ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে ইন্তাজ আলী মণ্ডল (৩০) নামে এক গ্রামবাসী নিহত ও ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সংঘর্ষে ৮ পুলিশ আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৪ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি মহেশপুরে জামায়াত-শিবিরের পুলিশের উপর হামলা মামলার আসামি ধরতে ৯টি গাড়িতে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি অপারেশনে যায়। নেপা ও কাজীরবেড় ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করে। আইন-শৃংখলা বাহিনী দারিয়াপুর গ্রামে অভিযান শুরু করলে মসজিদের মাইকে গ্রামবাসী ডাকাত ডাকাত বলে ডাকাডাকি শুরু করে। গ্রামবাসী জড়ো হয়ে পুলিশকে ঘিরে ফেলে হামলা শুরু করে। পুলিশ হ্যান্ডমাইকে নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দিতে থাকে। তারপরও তারা পুলিশের উপর হামলা করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করে। এতে একজন মারা গেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে ৮ জন পুলিশ আহত হয়েছে বলে তিনি জানান। পুলিশের গাড়ি ভাংচুর হয়েছে।
নিহত ইন্তাজ আলীর স্ত্রী সান্ত্বনা বেগম ও মা বেগম জানান, ইন্তাজ আলী ক্ষেতে সেচ দিচ্ছিলেন। পুলিশ বাড়ির পাশে কয়েকজনের বাড়ি ভাংচুর করছিল। মসজিদের মাইকে লোকজনের চিত্কার ও ডাকাত পড়ার কথা শুনে হুদার মোড়ে এগিয়ে গেলে পুলিশের গুলিতে মারা যায়। মা ও স্ত্রী জানান, ইন্তাজ আলী কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিল না।
প্রবীণ গ্রামবাসী সাইফুদ্দিন মল্লিক জানান, পুলিশ গ্রামে ঢুকে গ্রামবাসীর উপর হামলা চালায়। তারা বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে। তাদের গুলিতে ইন্তাজ আলী নামে একজন নিহত হয়। আরো ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের চৌগাছাতে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। নিহত ইন্তাজ কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিল না বলে তিনি জানান।
মহেশপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, নিহত ইন্তাজ আলী নাটিমা ইউনিয়ন যুবদলের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পুলিশ জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের বাড়িঘরে রাতে হানা দিয়ে ভাংচুর করছে। পুলিশের ভয়ে মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে তিনি জানান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, পুলিশ ৫৫ রাউন্ড শটগান ও ৩০ রাউন্ড রাইফেলের গুলিবর্ষণ করে। নিহতের লাশ তার বাড়িতে রয়েছে বলে তিনি জানান।
