মীমাংসাতত্ত্ব
নির্জন রেলিঙে চুল-মেলা দেখে
মেলাটুকু ভালো লেগেছিল।
মেলাটাকে অতটা লাগে না।
মেলামেশা ভালো লাগে, মিশে যাওয়া ভালো লাগে না
যাওয়াটুকু নয়নাভিরাম, চলে যাওয়া ভালো লাগে না।
তুমি যদি যাও — তারপর তো ঠিকই চলে যাবে
এ জন্যে যাই না আমি। তুমিও যেও না
পাণ্ডুলিপি
এখনও তো পাণ্ডুলিপি! যথাযথ প্রকাশিত হও নি এখনও।
অসতর্কতার ভান করে, কেন দিচ্ছ মৃদু বিজ্ঞাপন?
প্রুফ-রিডারের কাছে এসবের কোন মূল্য নেই। তোমার
প্রকৃত-পাঠক হলো ঘুণপোকা—তুমি দেখে নিও
মোড়ক-উন্মোচন
গ্রন্থের মোড়ক-উন্মোচন দেখলেই শিউরে উঠি,
তোমার কথা মনে পড়ে
যার প্রতিটা পৃষ্ঠায় আমি মিশে গিয়েছিলাম।
বইটি কে যেন মেরে দিয়েছে। তবু
পেলে আরেকবার পড়া যেত।
তনুশ্রীর বান্ধবী ও একজন লেখক
হঠাত্ পড়েছে চোখ চতুর্থ প্রচ্ছদে
তানপুরা ঢেউ তোলে। তার পেছনে পেছনে
মেয়াদ-উত্তীর্ণ একজন। ধ্যানী বিড়ালের চোখে
মায়াবী প্রচ্ছদপট, মজবুত বাঁধাই; শিরোনাম চট করে চোখে পড়ে।
অফসেট-ত্বকের আভায়
প্রবীণ আঙুলগুলো হাত থেকে খসে যেতে চায়।
একে একে বাতি নেভে, এসব দৃশ্যের পোকা ওড়ে;
ঘরে ফেরে বর্ষীয়ান লেখকের ক্লান্তছায়া,
তার অপেক্ষায় থাকে প্লেটে-ঢেকে-রাখা ঠাণ্ডা ভাত।
শাদা চুল
মেলায় অনেকে যায়, ছোটবড় অনেকেই যায়
মেলায় মায়েরা যায়, একদিন মেয়ে ছিল যারা
মেলায় বাবারা যায়, একদিন ছেলে ছিল যারা
ছেলে যায় মেয়ে যায়, যেতে যেতে বুড়িয়েও যায়
তাদের স্মৃতিও যায়। তবু
পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে বুড়োদের দেখাদেখি বেশিক্ষণ জীবিত থাকে না।
তিরিশ বছর পরে, স্মৃতিকে বাসায় রেখে, তুমি আসবে কি?
—আমরা দু’জনে মিলে পুরোনো কবিতা থেকে শাদা চুল পাই কিনা দেখি
