মু খো মু খি

অভিনয়ের গ্রামার আমিও জানি না

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৩, ১৯:৫৪
আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন... বর্তমান ব্যস্ততা আসলে ডেইলি সোপ নিয়েই। কয়েকটা ডেইলি সোপ প্রচার হচ্ছে, অনেকগুলোর কাজ করছি। এর মধ্যে প্রচার হচ্ছে ‘মেঘের খেয়া’, ‘অগ্নিপথ’। এর মধ্যে বেশ কয়েকটা সিরিয়ালের কাজ ধরেছি। এগুলো হচ্ছে ‘মুসাফিরখানা’, ‘জ্যোতিষবিদ টিপু সুলতান’, ‘সং সূত্র’, ‘থ্রি কমরেডস’। ডেইলি সোপের শুটিংয়েই মাসে প্রায় বিশ দিনের মতো চলে যায়। বাকি দিনগুলো আমি স্ক্রিপ্ট চর্চা, ক্যারেক্টারাইজেশন এবং নিজের ব্যক্তিগত কাজ ও বিশ্রামের জন্য প্রয়োজন হয়। তাই এই সময়টাতে অন্য কোনো নাটকে কাজ করি না। তবে হ্যাঁ, খুব ভালো স্ক্রিপ্ট পেলে মাঝেমধ্যে এক ঘণ্টার নাটকে কাজ করি। একাধিক ধারাবাহিকে কাজ করছেন, ধারাবাহিকের কাজের রেসপন্স ভালো নাকি এক ঘণ্টার নাটকের রেসপন্স ভালো? আসলে ধারাবাহিক বা এক ঘণ্টা বলে আমি ওইভাবে হিসাব করে কাজ করি না। ভালো কাজ হলে সেটা যাই হোক না কেন, ফিডব্যাক সব সময়ই পেয়েছি। এমনও অনেক সিরিয়াল করেছি, যেটা কেউ দেখেই না। আবার দেখা গেছে যে, লাভলু ভাইয়ের নাটকটি মোটামুটি ৬০ শতাংশ দর্শক দেখেছে, ‘গুলশান এভিনিউ’ নাটকটিও এ রকমই। এমন অনেক নাটক করেছি যা কেউই দেখেনি। আবার কিছুদিন আগে একটা নাটক করলাম ‘সখিনা বিবির গল্প’, প্রচুর রেসপন্স পেয়েছি। ‘কলেজ টুডেন্ট’-এ ছিল বিশাল রেসপন্স। ইদানীং ছোটপর্দার অনেকেই চলচ্চিত্রে ভিড়ছে, আপনাকেও দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি? আসলে বড়পর্দায় কাজ নিয়ে আমার একাধিকবার কথা হয়েছে। কেন জানি আমার হয়ে উঠছে না। হয়তো আমি এখনও মেন্টালি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারিনি। এর মধ্যে চাষী আঙ্কেলের সঙ্গে একটা ফিল্ম এবং বিপ্লব হায়দারের সঙ্গে একটা ফিল্ম নিয়ে কথা হয়েছে। ডেটও প্রায় ফাইনাল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিজে থেকেই করা হয়নি। মনে হলো যেন, ফিল্মের জন্য আমি এখনও প্রস্তুত না। নিজেকে আরও একটু গড়ে তুলতে চাই। অনেকেই একের পর এক নাটকে অভিনয় করেই যাচ্ছেন, কিন্তু আলোচনায় আসতে পারছেন না কেন? আমিও যে গতানুগতিক কাজ করি না, তা না। মাঝে মাঝে করতে হয় আমাদের। একসঙ্গে অনেকগুলো প্রোডাকশনের মাঝেও রিকোয়েস্ট থাকে যে, ‘করে দাও’ তখন করি। আমি মনে করি, কাজের জায়গায় আরও একটু সিলেক্টিভ হওয়া উচিত। বছরে হয়তো একটা কাজ করব কিন্তু সেটা যেন ভালো কাজ হয়। কাজের মতো কাজ হলে একটাই যথেষ্ট। আর যদি ভালো না হয়, তাহলে প্রতিদিন করলেও কোনো লাভ নেই। এখনকার অভিনয়শিল্পীদের অধিকাংশই অভিনয় নিয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না নিয়েই কাজ করছে। অভিনয়ের সঙ্গে নাচেরও একটা ওতপ্রোত সম্পর্ক আছে, অধিকাংশ শিল্পী নাচও জানেন না। এটা ক্যারিয়ারে কী রূপ প্রভাব ফেলে বলে মনে হয়? আসলে আমি মূলত নাচের মেয়ে, আমি নিজেও অভিনয় শিখিনি আগে। অভিনয়ের গ্রামার হিসেবে মনে হয় কিছুই জানি না। নাচের মধ্যে যেমন অঙ্গভঙ্গি, মুদ্রা ইত্যাদি থাকে অভিনয়েও তেমন অছে। নাচ ও অভিনয়ে ভালোভাবে শিখেই আমি মনে করি অভিনয়ে আসা উচিত। তাহলে ক্যারিয়ারে তার পথটা অনেকটা সুগম হয়। নাচের বিষয়গুলো আমি নাটকে মাঝে মাঝে কাজে লাগাতে পারি। থিয়েটার বা মঞ্চে যারা কাজ করেন তাদের সবাইকেই আমি অনেক সম্মান করি। যখনই শুনি তিনি মঞ্চ বা থিয়েটার থেকে এসেছেন তাদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করি। কারণ তারা অভিনয়ের নারী-নক্ষত্র সবই জানে। আরেকটা জিনিস আমার অভিনয়টা শুরুই হয়েছে লাভলু ভাইয়ের নাটকে কাজ করে। আর তিনি থিয়েটারেরই লোক। আমার আশপাশে অনেকেই আছেন যারা থিয়েটারে কাজ করে এসেছেন। নিয়মিতই আমি শেখার চেষ্টা করি তাদের কাছ থেকে।