বগুড়ায় চারটিসহ কচুয়া ও কাঠালিয়ায় প্রতিমা ভাঙচুর

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৩, ২২:২৪
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় চারটি মন্দির ও ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় একটি মন্দিরের প্রতিমা গত মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর করেছে। এছাড়াও বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় গতকাল বুধবার ভোরে একটি মন্দিরের প্রতিমা দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বগুড়া প্রতিনিধি, কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা ও বাগেরহাট প্রতিনিধির পাঠানো খবর। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, গাবতলী উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের চারটি মন্দিরের প্রতিমা গত মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করেন। মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের পর স্থানীয় হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা এবং মন্দিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে গাবতলী উপজেলায় এর আগে আরো দুইটি মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটে। উপজেলার সোনারায় ও রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের সাবেকপাড়া, কর্মকারপাড়া, বামুনিয়া পালপাড়া ও কামারচট্ট দেবনাথ পাড়ার চারটি মন্দিরে গত মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করে। এছাড়াও মন্দিরের দরজা-জানালা ও পূজার উপকরণ ভাঙচুর করা হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রতিমাগুলোর বিভিন্ন অংশ রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয়। এ চারটি মন্দিরে থাকা দুর্গা ও লক্ষ্মী প্রতিমাসহ কমপক্ষে ১২টি প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। মন্দির চারটি দেড় কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। মন্দিরে গতকাল বুধবার সকালে পূজা-অর্চনা করতে এসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা জানতে পারেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গতকাল স্থানীয় পিরগাছা-আটাপাড়া সড়ক অবরোধ করে মন্দিরে হামলার বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করেন। গাবতলী থানার ওসি জানান, মন্দির ভাঙ্গার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে। কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, কাঠালিয়ার আমুয়া বন্দরের সার্বজনীন পূজা মন্দিরের কালী প্রতিমার মাথা, কার্তিকের বামহাত, গণেশের ডানহাত ও সুড় গত মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাজারের পাহারাদার বশির আকন (২৮), শাহিন জমাদ্দার (৩২), আফান হাওলাদার (৪০) ও মো. ফোরকান হাওলাদার (২৯) নামের চারজনকে আটক করেছে। থানায় গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। মন্দিরের পুরোহিত হরিপদ দাস জানান, পাহারাদাররা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের বৈদ্যুতিক বাতি গত মঙ্গলবার রাতে নিভানো দেখতে পায়। তারা কাছে গিয়ে মন্দিরের তালা খোলা দেখতে পায়। তারপর পাহারাদারদের টর্চলাইটের আলো দেখতে পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, কচুয়া উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা গতকাল বুধবার ভোরে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। কারা এই প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তা মন্দির কমিটি ও পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। এই প্রতিবেদন গতকাল রাতে লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। কচুয়া থানার ওসি গোবিন্দ গোপাল বিশ্বাস বলেন, দুর্বৃত্তরা গতকাল কালী মন্দিরের দেবী কালী ও মহিষাসুরের মাথা ভেঙ্গে ফেলে এবং মহিষাসুরের মাথায় আগুন ধরিয়ে দেয়ায় পুড়ে যায়। এছাড়াও তারা দেবতা কার্ত্তিকের প্রতিমাটি উল্টে ফেলে এবং গণেশের গলা ভেঙ্গে দিয়েছে। ওই দুর্বৃত্তরা মন্দিরের বেড়ায়ও আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। পরে মন্দিরের পাশে থাকা লোকজন খবর পেয়ে আগুন নেভায়।