গতকাল মঙ্গলবার সকালে গোপালপুর পৌরশহরে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী মিছিলে বিএনপি কর্মীদের হামলায় উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং ঢাকা কলেজের বাংলা অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ইমরান হোসেন (২৪) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা পৌরশহরে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে লাঠিচার্জ এবং টিয়ার সেল নিক্ষেপ করতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীরা দলীয় অফিস থেকে হরতাল বিরোধী মিছিল নিয়ে তামাকপট্টি এলাকায় গেলে বিএনপি কর্মীরা হামলা চালায়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে ইমরান হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের চার কর্মী আহত হয়। গুরুতর আহত ইমরানকে প্রথমে গোপালপুর হাসপাতাল এবং পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গোপালপুর গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ইমরানের নিহতের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কয়েক হাজার উত্তেজিত দলীয় কর্মী সমর্থক রাস্তায় নেমে আসে। উত্তেজিত কর্মীরা প্রথমে বিএনপি অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর এবং আসবাবপত্র রাস্তায় জড়ো করে আগুন দেয়। তারা ৮/১০টি দোকান ভাংচুর এবং দুটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে সাংবাদিক কে এম মিঠুর মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। তামাকপট্টি ও কাজীবাড়ি মহল্লায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ১০/১২টি বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ছাত্রদল ও বিএনপির পাঁচ কর্মীকে আটক করে। ইমরানের গ্রামের বাড়ি ঝাওয়াইল ইউনিয়নের মোহাইল গ্রামে।
গতকাল ইমরানের লাশ ময়না তদন্ত শেষে পৌরশহরের চরপাড়া মহল্লার বাসায় নেয়া হলে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাবা একামত আলী শোকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। মা হোসনে আরা বেগম বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
