সমকালীন জাপানের অন্যতম প্রধান কবি শুনতারো তানিগাওয়া ১৯৩১ সালে টোকিওতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সলিচুউড অব টু বিলিয়ন লাইট ইয়ারস’ প্রকাশিত হয়। জীবিত কবিদের মধ্যে দেশ-বিদেশে তিনিই সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও পঠিত। এ পর্যন্ত তাঁর ৬০টি কাব্যগ্রন্থ ও দুটি অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৮৩ সালে প্রভাবশালী দৈনিক ‘দি নিউইয়র্ক টাইমস’্ তাঁর নির্বাচিত কবিতাসমগ্র নিয়ে বিশদ আলোচনা প্রকাশ করে। শুনতারো তানিগাওয়া ১৯৬২ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ৯টি মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৮ সালে ইউরোপের ‘হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে তাঁর কবিতার অনূদিত সংকলন ‘ফ্লোটিং দ্য রিভার ইন মেলাকলি’ অনুবাদ করেন ইউলিয়াম ই. ইলিয়ট ও কাজুও কাওয়ামুরা । গ্রন্থটি আমেরিকান বুক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। ৮২ বছর বয়স্ক এই প্রবীণ কবি এখনো কাব্যচর্চাসহ সংস্কৃতি অঙ্গনে সরব। বহির্বিশ্বে তাঁর কবিতা ইংরেজি, ফরাসী, জার্মান, স্লোভাক, ডেনিস, চীনা, মোঙ্গলীয় প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বাংলাদেশের সাহিত্যজগতে ক্ষীণ-পরিচিত এই কবির কাব্যগ্রন্থ ‘তেগামি’ বা ‘চিঠি’র দুটি কবিতা মূল জাপানি থেকে অনুবাদ করেছেন প্রবীর বিকাশ সরকার
তুমি
তুমি আমার পছন্দের মানুষ
তোমার পোশাক বদলানোতে
কখন গ্রীষ্ম এসেছে তা জানতে পারলাম
পথে জরাগ্রস্ত কুকুর আমাদেরকে দেখে স্থির দুপুরে
জনশূন্য শিল্পকলা জাদুঘরে
প্রাচীন ভারতীয় মিনিয়েচার দেখব চলো
বোধিবৃক্ষের তলে আলিঙ্গনাবদ্ধ প্রেমিক-প্রেমিকা যুগল নিশ্চয়ই
আমাদের মতো সমান সুখী এবং বিষণ্ন
তুমি আমার পছন্দের মানুষ—
মরণ পর্যন্ত তোমাকে আমার ভালো লাগবে
ভালোবাসা ভিন্ন—পছন্দ বলে কোনোকিছুর প্রতি
যেকোনো অঙ্গীকার বাক্যই নিষ্প্রয়োজন
আমরা জুলাইয়ের সূর্যের নিচে
শিল্পকলার জাদুঘর থেকে বেরিয়ে শীতল চায়ে তৃষ্ণা মেটাব
নিঃশ্বাস
বাতাস নিঃশ্বাস নিচ্ছে
কানের লতির কাছে
শিশুদের কণ্ঠ ধারণ করে
জলাশয়ে তরঙ্গ তুলে
বাতাস নিঃশ্বাস নিচ্ছে
কীটপতঙ্গ নিঃশ্বাস নিচ্ছে
ঘাসের ওপর বসে
স্বচ্ছ জরায়ু দেখিয়ে
নীলাকাশ দুচোখে ছড়িয়ে
কীটপতঙ্গ নিঃশ্বাস নিচ্ছে
নক্ষত্র নিঃশ্বাস নিচ্ছে
দূরে কোথাও
ঘুমহীন ঘুরপাক খেয়ে
নিঃশব্দে পিট পিট করে
নক্ষত্র নিঃশ্বাস নিচ্ছে
মানুষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে
একলা একাকী
যন্ত্রণা উদ্গীরণ করে
বিষণ্নতা টেনে নিয়ে
মানুষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে
