ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গাড়ি বোমা ও আত্মঘাতী বোমা হামলায় অর্ধশতাধিক নিহত এবং ১৬০ জন আহত হয়েছে। বাগদাদের শিয়া অধুষিত অঞ্চল ছাড়াও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার ছিল ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার ১০ বছর পূর্তির দিন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
আল কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুন্নি মুসলিম জঙ্গিরা এ বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকি সরকারকে দুর্বল করার জন্য জাতিগত উত্তেজনা উস্কে দিতে শিয়া ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান লক্ষ্য করে বোমা হামলা জোরদার করে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার সকালে সমন্বিতভাবে বাজার, রেস্তোরাঁ, বাস স্টেশন এবং শ্রমিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। গত ছয় মাসের মধ্যে গতকালই সবচেয়ে বেশি লোক নিহত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় মাস্তাল জেলায় একটি রেস্তোরাঁর বাইরে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটলে চারজন নিহত এবং অনেক গাড়ি ভস্মীভূত হয়। এর কয়েক মিনিট পর রাস্তায় পুঁতে রাখা বোমায় দুই শ্রমিক নিহত হন। একই ধরনের হামলায় সদর সিটির বিভিন্ন স্থানে ১০ জন, শ্রম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৭ জন, নিরাপত্তা বেষ্টিত গ্রিন জোন এলাকায় ৬ জন, তাজি শহরে ২ জন, ইস্কান্দারিয়ার বাস স্টেশনে ৫ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া শিয়া অধ্যুষিত হুসাইনিয়া, জাফারেনিয়া, শুলা এবং উতাইফিয়ায় গাড়ি বোমা ও আত্মঘাতী হামলায় বাকিরা নিহত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাগদাদ জুড়ে কমপক্ষে ১৫টি গাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়েছে। ২০০৩ সালের ২০ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগে হামলা চালায়। ওই হামলার প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এখন বলা হচ্ছে, যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ করা হয়েছিল তা ভুল ছিল।
