পাথরের নামে সিমেন্ট বালির শিল-পাটা, হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৩, ২৩:১০
আদিকাল থেকেই রান্নার হলুদ,মরিচ, জিরা প্রভৃতি মশলা বাটার জন্য পাথরের শিল-পাটা ব্যবহার হয়ে আসছে । এক একটি পাথরের পাটায় অনেক দশক কেটে যায়। মশলা পেষার সময় এর সঙ্গে কম করে হলেও পাথরের গুঁড়ো কিঞ্চিত্ মিশে যায়। আদি ও কৃত্রিম পাথরের পাটায় গুঁড়ো মশলা পেটের ক্ষতি করে না। পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশের আধিবাসীরা খুব দীর্ঘজীবী হয়। গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, তারা তাদের খাবারের সঙ্গে পাথরের গুঁড়ো মিশ্রিত করে খায় বলে তারা দীর্ঘজীবী হয় এবং তাদের পেটের কোন পীড়া নেই। ভারতের কাশ্মীর, লাদাক প্রভৃতি পার্বত্য অঞ্চলের লোকেরা এই প্রথায় অভ্যস্ত বলে দীর্ঘজীবী হয়। এটা গবেষণাগারে পরীক্ষায় ধরা পড়েছে। আসলে ওই পাথর গুঁড়োর সঙ্গে অজান্তে খনিজ লবণ ও অন্যান্য ধাতু খাদ্যে মিশে তা পেটকে অন্যান্য পীড়া থেকে মুক্ত রাখতে বিরাট ভূমিকা পালন করে। পর্বতের পাথর কেটে পাটা তৈরি হয়। কিন্তু কালিয়াকৈরের বিভিন্ন বাজারে তথা দেশের গ্রামাঞ্চলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে পাথরপাটা বিক্রি হচ্ছে তার এক তৃতীয়াংশই সিমেন্ট, বালির সংমিশ্রণে তৈরি হয়ে বাজারজাত হচ্ছে। পাথরের পাটার অর্ধেক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। ওই কৃত্রিম পাটার মূল্য কম বলে এগুলোর ব্যবহারও বেশি। মশলা পেষার পাটার বেশিরভাগ প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানি হয়। সিমেন্ট বালির পাটায় সিমেন্টের ক্ষতিকর রাসায়নিক চূর্ণ খাদ্যে সকলের অগোচরে স্লোপয়জন হিসাবে কাজ করে চলেছে। সিমেন্টের পাটায় পেষা মশলা খেয়ে দেশের হাজার হাজার লোক গ্যাস্ট্রিক ও বহুবিধ আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত। নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।