আশুগঞ্জ দিয়ে ১০ হাজার টন পণ্য পরিবহনের সুবিধা পেল ভারত

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৩, ২২:২৯
খাদ্যশস্য পরিবহনে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পেল ভারত। দশ হাজার টন ভারতীয় খাদ্যশস্য ট্রান্সশিপমেন্টের কর্মসূচি প্রণয়নের জন্যে নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। নৌ সচিবের কাছে সমপ্রতি এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, ওই নির্দেশনার আলোকে ট্রান্সশিপমেন্ট কর্মসূচি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়টি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী থেকে এ খাদ্যশস্য আসবে। ‘কলকাতা-শেখবাড়িয়া-চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ-আশুগঞ্জ-আখাউড়া-আগরতলা’- এই রুটটি ব্যবহার করে খাদ্যশস্য পরিবহন করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত খাদ্যশস্য আসবে নৌপথে, তারপর আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার তা সড়কপথে পরিবহন করা হবে। এর আগে বিশেষ অনুমতি নিয়ে ২০১১ সালে আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করে ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি নেয়া হয়েছিল। নৌ সচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ট্রান্সশিপমেন্ট কর্মসূচি প্রণয়নের কথা বলা হচ্ছে। চিঠিতে, ১০ হাজার টন ভারতীয় খাদ্যশস্য ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য দুই থেকে তিন মাস অথবা প্রতি মাসে তিন হাজার টন করে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সেলের পরিচালক মো. শওকত আকবর। কর্মসূচি প্রণয়নের বিষয়টি ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকেও অবহিত করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ভারত মানবিক কারণ দেখিয়ে ১০ হাজার টন খাদ্যশস্য পরিবহনের জন্যে একটি আবেদন জানিয়েছিল। গত ২৩ জানুয়ারির ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই ট্রান্সশিপমেন্ট কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন থেকে সরকারকে লেখা ওই চিঠিতে মানবিক কারণ দেখিয়ে আশুগঞ্জ নৌবন্দর হয়ে সড়কপথে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আগরতলা সীমান্তে ১০ হাজার টন খাদ্যশস্য বহনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এ পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহারের জন্য মাশুল কিংবা ব্যাংক গ্যারান্টি না দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয় ওই চিঠিতে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌ মন্ত্রণালয়, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সেলে পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক অনাপত্তি পত্র প্রদান করে। সেখানে বলা হয়, ‘সংশ্লি¬ষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের আপত্তি না থাকলে মানবিক কারণে বিবেচ্য দশ হাজার টন খাদ্যশস্য ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে পরিবহনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আপত্তি নেই।’ তবে নৌ মন্ত্রণালয় ১৭ ফেব্রুয়ারি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা সেলকে জানিয়েছিল, ‘কোলকাতা-আশুগঞ্জ নৌপথে সারাবছর নাব্যতা বজায় থাকলেও আশুগঞ্জ বন্দরে পণ্য ওঠানামার জন্য অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’ এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ নৌ মন্ত্রণালয়কে জানায়, আশুগঞ্জ বন্দরে পণ্য ওঠানামার জন্য অবকাঠামোগত সুবিধাদি নেই। এদিকে, ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট চার্জ বা ফি আদায়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতামত চাওয়া হয়েছে। এনবিআরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, প্রচলিত শুল্ক কর আইনের আওতায় চার্জ ফি আদায় করলে তা শুল্ককর বলে বিবেচিত হবে কিনা। বাংলাদেশ ও ভারতের জাহাজের চার্জ ফি অভিন্ন থাকবে না পৃথক হবে। তবে ট্রানজিট ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্যের শুল্ক কর ফাঁকি রোধে ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখতে চায় সরকার। ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান করতেও এসআরও জারি করতে হবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। এ সংক্রান্ত এসআরও খসড়া জারির আগে অর্থমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হবে। আশুগঞ্জ থেকে পণ্য চালান ট্রান্সশিপমেন্ট করার সময় শুল্ক বিভাগ এবং বিআইডব্লি¬উটিএ’র কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আশুগঞ্জ ও আখাউড়ায় লিড সিল অরক্ষিত না থাকলে বা পণ্যে গরমিল থাকলে প্রচলিত কাস্টমস অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে শুল্ক কর্তৃপক্ষ।