প্রত্যেক মুসলমান যেন নিজেদের সৌহার্দ বজায় রেখে দেশকে ভালোবাসে সে জন্য তিনি ঘোষনা করেছেন-'তুমি মুমিনদেরকে পারস্পরিক করুণা প্রদর্শন, পারস্পরিক প্রেম-ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সহানুভূতি প্রদর্শনের দিক দিয়ে একই দেহের ন্যায় দেখতে পাবে। যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ কষ্ট অনুভব করে তখন গোটা দেহই জ্বর ও নিদ্রাহীন অবস্থায় সাড়া দেয় (বুখারি ও মুসলিম)। দেশের শান্তি ও নিরাপত্তারক্ষায় স্বচেষ্ট হওয়া, দেশকে ভালোবেসে নাগরিক হিসেবে সক্রিয় থাকা একজন ইমানদারের কর্তব্য ও দায়িত্ব। তাই দেশের জন্য আমাদের করণীয় হল, নিজেকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।দেশপ্রেম প্রসঙ্গে নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য একটি সচেতন ধারণা প্রত্যেকেরই থাকা চাই। সামাজিক ক্ষেত্রে একজন নাগরিক যেসব অধিকার ভোগ করে তার অন্যতম হল বেঁচে থাকার অধিকার। সম্পদ অর্জন ও ব্যয়, ভোগ-ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলাম নাগরিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। কারো সম্পদে অন্যায় হস্তক্ষেপ ইসলাম সমর্থন করে না। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কর না (সূরা বাকারা : ১৮৮)। ইসলামে দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেয়ার কথা বলা হয়েছে। নববী আদর্শে গড়া সাহাবায়ে কেরামও স্বদেশকে খুব ভালোবাসতেন। হিজরতের পর মদিনায় হজরত আবু বকর (রা.) ও হজরত বেলাল (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তাদের মনে-প্রাণে স্বদেশ মক্কার স্মৃতিচিহ্ন জেগে উঠেছিল। তারা জন্মভূমি মক্কার দৃশ্যাবলী স্মরণ করে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। এ অবস্থায় নবী করিম (স.) সাহাবিদের মনের এ দুরবস্থা দেখে প্রাণভরে দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমরা মক্কাকে যেমন ভালোবাসি, তেমনি তার চেয়েও বেশি মদিনার ভালোবাসা আমাদের অন্তরে দান করুন (বুখারি শরিফ)। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌম রক্ষায় রাসুলুল্লাহ (স.) যখন আহ্বান করেছেন সাহাবায়ে কেরাম সর্বোতভাবে এ ডাকে সাড়া দিয়েছেন। তারা জানতেন, নিজেদের বিশ্বাস, আদর্শ ও দ্বীন-ধর্মমত প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্বাধীন ভূখন্ড প্রয়োজন। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য তারা যেমন আন্তরিক ছিলেন, তেমনি নিবেদিত ছিলেন দেশপ্রেম ও দেশের স্বাধীনতা র্ক্ষায়। প্রকৃতিগতভাবে মানুষকে স্বাধীন করে সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রত্যেক মানুষ মাতৃগর্ভ থেকে স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে। আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে মানুষের জন্য এটাই স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। স্বাধীনতা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ব্যক্তি,সমাজ,রাষ্ট্রের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে প্রতিনিধি হিসেবে অশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীবরূপে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে ইজ্জত দিয়ে সম্মানিত করেছেন। মানুষ সৃষ্টিগতভাবে স্বাভাবিক এবং সংগত কারণে স্বাধীনকরে ইচ্ছা শক্তি দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন শরিফে বলা হয়েছে, ‘যে মুক্ত করে তাদেরকে তাদের গুরুভার হতে ও শৃঙ্খল হতে যা তাদের ওপর ছিল, সুতরাং যারা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং যে নূর তাঁর সাথে অবতীর্ণ হয়েছে এর অনুসরণ করে তারাই সফলকাম’ (সূরা আল-আরাফ: ১৫৭)।
লেখক :সহকারী অধ্যাপক,
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
