দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় পাউবোর আওতাধীন ১০ হাওরে উত্পাদিত শত কোটি টাকার ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের ১৫ দিন পরও বাঁধ মেরামত কাজ শেষ না হওয়ায় এবারও পাউবোর বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যসহ সকলেই একাট্টা। স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের জন্য কমিটি গঠন করছেন। তবে আগাম বন্যার সাথে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠবেন কিনা এ নিয়ে উত্কণ্ঠা রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও হাওর রক্ষা বাঁধ মনিটরিং কমিটির সদস্য আলতাবউদ্দিন বলেন,এলাকার এমপি ও মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধ মেরামতের নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বলেন, অধিকাংশ স্থানেই স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ সম্ভব। কিন্তু পাউবো তা না করে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ লুটপাট করতে প্রতিবছর দায়সারা বাঁধ মেরামত করে শত কোটি টাকার বোরো ফসল হুমকির মধ্যে রাখতে চায় এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কৃষকরা অভিযোগ করেন, প্রায় বছরই আগাম বন্যায় একদিকে যখন বাঁধ ভাঙ্গে আরেকদিকে চলে বাঁধ মেরামতের কাজ। ফলে বাঁধের বেশিরভাই অর্থই যায় পানিতে। দিরাই উপজেলার চাপতির হাওর পাড়ের কৃষক নীল কান্ত দাস বলেন, পুরানো বাঁধের ওপর সামান্য মাটি ফেলে প্রলেপ দেয়া হয়েছে অথচ বৈশাখী বাঁধসহ তাড়ল গ্রাম পর্যন্ত ২৬০ মিটার নদীর তীর উঁচুকরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা। বরাম হাওর পাড়ের কৃষক সুলেমান বলেন, কেজাউড়া গ্রাম থেকে কাদিরপুর পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার নদীতীর উঁচুকরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সোয়া ১২ লাখ টাকা। একইভাবে টাংগুয়ার হাওরের বাধালিয়া বাঁধ থেকে ভরাউট পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার নদীর তীর উঁচুকরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৬৩ টাকা, একই হাওরের ৫৬৮ মিটার তেতুইয়ার ভাঙ্গা মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৪ টাকা। অথচ যেখানে প্রাক্কলন রয়েছে ৫ ফুট উঁচু করার সেখানে কাজ হয়েছে আড়াই থেকে ৩ ফুট। কোথাও কোথাও মাটিই পড়েনি। এ অবস্থায় হাজার হাজার একর জমির ফসল হুমকির মুখেই থাকবে। তাড়ল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আকিকুর রেজা জানান, উপজেলার বৃহত্ বরাম, টাংনি ও চাপতির হাওরে ৫০ভাগের বেশি কাজ হয়নি। অথচ বেশির ভাগ বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে পিআইসির লোকজন সবকিছু গুটিয়ে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিকাংশ পিআইসির সদস্য অভিযোগ করে বলেন, ২০১০ সালে অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙ্গে ফসল ডুবির পর পাউবো ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার কারণে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠে হাওরের বাঁধ মেরামত কাজ পিআইসির মাধ্যমে করার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে বাঁধ মেরামতে সরকারের দেয়া এ পদ্ধতিকে ব্যর্থ করতে পাউবোর কর্মকর্তারা সক্রিয় রয়েছেন।
