কানার হাটবাজার

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৩, ১৮:৩৭
আউল-বাউল জানতে গিয়ে এক সাধক বলেছিলেন-‘বাউলরা বাতাসেরই সন্ধান করেন’। ‘বাতাসের মধ্যে অনেক মহত্ আবিষ্কার আছে এবং বাতাসের মধ্যেই মহত্ আত্মাগুলো বিদ্যমান থাকেন। আমরা তো নেটওয়ার্ক জানি না তবে যারা কল্যাণ চিন্তা করেছেন তাঁরা বাতাসের মধ্যেই আছেন’। সে যাই হোক, দু’-এক কথায় বাউলকে সংজ্ঞায়িত করা কষ্টকরই বটে। বাউল শফি মণ্ডল মনে করেন নিজের ভিতরে যিনি যত বেশি জ্ঞানের ফাইল খুলতে পারবেন তিনি তত বেশি ঈশ্বরবর্তী হবেন। ধ্যানে-যোগে জ্ঞানের ফাইল খুলতে হবে। কী রূপে ধ্যান করলে ফাইল খুলবে সেসব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফি গুরুর গুরুত্ব আনেন। গুরুরূপ খাড়া রেখে যেকোনো সাবজেক্টের উপর ধিয়ান করতে হবে। এখানে শরিয়ত-মারেফত বলে কিছু নেই। যা ব্যক্ত করবেন সবই শরিয়ত। যা অব্যক্ত তা-ই মারেফত। নিজ মধ্যেই মহামানবকে আবিষ্কার করতে হবে। যা লিখবেন তা বেদ আর যা গুপ্ত থাকবে কিন্তু অনুভব করা যাবে সে হলো ভেদ। আপনার আপনি ফানা হলেই ভেদ জানা যাবে। মানব জনমটা দুর্লভ জনম। এ জনম আর হবে না। মানবকর্ম না করলে আবার জীবজগতে আসতে হবে। যদি মানুষ হয়ে মানুষকে লাথি মারি তবে পুনরায় লাথি খাওয়ার জন্য জন্মাতে হবে। হাজার হাজার বার জন্মাতে হবে। পরিশুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আত্মার মুক্তি নেই। জীব মরে জীবান্তরে গিয়ে পরিমার্জনা পেলেই কেবল পরমের সাথে মিলে গিয়ে একেশ্বর হয়ে যাবে। শফি একটানা এসব নিগূঢ় কথাবার্তা বলতে গিয়ে দম টানেন, তারপর নিজ মনেই বিড়বিড় করে ওঠেন—শেষেতো সুফিই হয়ে গ্যালো। সুফিজমের একটা ইনটেলেকচুয়াল দর্শন আছে সেটাই লালন দিব্যজ্ঞানে নিয়েছেন। এ বাউলের স্বভাব হলো তিনি মাঝখান দিয়ে কথা শুরু করেন। তাঁর নিগূঢ় কথাবার্তাগুলো নীরবে শুনতেই ভালো লাগে। মূলত দৌলতপুরের হোসেনাবাদ গ্রামে জন্ম নেওয়া শ্যামলা বাউল শফি মণ্ডলের কাছে লালনই সবকথা—‘গুরুকেই আমি লালন ভাবি। গুরু ভাবনায় থাকতে থাকতে কখনো আবার নিজের মধ্যেই লালন প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়। তখন মন অন্যরকম হয়ে যায়, গানের সুর খুব ভালো হয়। মনে হয় যার গান সেই গাইছে আমি খালিখালি মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি। মন থেকে যা চাওয়ার তা আমি লালন থেকেই পাই। তাঁর গানের মধ্যেই নিহিত থাকে আমার মনোবেদনা, আনন্দময় জীবন-জীবিকা। এক জেনে যে এক ভজিল সেই সে পাড়ি সেরে গেল। আমার এটাই এবাদত। এই নিয়েই চলি। আমি নিখাদ ঈশ্বরবাদী মানুষ। মানুষ যদি ভক্তির ক্ষমতায় পাথরেও প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তাহলে একজন ভক্তও ভক্তির দ্বারা মানুষে ঈশ্বর আবিষ্কার করতে পারেন। লালনপথে সেই মানুষ হলো গুরু। দিবানিশি ডাকো মন তারে, যারে ভাবলে পাপীর পাপ হরে। এ পর্যন্ত বলতে গিয়ে শফি গান ধরেন— ‘গুরু নাম সূধা সিন্ধু পান করে তাহাতে বিন্দু সখা হবে দীন বন্ধু তৃষ্ণা ক্ষুধা রবে নারে।’ লালনের এমন কিছু গান আছে যেগুলো শুনতে আপাতভাবে ঈশ্বরবিরোধী মনে হয় বটে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। বুঝতে না পারার কারণে এ রকম হয়। লালন আসলে বিবিধ ধর্মকথা বলে বলে নিজকথা বলেছেন। সিরাজ সাঁই সম্পর্কে শফি বেশ ষ্পষ্ট মন্তব্য করে ফেলেন—আমার তো মনে হয় সিরাজ নামে কেউ একজন ছিল। না হলে তো লালনের পরিচয় থাকে না। তা ছাড়া গুরুবাদী ব্যাপারটাও নিশ্চিত করা যায় না। গুরু না থাকলে লালনকেই তো ঈশ্বর বলতে হতো। হনুমান যখন প্রভু রামকে ভক্তি দিত তখনো রাম বিড়বিড় করে তাঁর গুরুকেই স্মরণ করত। লালন তো ঈশ্বর নয়, দিব্যজ্ঞানী। আসলে জাগতিকভাবে চিন্তা করলে অবশ্যই সিরাজকে দেখাতে হবে। আবার আধ্যাত্মিকভাবে ভাবলে লালনের মধ্যেই সিরাজ আছে। অধিকন্তু আউলের পর বাউল। বাউলের পরে সাঁই। সাঁই থেকে দরবেশ তারপর ন্যাড়া’র পর ফকির হয়। সিরাজ সে বিচারে দরবেশ বটে। লালন এক ধাপ এগিয়ে গেছে। তা ছাড়া গুরুকে তো শিষ্যরাই পার করে। গুরু কখনো কোয়ালিটিলেস হয় না। কোনো শিষ্যের গুরু কোয়ালিটিলেস হলে সে দুর্ভাগা। গুরু কোনো শিষ্যকে পার করে দেয়নি। যুগে যুগে শিষ্যরাই গুরুকে পার করেছে। সকল ধর্মেই তার নমুনা আছে। লালনের জন্ম না হলে সিরাজকে কেউ চিনত না। লালনের কোনো নেশা ছিল না। গুরু নেশা যার আছে তাঁর তো অন্যনেশা থাকে না। শফি যখন গান করেন তখন তিনি কিছুই দেখতে পান না। শুধু গুরুরূপে বিলীন হয়ে নিজের রূপটাই তিনি দেখতে চেষ্টা করেন। রূপের দিকে ধিয়ান না থাকলে সে রূপ থাকে না আর— ‘ভাবের ঘরে কি মুরতি ভাবের লণ্ঠন ভাবের বাতি ভাবের অভাব হলে এক রতি ওমনি ঐ রূপ যায় সরে।’ বাউলরা খোদাপ্রেমে মজে থাকেন। প্রেমের জন্য মনকে সরল করতে হয়। সাধক হতে হলে নিহেতু প্রেম করতে হয়। সকল জীবের প্রেমই হেতু প্রেম অন্যদিকে পরমের প্রেম হলো নিহেতু প্রেম। সাধকের আচরণে কেউ কষ্ট পাবে না। সাধক নিজকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চেষ্টা করবেন না বরং দোষমুক্ত থাকবেন। যারা নিজকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করে তাঁরা তো জাহির হয়। তাদেরকে সবাই চেনে। আর যারা আপনাকে দোষমুক্ত রাখার চেষ্টা করে তাঁরা নীরবে থাকেন। জ্ঞানীদের কাজ হলো দোষমুক্ত মানুষদের খুঁজে বের করা। শফি থামেন না...। বিষয় পাল্টে তিনি স্বচ্ছন্দে অন্যত্র চলে যেতে থাকেন। বলার ধরনটা কিছুটা পাবনার ফকির রুহুল শাহের মতো। একবার লালনমেলায় তাঁর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। একসময় প্রতিদিন বাউলদের সাথে দেখা হতো। ফকির লালন ফাগুনের জ্যোস্নায় রাতভর মচ্ছব করতেন। সে ধারা মেনে এখনও প্রতি ফাগুনে দোল বুঝে মরা গাঙের পাড়ে সাধুদের বাজার বসে। লালনকালে দুই দিনের আয়োজন তিন দিন থেকে পাঁচদিনে ঠেকেছে। দিনাজপুর থেকে লালনবাড়ি। সাড়ে তিনশো কিলোর ফাঁক। তাতে কি! ‘সে আর আমি একখানে রই, তবুও লক্ষ যোজন ফাঁকরে আমি; একদিনও না দেখিলাম তারে।’ স্বভাবে ভাব হলে উপায় কি। চলে গেলাম কুষ্টিয়ার বারামখানায়। ছেঁউড়িয়া ছুঁতে ছুঁতে দুপুর টলে পড়ল। ক্রমেই মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। হরেক বাউলের হাট বসেছে আখড়ায়। কত কিসিমের সাধু বাউল যে আছে না দেখলে বোঝার উপায় নেই, বিচিত্র তাদের বেশভূষা, অদ্ভুত তাদের কীর্তিকরণ। আখড়াবাড়ির আঙিনা, বারান্দা, মাঠ সবখানে খণ্ড খণ্ড গানের মজমা চলছে। কীর্তিকলাপ দেখে দেখে বিকেল গড়িয়ে গেলে লালনসমাধির পাশে এসে দাঁড়ালাম। দূরাগত বাউলরা আস্তানা পেতেছে এখানে। বৃদ্ধ বাউলের পাতানো চাটির পাশে দাঁড়াতেই হাসিমুখে বললেন—বসেন না ক্যানো, বসেন। জুতো খুলে ল্যাটা দিয়ে বাউলের পাশে বসে পড়লাম। বয়সী বাঊলের ফকিরি নাম রুহুল শাহ্ ফকির। জিজ্ঞাসা করলাম, এখানে আসেন কেন? রুহুল যেন তাচ্ছিল্য বোধ করলেন—‘এইবার শোনেন যেখানে বইসে আছেন, ইনির নাম হলো বিশ্ব বাউল সম্রাট। সম্রাট বোজেন, সম্রাট একটা কত বড় র্যাঙ্ক! বোজেন? ইনি বাতাসের সন্ধানকারী। ইনি কিন্তু নিরক্ষর ছিলেন তাই বলে মুরুক্ষু নন। আমার রাসূলেরও অক্ষরজ্ঞান ছিল না তবে উনিরা মুরুক্ষু নন। বিশ্বনবী মোহাম্মাদ সাল্লাললাআলাইহিস সালাম। উনির উপরে আর কিছু নাই। উনি সৃষ্টি না হলে দুনিয়াই সৃষ্টি হতো না। আর ইনিরা আপনের দেহের ভিতের আল্লাহ কোথায় আছে তা স্তন্যে(স্তরে) স্তন্যে(স্তরে) ভাগ করে দেখাই দি গ্যাছেন। এই জন্যি লক্ক লক্ক মানুষ সমবেশ হয়।’ রুহুল ফকির লাগাতার বলতে গিয়ে কথার খেই হারিয়ে ফেললেন। অগত্যা দেহতাত্ত্বিক বিষয়ে জানতে চাইলাম—যেমন ধরেন,বাতাসের সাধনায় নারীদেহের যোগ আছে..? কথা শেষ করতে পারলাম না, রুহুল ফকির ক্ষেপে গেলেন-‘আরে দুরেরা, নারীর লগে তো কোনো কতাই নাই আপনার। আপনে তো আদম, আপনের লগে খেলা। আমার প্রয়োজনের জন্যি নারী দিছে। নারী হলো নাথিং। উনি আমার প্রয়োজনে। আমাকে আল্লাহ সুরাতে বানাইছে।’ বোঝানোর জন্য তিনি ক্ষ্যাপামুখেই লালনপদ বলতে লাগলেন— ‘আপন সুরাতে আদম গঠলেন দয়াময় তাইতে ফেরেস্তাদের সিজদা দিতে কয়’ পদ শেষ করে তিনি মুখ পানে চেয়ে সাপ্টা প্রশ্ন করে বসলেন—নাম কী আপনার? বললাম—আজাদুর রহমান সাথে সাথে চেঁচিয়ে উঠলেন—‘আজাদুর রহমান’ সারেজাহান খুঁজলে আর পাবেন না। নাম পাবেন কিন্তু আপনার চেহারা পাবেন না। এটা হলো চেহেরে খোদা। আল্লাহ নিজ সুরাতে আপনাকে বানাইছে। পরিষ্কার করার জন্য তিনি ফের উদাহরণ টানলেন—যেমন আমার নাম রুহুল। রুহুল আর পৃথিবীতে নাই। নাম আছে, রুহুল নাই। এই বডিটা হলো আদম। আল্লাহ নিজ তরফ থেকে এর ভিতের রুহু ফুঁকারে দিয়েছেন। কোরানে দ্যাখেন ‘আল্লামাল আদামা আসমাহা...’। আয়াত বলে ফের ব্যাখ্যায় নামলেন—আদম তৈরি করে রুহু ফুঁকার পর আল্লাহপাক সকলকে সেজদা করতে বললেন। পাল্টা প্রশ্ন করলাম, তার মানে আল্লাহ নিজেই ঢুকেছেন? —‘হ নিজেই ঢুকেছন’। রুহুল তেলওয়াত শুরু করলেন। এবার মানে—আল্লাহ বলেছেন, আমি মানুষের মাঝেই আছি। আল্লাহু কুল্লি... আমি গর্দানের শাহীরগের সন্নিকটেই আছি। বর্ননা শুনে নিজের গলার রগ দেখিয়ে বললাম, এখানে? রুহুল ফের চিত্কার করলেন—‘আরে হাঁ আল্লাহতায়ালা এর চেয়েও সন্নিকটে আছেন। তিনি সাত জমিন সাত আসমানে আছেন। সেই আল্লাহকে চিনেছন? আল্লাহ্ ছাড়া কাউকে সেজদা করলে হারাম হয়ে যাবে। অন্ধকারে ডুব দিয়ে লাভ কি। কথা শেষ না হতেই পাশে বসা আব্দুল কাদের ফকির কথা কেড়ে নিলেন—ঐ মানুষের ভিতর আল্লাহ বসবাস করে, যে কাম ক্রোধ রস পার্থিব ঝামেলা থেকে নিজেকে সড়াতে পেরেছে। পাল্টাপাল্টি কথায় সুবিধা হলো প্রসঙ্গের তোয়াক্কা না করেই দিগ্বিদিকে প্রশ্ন করা যায়। জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি মারা গেলে কী হবে? —যদি কোনো ভালো গুণাবলী থাকে তবে সাঁইজির মতো এ রকম একটা মাজার হবে। —হোক কিন্তু রুহুলটা কই যাবে? —রুহুলটার জন্যি তো থান-ই আছে। ইল্লিন আর সিজ্জিল। পাপের কাজ করলে সিজ্জিল আর নেকিতে যাবে ইল্লিনে। সিজ্জিল মানে পাথর, জাহান্নামের পাথর আর ইল্লিন মানে হলো সুখস্বর্গ। ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য মহাযোগের কথা তুললাম। মহাযোগের সাথে তো নারীর যোগ আছে। কি বলেন? ‘মহাযোগ’ শুনে আব্দুল কাদের ফকির টিপ্পনি তুলে হেসে উঠলেন—হাঃ হাঃ একন বুজাও বাবা। রুহুল এবার সত্যি ঝাঁঝিয়ে উঠলেন— মহাযোগ নিজের সাথে। নারীকে তো আগেই নাথিং করে রাখিছে। ব্যাটাছেলের আবার মাসিক আছে নি? মহাযোগ বলতে তুমি কী বুজাও? নিজের যোগ। বউয়ের লগে কোনো যোগ নাই। হাওয়ার লগে কীসের গল্প। হাওয়াকেতো সৃষ্টির কৌশলে তৈয়ারি করেছে আল্লাহ্। এখন বলেন হাওয়ার কোনো কাঠামো তৈয়ার করেছে? নকশা আছে? আদমের বডিতেই হাওয়ার উত্পত্তি। কথা হলো আমি নারী, আমিই পুরুষ। ভালো করে বোঝার জন্য অবাক হলাম—পুরুষই নারী এ কেমন কথা! রুহুল পাল্টা ব্যাখ্যা করেন—আমি নারী না হলে আমার বীজে মেয়ে হলো ক্যামনে! রুহুল আঙুলের ইশারায় ঘাসে ঘুমন্ত স্ত্রীকে দেখান— ই দ্যাকেন, এই বুড়িরে আমার প্রয়োজনে আনছি। জমি আনছি আবাদ করার জন্যি। মূলত আদমের মধ্যিই সব। এইডেই লালন সাঁইজি বলে গেছেন। এরপর কথাবার্তার লাইন থাকে না। চারপাশে মানুষজন ভিড় করতে দাঁড়িয়ে যায়। তখন আবোল তাবোল প্রশ্ন করাতে রুহুল বিরক্ত হয়ে বেলাইনে চলে যান—ঐ যে দ্যাখেন ওখানে (মঞ্চে) ওয়াজ হচ্ছে। একটা করে লোক উঠবে একটা করে গান হবে। হেইডা ওয়াজ। একটা ওয়ার্ড ভুল নাই। সন্ধ্যা হলে ঐ দিকে যাইতে পারবেন না। বহু লোক যন্ত্রপাতি আর গাড়ি নিয়ে বসে থাকবে। আলাপের ফাঁকে আমরা লাল চা খেয়ে নিই। আব্দুল কাদের চা’র দাম মেটালে রুহুল পুটলী থেকে কাপড় বের করেন। তারপর ধপ্ধপে কাপড়টা আমার মুখের সামনে এনে বলেন, এইটা হলো খিলকা। ফকির হবার পর সাদা কাপড় নিয়েছি। এখন জানডা চলে গেলে এ দিয়েই কাফন পরা যাবে। কাফনের কাপড় যখন নিয়েছি সুতরাং রঙ্গরস আর নাই। আপনিতো এখনও রঙ্গরসের মধ্যেই আছেন। রঙ্গরস ছেড়ে সাদা কাপড় পড়েন। তখন এত কথা আর বলতে হবে না। অটোমেটিক উত্তর পেয়ে যাবেন। পুনরায় হৈ হুল্লোড়ে কথার সাবজেক্ট এলোমেলো হয়ে যায়। আধ্যাত্মিক কথাগুলো কেবল রুহুল আর আব্দুল কাদের ফকিরের মুখ থেকে মুখে লাফাতে থাকে। কি মনে করে আচমকাই ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে ফেলি—নেশাপাতি করেন না? —একবার যে সিদ্দি (সিদ্ধি) খেয়েছি সে রসেই তো শ্যাষ। গুরু দয়া করে পথ না দেখালে আরও কত বছর যে সিদ্দির নেশায় থাকতে হতো সে আল্লাহই জানে। সিদ্ধি নিয়ে তিনি আহাজারি করতেই থাকেন। আব্দুল কাদের সেদিকে যান না, মর্জিমাফিক গান ধরেন— ‘বেদ বিধির পর শাস্ত্র কানা আর এক কানা মন আমার এসব দেখি কানার হাটবাজার’ উচ্ছ্বসিত কাদের ব্যাখ্যায় নামেন—ও বাউল, এবার স্পষ্ট বাংলায় বুজাই দ্যাও নিজের মধ্যে আমিত্ব থাকলে সাধনা হবে না। আব্দুল কাদেরের কথায় রুহুল বলতে শুরু করেন—সিদ্ধি তো আমরা ব্যাক খাইয়েই আইছি। সেটা ঐ নারীর লগে। নারী ভোগ করে আইছি। যা খাইছি সেই সিদ্ধির অ্যাকশন-ই তো এখন পর্যন্ত কাটি উঠতি পারিনি। আবার সিদ্ধি! যারা খায় তারা বুজুকগে। এখন তাহলে কীভাবে এবাদত-বন্দেগি করেন? —‘ওর ভেতর থেকেই। বাইম মাছের মতো প্যাঁকে থেকে, প্যাঁক যেন গায়ে না লাগে’। আব্দুল কাদের কথা ধরে কপট মজা করেন—‘সাধু, সাধন কর্ম কও। না হলে বুঝবে ক্যামনে।’ আব্দুর কাদের উত্তরের অপেক্ষা করেন না বরং গান ধরেন— ‘নাকের দুই ধারে দুই ফোঁড়া ফকিরির গোঁড়া ভব সাধন সাড়া জানে রসিক যারা’