বোপরি টিকে থাকার ভয়। ক’মাস আগেও এমন ভয় ছিল না মনে। দেশে সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিবেশ দীর্ঘায়িত হলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে। শিল্প কারখানায় উত্তেজনা বাড়বে ও উত্পাদন কমবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের বিপুল ক্ষতি হবে। মানুষের স্বাভাবিক নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত ভূলুণ্ঠিত হবে। অপশাসনের সুযোগ অবারিত ও উন্মুক্ত হবে। রাস্তাঘাটে যানবাহন ভাংচুর, আগুন, সাধারণ পথচারীকে হয়রানি ও লাঞ্ছিত করা গণতান্ত্রিক আচরণভুক্ত নয়। পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের অন্যতম গুণ। রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনীতির জন্য সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। এ অবস্থা কোনোভাবেই চলতে পারে না। চলতে দেওয়া উচিত নয়। আমরা আশা করবো যে, রাজনীতিবিদদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। অর্থনীতির ক্ষতি হয়, এমন কাজ থেকে তাঁরা বিরত থাকবেন। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেজন্য অন্তর্ঘাতমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে কিংবা চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে অর্থনীতির ক্ষতি করা কিংবা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো উচিত নয়। হরতালে জনগণ সাড়া দেয় না। রাজনীতি যাঁরা করেন, যে পথ বা মতেরই তাঁরা অনুসারী হোন, সবাইকে মনে রাখতে হবে, দেশ বাঁচলেই সবাই বাঁচবে। ঢাকা