রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ- এই তিন জেলা নিয়ে গঠিত বরেন্দ্র প্রকল্প বর্তমানে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় বিস্তার লাভ করেছে। অন্যদিকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার জন্য নিয়োগকৃত জনবল দিয়ে ১৬ জেলায় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একজন কর্মচারীকে তার নিজ দায়িত্ব ছাড়াও বছরের পর বছর ধরে আরো অতিরিক্ত তিন-চারটি পদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে অনেক কর্মচারী সুযোগ নিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হচ্ছে আবার অনেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া অনেক সিনিয়র বা পদাধিকার বলে ওপরের কর্মচারী মাঠ পর্যায়ে পড়ে আছে এবং জুনিয়র বা নিচের পদের কর্মচারী ঊর্ধ্বতন অফিসে কর্মরত আছে। বর্ধিত এলাকার অফিসগুলো চালু হওয়ার মেয়াদ প্রায় ৬/৭ বছর হতে যাচ্ছে। অথচ এত দিনেও জোনাল অফিসগুলোকে রিজিয়ন অফিস নির্ভর হয়ে চলতে হচ্ছে। অর্থাত্ সংশ্লিষ্ট জোন অফিস প্রধান সহকারী প্রকৌশলীর কাছে আয়ন-ব্যয়ন ক্ষমতা না থাকার কারণে তাদের বেতনভাতা থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য রিজিয়ন অফিস নির্ভর হয়ে চলতে হচ্ছে। বর্তমানে এই সমস্ত এলাকাতে ২/৩টি উপজেলা নিয়ে একটি অফিস তাও আবার জনবল শূন্য। একজন দিয়ে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত ১৫/১৬টি এলাকায় দায়িত্ব পালন করে নেয়া হচ্ছে। ফলে উন্নতির ছোঁয়া তো দূরে থাক ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যাচ্ছে। স্থানীয় অফিসের কাছে আর্থিক ক্ষমতা না থাকার কারণে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারের চরম ক্ষতি হচ্ছে। সরকার বিরাট অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় অফিসের হাতে আর্থিক ক্ষমতা না থাকার কারণে সময়মতো তারা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারছে না। ফলে কর্তৃপক্ষের বহুলাংশ ক্ষতি হচ্ছে। ২০১১ সালে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীণদের মৌখিক পরীক্ষার মাত্র সাত দিন আগে অনিবার্যকারণবশত মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, যার জট আজ অবধি খোলেনি। ফলে নিয়োগও হয়নি। যদি প্রয়োজনমতো জনবল নিয়োগ দিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের বর্ধিত এলাকার অফিসগুলোকে আর্থিক ক্ষমতা দিকে চালু করা যেতো তাহলে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নিলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলাগুলো থেকে সরকারের অনেক রাজস্ব আয় আসতো এবং এসব অঞ্চলের কৃষকদের কোনো অভাব থাকতো না। তাই সরকারের কাছে বিনীত আবেদন এই যে, জরুরিভাবে জনবল নিয়োগপূর্বক স্থানীয় অফিসের হাতে আর্থিক ক্ষমতা হস্তান্তর করে বরেন্দ্রর কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে চালনা করে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের লাভবান হতে এবং সেইসঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয় বহুগুণে বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিন।
মো. ইফতারুল হোসেন,
জরিপ সহকারী,
বিএমডিএ, কাশীনাথপুর জোন, নাটোর
