আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া এখন প্রকাশ্যে একাত্তরের ঘাতকদের পক্ষে বর্বরোচিত যুদ্ধ শুরু করছেন। দেশে দুঃশাসন ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি যে রক্তপাত চেয়েছেন তার বাস্তবায়ন এখন শুরু হয়ে গেছে। খালেদা জিয়ার হুমকির বাস্তবায়ন হিসেবে হরতালের নামে সারা দেশে তাণ্ডবলীলা চলছে। ইতিমধ্যে টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগ নেতাকে তারা হত্যা করেছে, তাদের পেট্রোল হামলায় তিনজন ডাক্তার আহত হয়েছেন। খালেদা জিয়ার নির্দেশে চলমান তাণ্ডবে কোরআন শরীফও অক্ষত থাকছে না। মূলত বিএনপির রাজনীতি মানসিক ভারসাম্যহীন, বেসামাল ও সন্ত্রাসী আচরণ। ওরা সংলাপ নয়, সংঘাতের পক্ষে। তবে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক যে কোন লড়াইয়ে প্রস্তুত রয়েছে ১৪ দল। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আরো কঠোর থেকে কঠোরতর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা, নৈরাজ্য ও হুমকি-ধামকিতে ১৪ দল ভীত বা শঙ্কিত নয়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ১৪ দলের পক্ষে এসব কথা বলেন। বৈঠকে চলমান সহিংসতায় বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসমূহে ধারাবাহিক জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেয় ১৪ দল। ইসলামের প্রতি বেগম জিয়া, বিএনপি-জামায়াতের অনুরাগ কতটা তা প্রমাণ হয়ে গেছে উল্লেখ করে নাসিম বলেন, তাদের তাণ্ডবে আজ পবিত্র কোরআন শরীফ পর্যন্ত অক্ষত থাকছে না। তারা মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে এতে কোরআন শরীফ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। খালেদা জিয়ার নির্দেশে মন্দিরে হামলা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, খালেদা নিজেই ইন্ধন দিয়ে মন্দিরে হামলা করিয়েছেন, এখন আবার সে সকল এলাকায় পরিদর্শনে যাচ্ছেন। এর চেয়ে রাজনৈতিক শঠতা ও তামাশা আর কিছু হতে পারে না।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১৪ দল জনসভা করবে। আজ বুধবার সাতক্ষীরায় ১৪ দলের জনসভায় নেতৃত্ব দেবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। আগামী ৩০ মার্চ বগুড়ায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের জনসভা। এছাড়া চট্টগ্রাম, গাইবান্দা, নোয়াখালীতে জনসভা করবে ১৪ দল। এসব জনসভা এ মাসের মধ্যেই করা হবে বলে তিনি জানান।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণআজাদী লীগের সভাপতি হাজী আব্দুস সামাদ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরিন আখতার, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম প্রমুখ।
