সম্প্রতি একটি জরিপে ২০১২ সালের সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী সংগীতশিল্পী হিসেবে উঠে এসেছে ম্যাডোনার নাম। ৩৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে গত বছরটা পার করেছেন তিনি। মূলত ওয়ার্ল্ড ট্যুর আর লাইভ পারফর্মেন্সগুলোই তার এ বিপুল আয়ের উত্স। সম্প্রতি ৪০ জন শীর্ষ উপার্জনকারীর একটি তালিকা প্রকাশ করে বিলবোর্ড ম্যাগাজিন। সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো স্থান করে নেন এ শিল্পী। গত বছর ৮৮ দিনের ওয়ার্ল্ড ট্যুরে ম্যাডোনা আয় করেন ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটা তার ২০১২ সালের মোট আয়ের ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১২ সালের সবচেয়ে আলোচিত মিউজিক ট্যুর ছিল এটি। তার ঠিক পরপরই, ৩৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে মিউজিকবিষয়ক ম্যাগাজিনটির তালিকায় ম্যাডোনার পরই স্থান পেয়েছেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন। তারও আয়ের একটি অংশ এসেছে ট্যুর থেকে। এ ছাড়া তালিকার বাকিদের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে গান নিয়ে ঘুরে বেড়ানোটাই ছিল আয়ের মূল রহস্য। তাই বিলবোর্ডের সম্পাদকীয় বিশ্লেষক গ্লেন পিপলস তালিকার ব্যাখ্যায় লিখেছেন, ‘অর্থ উপার্জনের তালিকা করার সময় দেখা গেছে, অধিকাংশ অর্থই এসেছে বড় বাজেটের লাইভ পারফর্মেন্সগুলো থেকে।’
এখানেই শেষ নয়। রাশিয়াতেও সর্বাধিক অ্যালবাম বিক্রিত গায়িকার খেতাব কুড়িয়েছেন পপকুইন ম্যাডোনা। তার ‘এমডিএনএ’ অ্যালবামটি বর্তমানে সেখানকার টপচার্টে শীর্ষে রয়েছে। আর এ অর্জনকে ক্যারিয়ারের জন্য সৌভাগ্য হিসেবেই ধরে নিয়েছেন ম্যাডোনা। ২০১২ সালে ম্যাডোনার ১২তম স্টুডিও অ্যালবাম ‘এমডিএনএ’ প্রকাশিত হয়। রাশিয়ান অ্যালবাম চার্টের ডিসেম্বরের শুরুতেই শীর্ষে এর নাম উঠে আসে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। গত এক বছরে দেশটিতে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ‘এমডিএনএ’র কপি বিক্রি হয়েছে। গত আগস্টে রাশিয়ায় ‘এমডিএনএ’ ট্যুর করার পর থেকেই ম্যাডোনা ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত হন। অবৈধভাবে সমকামীদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১০ মিলিয়ন ডলারের মামলাও ঠুকে দেওয়া হয়। এ ছাড়া রাশিয়ার নারীবাদী পাঙ্ক-রক ব্যান্ড পুশি রায়টের সদস্যদের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন এ পপগায়িকা। এরপরই তাকে নিয়ে রাশিয়ান মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সেই সুবাদেই সেখানকার সংগীতপ্রেমীরা তার অ্যালবামটি লুফে নিয়েছে।
জেনে নিই ম্যাডোনার সম্পর্কে কিছু কথা
ম্যাডোনা লুইজ চিকোন আমেরিকার একজন খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পী। তিনি অনেকগুলো হিট গানের জন্য বিখ্যাত হয়েছেন। ম্যাডোনা সংগীত জগতের পাশাপাশি একজন ফ্যাশন ডিজাইনারও। পপ সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা সুযোগ পেলেই গানের পাশাপাশি অন্য কিছু করার চেষ্টা করেন। খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান আইকনিক্স ব্র্যান্ড গ্রুপের সঙ্গে মিলে তিনি বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন ব্র্যান্ড চালু করেছেন। তিনি একজন ছবির পরিচালকও। পপতারকা ম্যাডোনা তার দ্বিতীয় ছবি পরিচালনা করতে যাচ্ছেন। ছবির নাম ‘ডব্লিউই’। ব্রিটেনের রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের বহুল আলোচিত প্রেমকাহিনী নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করা হবে। এর আগে ২০০৮ সালে ‘ফিলদ অ্যান্ড উইসডম’ ছবি পরিচালনা করেন তিনি।
