প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। দুপুর দেড়টায় রাষ্ট্রপতিকে শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গভবনে যান প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান যুগে জিল্লুর রহমানের মতো মানুষ হয় না। তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে ছিলেন প্রিয় মানুষ। তাঁর মতো রাজনীতিবিদ বিশ্বে বিরল। বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটে তাঁর বড়ই প্রয়োজন ছিল। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কফিনের কাছে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে দেশ অভিভাবক হারিয়েছে, কিন্তু আমি আর রেহানা যে কী হারিয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। তিনি বলেন, যে মুহূর্তে উনার (জিল্লুর রহমান) নেতৃত্বের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, সে সময়ই তিনি চলে গেলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিল্লুর রহমান ধীরস্থিরভাবে সবধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারতেন। বিভিন্ন রকম উত্থান ও পতনের মধ্যে তিনি দলের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বঙ্গভবনের দরবার হলে যখন সর্বস্তরের মানুষ প্রয়াত রাষ্ট্রপতিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন, তখন কিছু দূরে বসে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহানা, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের আরো বলেন, আজকের দিনে কিছু বলার মতো মানসিক অবস্থা নেই। রাষ্ট্রপতির জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, যে যেখানে যে অবস্থায় আছেন, তাঁর জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ্ যেন তাঁকে বেহেশতের সবচেয়ে সুন্দর স্থানে রাখেন, এই দোয়া করি। এ সময় শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে জিল্লুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির স্ত্রী আইভি রহমানকে আমরা ‘আইভি চাচী’ বলেই ডাকতাম। বিপদে আপদে সবসময় তিনি আমাদের খবর নিতেন।
দলের প্রতি জিল্লুর রহমানের আনুগত্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চরম দুঃসময়ে দলের হাত ধরে তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা চাই এ গণতন্ত্র অব্যাহত থাকুক। ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমান নিহত হওয়ার পরও দলের কার্যক্রমে জিল্লুর রহমান সক্রিয় ছিলেন। তিনি শোকে মুহ্যমান ছিলেন, তারপরও যখন ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে, তখন তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে সব দলকে সম্পৃক্ত করার কৃতিত্ব জিল্লুর রহমানকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তাঁকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করলেও সকলের কাছেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। আমাদের সকলের কাছেই তিনি ছিলেন মুরব্বি। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত তাঁর কাছ থেকে নিতাম। কিন্তু আজ আমার সে জায়গাও থাকল না।
