বিএনপি-জামায়াত জোট প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার, গুজব ও তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন। আমরা তো চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। তাহলে ক্ষমতায় গিয়ে তিনি কাদের বিচার করবেন?’
গতকাল মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রাখেন, গোলাম আযম, কাদের মোল্লা, আব্দুল আলীম, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এরা কি যুদ্ধাপরাধী নন? এরা যদি প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী না হন তাহলে যুদ্ধাপরাধী কারা?
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফেইসবুক, টুইটার, ব্লগ যারা ব্যবহার করেন তারা কি নাস্তিক? তারা কি নষ্ট?
তিনি খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, এ সব বিষয়ে আপনার কাছ থেকে আমরা সত্য ভাষণ চাই। আপনি ‘প্রকৃত’ যুদ্ধাপরাধী ও নাস্তিকদের তালিকা প্রকাশ করুন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আসলে বেগম জিয়া এখন ঘোমটা ফেলে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। হরতাল দিচ্ছেন। ক্ষমতায় গিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার যে কথা তিনি বলেছেন- তা প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়।
বিরোধী দলীয় নেত্রী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম ও আদালতের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু এটা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয় মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি আন্তর্জাতিক মানসম্মত ট্রাইব্যুনাল যাতে মানবাধিকারের সাথে সম্পৃক্ত সকল অধিকার সমুন্নত রাখা হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে আত্মপক্ষ সমর্থনের অবারিত সুযোগ রাখা হয়েছে এবং আপিলের বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে যা মানবাধিকার সমুন্নত রাখার যে কোন মানদণ্ডে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এর বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নাতীত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতির উপরে প্রতিষ্ঠিত যা সারা বিশ্বে স্বীকৃত হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস বিকৃত করা খালেদা জিয়ার একটি হবি (শখ)। উনি ইতিহাসে বিশ্বাস করেন না। আসলে মুক্তিযুদ্ধের সাথে কোনভাবেই তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাফের, নাস্তিক, ইসলামবিরোধী বলে প্রচার করত। এ প্রচার তার মনের গভীরে প্রোথিত হয়ে আছে। ফলে আজ জামায়াত-শিবির শহীদ মিনার ভাঙ্গলে তিনি বিচলিত হন না, উল্লসিত হন।
বিএনপি-জামায়াত জোটের অপপ্রচারের হাত থেকে আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলামও রেহাই পায়নি মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফটোশপে ছবি বিকৃতি, ছবির ভুয়া ক্যাপশন সংযুক্তি, বিভ্রান্তিকর স্ট্যাটাস দিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও ওয়েব সাইটে ধর্মান্ধদের উস্কে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। মিথ্যা প্রচার চালিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। প্রিয় ধর্ম ইসলাম এবং প্রিয় নবীকে (সা.) নিয়ে যারা কটূক্তি করবে তাদের কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, নবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তিকারীদের সনাক্ত করতে এবং তাদের শাস্তির আওতায় আনতে ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শিগগিরই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাওলানা শফী সাহেব অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষ। তারতো প্রশ্ন রাখার কথা, যে ইমাম মসজিদের মাইকে কিংবা যারা বিভিন্নভাবে চাঁদে সাঈদীর ছবি দেখা গেছে বলে প্রচার চালিয়ে, ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে সারা দেশে সহিংসতা ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে তারা সত্যিকারের মুসলমান কিনা?
বিএনপির ভিতরেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অনেক নেতাকর্মী আছেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করব, আপনারা সক্রিয় হবেন এবং আপনাদের নেত্রীকে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা চালাবেন। প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে ত্যাগ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন। সমপ্রতি পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডারদের সংঘর্ষে নিহতদের ব্যাপারে খালেদা জিয়ার গণহত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আসলে এ কথা বলে তিনি ৭১’র গণহত্যাকেই খাটো করেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের সাথে জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডারদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন বহির্ভূত কোন কিছুই হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। জামায়াত নিষিদ্ধ করা ও অপপ্রচারকারী গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আইন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
