হলিউড

ফিরে এল ওজের ডাইনি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৩, ২০:০৮
১৯০৫ সাল, কানসাস। সার্কাস তখন খুব জনপ্রিয় খেলা সবার কাছে। অসকার ডিগস নামের এক তরুণ জাদুকর সেখানে তার জাদুর খেলা দেখাত। পার্ট টাইম হিসেবে কাজ করলেও তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন সবার কাছে। ভ্রাম্যমান এই সার্কাস দলের সাথে অবশ্য তার তেমন বনিবনা হতো না। অনেকেই তার সাফল্যকে ইর্ষার চোখে দেখত। এসব নিয়েই চলছিল তার জীবন। ঘটনাক্রমে ডিগজ জানতে পারেন যে তাকে খুন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জানার পর তিনি পালানোর প্রস্তুতি নেন। এরই মধ্যে হঠাত্ আঘাত হানে প্রকাণ্ড ঝড়। ডিগস গ্যাস বেলুনে চরে পালানোর চেষ্টা করেন এ সময়। ঝড়ের কবলে পড়েন তিনি। ঝড় তাকে নিয়ে যায় মজার এক দেশে। ওজ গল্পের সেই নগরী। সেখানে গিয়ে পরিচয় হয় ওজের জাদুকর থিয়োডোরার সাথে। ডিগসকে দেখেই থিয়োডোরা বুঝতে পারে যে সেই পারবে তাদেরকে ওজের ডাইনির হাত থেকে রক্ষা করতে। ডিগসকে সে কথা জানান থিয়োডোরা। প্রথমে ডিগস সায় না দিলেও পরে তাদের অবস্থা দেখে রাজি হয়। এর মধ্যে দিয়ে থিয়োডোরার বোনের সাথে পরিচয় হয় ডিগসের। জঙ্গলে যায় তারা ডাইনিকে খুঁজে বের করতে। ডাইনি ছদ্মবেশ ধারণ করে এসে তাদের মধ্যে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। একসময় তাদের ধারণা হয়, থিয়োডোরার বোনই বুঝি আসল ডাইনি। এসব অদ্ভুত সব ঘটনার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে সিনেমার গল্প। একসময় তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়। তারা সত্যিকারের ডাইনিকে খুঁজে পায়। সিনেমাটিতে জেমস ফ্র্যাঙ্কো অভিনয় করেছেন ডিগস নামের সেই জাদুকরের চরিত্রে। আর মিলা কুনিস অভিনয় করেছেন খিয়োডোরার চরিত্রে। সিনেমাটি নিয়ে হলিউডি এই তারকা, মিলা কুনিস জানান, ‘ওজ :দ্য গ্রেট অ্যান্ড দ্য পাওয়ারফুল’ ছবিতে তার চরিত্রটি এক ডাইনির হলেও তিনি ভালো ডাইনির চরিত্রই করেছেন। তার চরিত্রটি অনেকটাই একজন সরল মনের কিশোরী’র মতো, যে না বুঝেই বয়সের কারণে অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিভিন্ন কাজ করে বসে। ছবিতে মিলা অভিনয় করেছেন ‘থিওডোরা’ নামের একজন ভালো ডাইনির চরিত্রে। ‘টেড’ তারকার সঙ্গে এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন জেমস ফ্রাঙ্কো, মিশেল উইলিয়ামস। মিলা আরও বলেন, ‘থিওডোরা এ সময়ের এক কিশোরীর মতো। একেবারে সহজ-সরল। মনে মনে সবার ভালো চায়, সবাইকেই ভালো মনে করে। কিন্তু মাঝেমধ্যে নিজের অজান্তেই খারাপ কাজ করে বসে। চট করে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় আর তাই বেশির ভাগ সময়ই সে ভুল পথটি বেছে নেয়।’ উল্লেখ্য, ‘ওজ :দ্য গ্রেট অ্যান্ড দ্য পাওয়ারফুল’ ছবিটি মুক্তি পায় এ বছরের ৮ মার্চ। মিলা কুনিস সম্পর্কে কিছু কথা সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ইউক্রেন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসে বসতি গেড়েছিলেন মিলা কুনিস। নিজের অভিবাসী জীবনের গল্প, শিল্পাঙ্গনে বিচরণ, রাজনীতিসহ নানা বিষয় নিয়ে তিনি আলাপচারিতায় মেতেছিলেন ‘অ্যাস্কোয়ার’ ম্যাগাজিনের সঙ্গে। কমেডি ধাঁচের মার্কিন টিভি সিরিজ ‘দ্যাট সেভেনটি’স শো’র মাধ্যমে প্রথম তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন মিলা। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘ফরগেটিং সারাহ মার্শাল’ (২০০৮) এবং ‘ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিটস’-এর (২০১১) মতো কমেডি ছবিতে অভিনয় করেন। মিলা কুনিস অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো :‘পিরানহা’, ‘ম্যাক্স পাইন’, ‘গেট ওভার ইট’, ‘আমেরিকান সাইকো ২’, ‘ডেট নাইট’ প্রভৃতি।কিছুদিন আগেই তার সম্পর্কে শোনা গিয়েছিল, অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হলিউড এই অভিনেত্রী মিলা কুনিস। হলিউডকে বিদায় জানিয়ে নিজের শতভাগ সময় পরিবারের জন্য ব্যয় করবেন তিনি। অনেকদিন থেকেই তিনি পরিবার ও ক্যারিয়ারের মধ্যে একটিকে বাছাই করার চেষ্টা করছিলেন। ২৯ বছর বয়সী কুনিস সেভেন্টিজ শোয়ের সহ-তারকা অ্যাস্টন কুচারের সঙ্গে প্রেম করছেন এবং শিগগিরই তারা তাদের গাঁটছড়া বাঁধবেন। নিজের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মিলা? কারণ তিনি অন্য সবার মতো সাধারণ জীবনযাপন করতে চান। এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক ভালো মা হতে চাই। যে সময় তার সন্তানদের সঙ্গে থাকতে পারবে। যখন আমি ছোট ছিলাম তখন আমি আমার বাবা-মাকে একদমই কাছে পাইনি।’