ঝড়ের পর তিন দিন পার হয়ে গেলেও বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় ২৫ টি গ্রামের মানুষ। বিদ্যুত্ না আসায় বিশাল অঞ্চলের তিন সহস্রাধিক গ্রাহক চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। গত রবিবার বিকেলে আকস্মিক দমকা ঝড়ো হাওয়ায় পর এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির ডুমুরিয়া জোনাল অফিস সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, গত রবিবার বিকেলে হঠাত্ পশ্চিম দিক থেকে দমকা হাওয়া এবং বৃষ্টি শুরু হয়। এতে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৫০ কিলোমিটার লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় উপজেলার পেড়ীখালী, উলা, নোয়াকাঠি, সাহস, জাবড়া, কাঞ্চন নগর, আটলিয়া, মাগুরাঘোনা, মাগুরখালী ও ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের বয়ারশিং, কাটাবুনিয়া, আধার মানিক, গেলাবদাহ, চেংমারী, শিবনগর, চন্ডিপুর, কৈপুকুরিয়াসহ প্রায় ২৫টি গ্রাম। ঝড়ের ফলে মাগুরখালীতে ৭টি, ভান্ডারপাড়ায় ৩টি ও আটলিয়াতে ৩টিসহ মোট ১৩টি পিলার ভেঙে যায়।
পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির ডুমুরিয়া জোনাল অফিসের নির্মাণ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা মিসেস সোনিয়া আফরিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়। বরাদ্দ পেয়ে সোমবার থেকে জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার (গতকাল) সন্ধ্যার মধ্যে এলাকাগুলোতে বিদ্যুত্ ছেড়ে দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। জনবল কম থাকায় নির্মাণ কাজে একটু দেরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পেড়ীখালী গ্রামের গ্রাহক বিদিশা বাছাড় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য দমকা হাওয়াতেই যদি বিদ্যুতের এই অবস্থা হয়, তবে বড় আকারের ঝড় হলে কতদিন অন্ধকারে থাকতে হবে কে জানে!
