ছোটকাগজ

নবপ্রকাশ

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৩, ১৮:৩৭
নবপ্রকাশ\ তৃতীয় বর্ষ, তৃতীয় সংখ্যা হাসান হাফিজুর রহমান সংখ্যা প্রধান সম্পাদক : মাহবুব বারী সম্পাদক : আহমদ আজিজ প্রচ্ছদ : সুশান্ত কুমার পাল পৃষ্ঠা : চার শ’ \ মূল্য : দুই শ’ টাকা একজন আধুনিক কবি-লেখক ও কর্মবীরের জন্ম হয়েছিল জামালপুর জেলায়। নিজ কর্মবলে তিনি দেশবরেণ্য হলেও বর্তমানে তিনি ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চ থেকে নেপথ্যবাসী হয়ে গেছেন। আশার কথা জামালপুর থেকে প্রকাশিত ‘নবপ্রকাশ’ নামক সাহিত্য পত্রিকার তৃতীয় সংখ্যাটি ‘কবি হাসান হাফিজুর রহমান সংখ্যা’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। সমাজের নানা এলোমেলো অবস্থার মধ্যে পত্রিকাটি জবরদস্ত কলেবরে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাটিতে যে সব লেখা ছাপা হয়েছে তার একটি পরিচয় দিচ্ছি। পত্রিকার সম্পাদকীয় উপমহাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক ও বহুগুণে গুণান্বিত ব্যক্তি হুমায়ূন আহমেদের ইন্তেকাল (১৯ জুলাই ২০১২) শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়েছে। সূচিপত্র থেকে প্রথমে স্বনামধন্য প্রবন্ধকারদের নাম উল্লেখ করছি। তাঁরা হলেন, জিন্নুর রহমান সিদ্দিকী, আনিসুজ্জামান, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, শামসুর রাহমান, মোহাম্মদ সুলতান, বোরহান উদ্দীন খান জাহাঙ্গীর, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সরদার আব্দুস সাত্তার, শুভ রহমান, সাযযাদ কাদির, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, মফিদুল হক, মোরশেদ শফিউল হাসান, জুলফিকার হায়দার, রফিকুল্লাহ খান, মিনার মনসুর, তপন বাগচী, সৌমিত্র শেখর, অনিরুদ্ধ কাহালী, মুহম্মদ হায়দার, মোহাম্মদ আইয়ুব আলী এবং কবি পত্মী ও কবি কন্যা সাঈদা হাসান ও এষা হাসান। তাঁদের মূল্যবান প্রবন্ধে ও নিবন্ধে অনেক নতুন তথ্যসহ কবির জীবন ও সাহিত্য কর্মে উপর উল্লেখযোগ্য মূল্যায়ন করা হয়েছে। কিছু লেখা পুনঃসংকলিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কেননা, এই ধরনের স্মারক সংখ্যা যুগদর্শনও বটে। এই মূল্যবান স্মারক সংখ্যায় শাহ খায়রুল বাশারের একটি খোলা চিঠির প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ অনিবার্য বলে মনে করি। গবেষক কথাসাহিত্যিক ও মানববিদ্যা চর্চাকেন্দ্র ও রেফারেন্স লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা শাহ খায়রুল বাশার তাঁর খোলা চিঠিতে যৌক্তিক ভাষায় কবি হাসান হাফিজুর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে জাজ্জ্বল্যমান রাখার লক্ষ্যে জামালপুর বেসরকারি পাবলিক লাইব্রেরিটি কবির নামে নামাঙ্কিত করার দাবি ব্যক্ত করেছেন। বিষয়টি কার্যকর করা গেলে কবি হাসান হাফিজুর রহমানের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন এবং একই সঙ্গে লাইব্রেরিটির বিবর্ণ-মালিন্য রূপ ঘুচে গিয়ে এটি দেশজোড়া খ্যাতির আসন লাভ করবে। অন্যান্য প্রথাগত লেখার মধ্যে কবিতা লিখেছেন কাজী রোজী, হাবিবুল্লাহ সিরাজী, মাকিদ হায়দার, অসীম সাহা, শিহাব সরকার, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, নাসির আহমদে, কামরুল হাসান, সৈয়দ তমাল, পুলক হাসান, বদরুল হায়দার, শিহাব শাহরিয়ার, রুমী কবির, সৈয়দ শরীফ, পার্থ ভৌমিক, আলী জহির, সুজন হাজারী, সোহরাব পাশা, মাহমুদ কামাল, মনজু রহমান, সুহূদ জাহাঙ্গীর, আশিক সালাম, সাযযাদ আনসারী, মোরশেদুল কবির সাদী, মিনহাজ উদ্দিন শপথ, নওশিয়া নাজনীন, আহমদ আজিজ ও মাহবুব বারী। কবির ২৪টি কবিতার ইংরেজি অনুবাদে মীর আনিসুল হাসানের মুনশিয়ানা লক্ষ করি। কবির দৌহিত্র হাসান আমিন সালাহউদ্দিন কবির দাঙ্গাবিরোধী গল্প ‘আরো দুটি মৃত্যু’র ইংরেজি অনুবাদও বেশ সুন্দর ও সাবলীল। কবির জীবন ও কর্মের উপর বাবুল বিশ্বাসের প্রাককথন ও তথ্যচিত্র সম্পর্কে বিশিষ্ট জনের মূল্যায়ন খুবই গুরুত্ববহ। হাসান—নামে এটি জীবনভিত্তিক গল্প লিখেছেন শান্তুনু কায়সার। এ ছাড়া কবির জীবন বৃত্তান্ত, রচনাপঞ্জি, পুরস্কারপ্রাপ্তি, প্রথম একুশে সংকলনের ভূমিকা, স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল পত্রের ভূমিকা, সাক্ষাত্কার, স্থান পেয়েছে এই সংখ্যায়। কবির বেশ কয়েকটি প্রতিকৃতি এঁকেছেন কামরুল হাসান, কাইয়ুম চৌধুরী, সিদ্ধার্থ শংকর তালুকদার ও জাহিদ হোসেন রবি। প্রত্যাশা করি—নব প্রকাশের এই আলোচ্য সংখ্যাটি একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হিসাবে বিবেচিত হবে।