ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রোধে ওবামা-নেতানিয়াহু ঐকমত্য

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৩, ২০:৫১
ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ এবং দেশটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত বুধবার রাতে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা একথা জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গেও ওবামার বৈঠকের কথা রয়েছে। ওবামা বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্যে একমত হয়েছি। ইরানকে পরমাণুসমৃদ্ধ হওয়া থেকে বিরত রাখতে আমাদের কোনো কর্মপন্থা নেই। সবধরনের বিকল্পই আমাদের হাতে আছে। এর আগে বুধবার সকালে ইসরাইলে পৌঁছার পর তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বড় কোনো বন্ধু নেই ইসরাইলের। ইসরাইলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হতে পেরে আমরা গর্বিত। এই পবিত্র ভূমিতে অবশ্যই শান্তি আসবে। তিনি আরো বলেন, যদিও জটিলতাগুলো আমরা স্পষ্টভাবে দেখছি কিন্তু তারপরও প্রতিবেশীর সঙ্গে ইসরাইলকে শান্তিতে থাকার দৃষ্টিভঙ্গি আমরা ত্যাগ করব না। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ইসরাইলের পাশে থাকবে। আমাদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই একসঙ্গে থাকতে হবে। এছাড়া, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ওবামার প্রথমবার ইসরাইল সফরে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে উভয় নেতা জানিয়েছেন। ওবামার বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ওবামা যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেজন্য তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ হতে ইরানের খুব বেশি সময় লাগবে না। তাই দেশটির ওপর অবরোধ আরোপ এবং পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একমত হয়েছে। যেকোনো হুমকি মোকাবেলা করে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসরাইলের অধিকারের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থনের জন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এর আগে বুধবার বিকেলে ইসরাইলের বেনগুরিয়ান বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে বারাক ওবামা ইসরাইলের ‘আয়রন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরিদর্শনে যান। প্রথম মেয়াদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ওবামা ইসরাইল সফর করেননি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ইহুদি লবি অভিযোগ তোলে— ওবামা ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক নন।