সামপ্রতিক সময়ে বিএনপির সমর্থনে জামায়াত-শিবির চক্র সারাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, মন্দির, শহীদ মিনার ভাঙচুর, জাতীয় পতাকা অবমাননাসহ যেসব আগ্রাসী এবং সহিংস কার্যক্রম ঘটিয়েছে অবিলম্বে তার পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশের দবি করা হয়েছে। বুধবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সামপ্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের আলোচনা সভায় এ দাবি করা হয়। ‘দেশব্যাপী অব্যাহত সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার ভবিষ্যত্ জাতীয় নির্বাচন ও তালেবানী রাষ্ট্র’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় রায়। আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যু সংবাদে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শুরুতেই সামপ্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের কার্যকরী পরিষদের সদস্য সালেহ আহমেদ আলোচনা সভার উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন—বাংলাদেশে ক্ষমতা বদলের সময় এলে, নির্বাচন এগিয়ে এলে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বেড়ে যায়। যাতে তারা দেশত্যাগে বাধ্য হয় এবং ভোটে তার প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির বিমল বিশ্বাস বলেন— এই দেশটি সকল সমপ্রদায়ের । তাই ’৭১’র মতো সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করে দেশত্যাগে বাধ্য করবেন না।
সূচনা বক্তব্য রাখেন অজয় রায়। তিনি একটি পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে বলেন- অব্যাহতভাবে সংখ্যা্লঘুদের জানমালের উপর আঘাত আমাদের ’৭১’র কথা মনে করিয়ে দেয়। স্বাধীন দেশে প্রতিদিন সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি. উপাসনালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যেতে পারে না। কিন্তু পুড়ছে। আমরা এই অবস্থা আর দেখতে চাই না। বিএনপি-জামায়াতকে সহযোগিতা করে এই তাণ্ডব বাড়িয়ে চলেছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে থানার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের সামপ্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করি। আমরা জানি ঐসকল এলাকায় রাজনৈতিক দলরা ১৯দিন পরে যায়, এমনকি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থাও ততদিন করা হয়নি। আলোচনা সভার ধারণাপত্র পাঠ করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারেক আলী। তিনি বলেন—সাঈদীর মামলার রায়ের পর দেশকে একটি পশ্চাত্পদ মধ্যযুগীয় ধাঁচের তালেবানী রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীসহ কতক ইসলামী দল দেশব্যাপী সশস্ত্র হামলা শুরু করে। এটা তাদের পুরোনো খেলা। আর এই কাজে জামায়াতের সাথে বিএনপি আরও শক্তিশালী ও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনের একবছরের কম সময়ের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর,অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি বিধানের দাবির আন্দোলনের বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহিতা ও সহিংস কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দিকে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সর্বাগ্রে দেশের তালেবানীকরণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। বক্তরা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজিব হত্যার পর তাকে নাস্তিক বানানোর চেষ্টা করা হয়। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির আনিসুর রহমান মল্লিক, গণঐক্যের এস এম সবুর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সরওয়ার আলী এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নেতৃবৃন্দ।
