দুইজনের বাড়িই কিশোরগঞ্জে। দুইজনই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। একসঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাও প্রায় ৪৭ বছর ধরে। মুক্তিযুদ্ধেও লড়েছেন একসঙ্গে। দেশ পরিচালনায়ও সঙ্গী। রাজনৈতিক সহযোদ্ধার বাইরে পারিবারিক সম্পর্কটা ছিল আরও বেশি।
এদের একজন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান গতকাল বুধবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে। প্রায় এক সপ্তাহ জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে গতকাল সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান দেশের প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ।
আর সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির হাল ধরতে হয়েছে দীর্ঘ ৪৭ বছরের রাজনীতির সঙ্গী ও পারিবারিক বন্ধু স্পিকার আবদুল হামিদকে। তিনিই বর্তমানে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
সংসদ ভবনে গতকাল নিজ কার্যালয়ে বসে স্পিকার আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যু সংবাদ শুনে অনেকটা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। আবেগ আপ্লুতভাবে রাজনীতির দীর্ঘদিনের নানা স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন।
আবদুল হামিদ বলেন, রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান শুধু আওয়ামী লীগ নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিলেন অভিভাবকের মত। ওয়ান-ইলেভেনের চরম দুঃসময়ে শক্ত হাতে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন তিনি। তাঁর ওই সময়ের নেতৃত্বে গোটা রাজনীতিবিদদের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। মাটি, মানুষ আর দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য আর ভালবাসা ছিল শেখার মত। রাজনীতিবিদদের জন্য এক অনুসরণীয় চরিত্র হয়ে রইলেন তিনি।
আবদুল হামিদ বলেন, বয়সে একটু বড় হলেও ৪৭ বছর ধরে একসঙ্গে রাজনীতি করার কারণে রাজনৈতিক বন্ধু ছিলেন তিনি। আজ তাঁর মহাপ্রস্থানে মনে হচ্ছে জীবন থেকে অনেককিছু হারিয়ে গেল।
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধান অনুসারে স্পিকারকে এ সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে হয়। অত্যন্ত বেদনা নিয়ে সে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
