রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের মরদেহ আজ তার জন্মভূমি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নেয়া হবে। ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে সামরিক হেলিকপ্টার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভৈরব স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। তারপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে স্থানীয় হাজী আসমত কলেজ মাঠে। সকাল ৯টায় ওই মাঠে রাষ্ট্রপতির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দলমত নির্বিশেষে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় রাষ্ট্রপতিকে শেষবারের মতো দেখতে এবং তার জানাজায় অংশ নিতে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। জানাজা শেষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাষ্ট্রপতির মরদেহ হেলিকপ্টার যোগে আবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সিদ্দিকুর রহমান জানান, রাষ্ট্রপতির জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। এজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির।
শোকে স্তব্ধ ভৈরব
গত বুধবার রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে ভৈরবে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবনসহ দলীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ভিড় জমান। সরকার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করায় গতকাল সকাল থেকেই উপজেলার সকল অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। কালোব্যাজ ধারণ করেন সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দলীয়ভাবে শোকর্যালি, মিলাদ, কোরআন খতম ও বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভৈরব বাজারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিকালে স্থানীয় কার্যালয়ে মিলাদ শেষে একটি শোকর্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
স্থানীয় কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সর্বস্তরের মানুষসহ গ্রামের সাধারণ নারীরাও তাদের প্রিয় জিল্লু ভাইকে হারিয়ে শোকাহত। অনেক বাড়িতে রান্নাও বন্ধ হয়ে গেছে। চারিদিকে শুধুই শোকের মাতম। মানিকদী গ্রামের গৃহবধূ শোভা বেগম বললেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মরার খবর শুইনা রাইতে ঘুমাইতে পারছি না। আমগো খাওন-দাওনও বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা আর এই বালামানুষটারে কি আর পামু!’ ভৈরবের গ্রামে গ্রামে শোভা বেগমের মতো এমন আহাজারিই করছে মানুষ।
শেষ ইচ্ছে পূরণ করার দাবি
তবে শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ভৈরবকে জেলা ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের শেষ ইচ্ছেটুকু পূরণ করার দাবি জানিয়েছেন। এটা বাস্তবায়ন হলেই এ মহান নেতাকে হারানোর বেদনা তাদের কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে মনে করছেন ভৈরববাসী।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর বলেন, ‘প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্বপ্ন ছিল ভৈরবকে জেলায় উন্নতি করা। কিন্তু তার শেষ ইচ্ছেটুকু পূরণ হল না। আমি ভৈরববাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, তিনি যেন রাষ্ট্রপতির এই ইচ্ছেটুকু পূরণ করেন।’ একই আহবান জানালেন স্থানীয় রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এই ইচ্ছেটুকু পূরণ হলে তার বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে বলে আমরা মনে করি।’
