আবার স্কুলে যাচ্ছেন মালালা

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৩, ২০:৩৩
পাকিস্তানে নারী শিক্ষার পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে গুলিবিদ্ধ মালালা ইউসুফজাই যুক্তরাজ্যের একটি স্কুলে আবার পড়াশোনা শুরু করেছেন। মঙ্গলবার তিনি সুস্থ হয়ে প্রথম স্কুলে যান। দীর্ঘ চার মাস তিনি বার্মিংহামের একটি হাসপাতালে চিকিত্সা নেন। পাকিস্তানের তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মালালা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। এমন কী চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য তার নাম মনোনীতদের তালিকায় রয়েছে। স্কুলে আবার ফিরতে পেরে উচ্ছ্বসিত মালালা দিনটিকে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে অভিহিত করেছেন। এক বিবৃতিতে মালালা বলেন, ‘আজ আমি সত্যিই ভীষণ উত্তেজিত। আমার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে আমি আবার স্কুলে ফিরে আসতে পেরেছি। আমি চাই বিশ্বের সব মেয়েই এই সুযোগটি পাক।’ বার্মিংহামের এজবাস্টন গার্লস স্কুলে মালালা তার বাবার সঙ্গে গোলাপী রঙের একটি স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যান। ফেব্রুয়ারিতে মালালার মাথার খুলিতে অস্ত্রোপচার হয়। মালালা বলেন, ‘আমি আমার পাকিস্তানি সহপাঠীদের খুব অভাববোধ করি। কিন্তু তারপরও নতুন বন্ধু তৈরি করছি।’ মালালা এই স্কুলের সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচিতেই পড়াশোনা করবেন। এই স্কুলের বাত্সরিক ফি ১০ হাজার পাউন্ড। মালালা ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় দুই সহপাঠীসহ তালেবানের গুলিতে আহত হন। উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে যুক্তরাজ্যের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়ার আগে পাকিস্তানেই তার মাথায় বিদ্ধ বুলেট অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়। এরপর বার্মিংহামে কয়েক সপ্তাহের বিশেষ চিকিত্সার পর জানুয়ারিতে তাকে কুইন এলিজাবেথ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। এরপর তার মাথার খুলির ক্ষত সারাতে ওই হাসপাতালেই আবার দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রথম পর্যায়ের অস্ত্রোপচারে মালালার খুলির ক্ষতস্থানে ধাতব পাত বসানো হয়। ২য় পর্যায়ে বসানো হয় একটি শ্রবণ যন্ত্র। মেয়েদের শিক্ষার অধিকারের জন্য প্রচার চালানোর কারণে মালালকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে পাকিস্তানি তালেবানরা। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালালার নামটি আলোচিত হচ্ছে।