অর্থনীতির অগ্রযাত্রা নিষ্কণ্টক করতে হবে

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৩, ১৬:৩৯
বাঙালি কথা বলতে খুব পছন্দ করে। ঠিক ততোটাই অধৈর্য দেখায় কারো কথা শুনতে। এর ভৌগোলিক বা উত্পত্তিগত কোনো ব্যাখ্যা নেই। তবে এর প্রমাণ ভূরি ভূরি। ১৫ কোটি মানুষের দেশে ১০ কোটি সিমকার্ড বিক্রি হয়ে গেছে। অনেক দেশেই শিশুদের নামে সিম রেজিস্ট্রেশনের কোনো বিধান নেই। বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটররা তা মানে বলে মনে হয় না। কৃষক, মাসিক দুঃস্থ ভাতা গ্রহীতা, বেকার সবার হাতে মোবাইল ফোন আছে। ভিক্ষাবৃত্তি যার পেশা তারও লুঙ্গি বা কাপড়ের কোঁচায় একটা মোবাইল ফোন থাকে। নিরাপত্তাকর্মী গাড়ি পরীক্ষা করছে ওদিকে ফোনে কথা বলছে। নরসুন্দর তার কর্ম করতে করতে মোবাইল ফোনে গ্রামে রেখে আসা পরিবারের খোঁজ-খবর নিচ্ছে। গাড়িচালক ফোনে কথা বলছে একপা এক্সেলারেটরে রেখেই। গাঁটের পয়সা খরচ করে এই যে কথা চলছে তার বেশির ভাগই অপ্রয়োজনীয়। কিন্তু স্বভাব বলে কথা। তাই কথা বলতেই হবে। টিভি চ্যানেলগুলোর টক শোতে একজন আরেকজনের কথা থামিয়ে দিয়ে নিজে কথা বলার প্রতিযোগিতা দেখা যায়। সঞ্চালককে গলদঘর্ম হতে হয়। প্রবাদ আছে, তিনজন বাঙালি একসাথে হলে বাজার সৃষ্টি করতে পারে। আর চারজন হলে তা হাটে পরিণত হয়। কথা বলার সময় আমরা নিজের সামর্থ্য ও অবস্থানের কথা বেমালুম ভুলে যাই। সাহিত্যের ছাত্র হয়েও জটিল কিডনি রোগ থেকে আরোগ্যলাভের উপায় বলে দিচ্ছে অবলীলায়। সাংবাদিকতায় কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাতে কী! নিউজের হেডলাইন কি হবে, কোন্ কোন্ বিষয় নিউজ হবে তা বেশ আস্থার সাথেই বলছেন। বাঙালিমাত্রই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তাই অর্থনীতি, চিকিত্সা বিজ্ঞান, প্রকৌশল, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে বিশেষজ্ঞ মতামত দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করে না। এতে বিন্দুবিসর্গ জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও। আর রাজনৈতিক আলোচনায় তো সবাই বিশারদ। কোন্ নেতার কোন্ মন্তব্যটা দশ বছর পর বুমেরাং হবে তা রিক্সাওয়ালা বা বাসের কন্ডাক্টর তাত্ক্ষণিকভাবে বলে দিতে পারে। বিজ্ঞজন যা জানেন বা জানা থাকা উচিত তা নিয়ে তো বলছেনই। যা জানেন না বা তার আওতার বাইরে সে বিষয়েও বলছেন। প্রতিদিনই এ নিয়ে বিপত্তি হচ্ছে। কিন্তু কেউ থামছে না। এই বাকপটু বাঙালি জাতির সম্প্রতি একটি ক্ষেত্রে ছন্দপতন ঘটেছে। তা হচ্ছে অর্থনীতি। কয়েক মাস আগেও সভা, সেমিনার, টক শো, সাক্ষাত্কার, রাজনৈতিক আলোচনা, চায়ের টেবিল, রিক্সাওয়ালা ও তার যাত্রীর আলাপচারিতায় বড় বিষয় থাকতো অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে। টক শোতে অংশগ্রহণকারীরা তো টেবিল ভেঙ্গে ফেলার উপক্রম ঘটাতো। অর্থনীতির যে বারোটা বাজতে যাচ্ছে তা প্রমাণ করতে গিয়ে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়তেন। এ আলোচনায় অংশ নিতে বা সঞ্চালক হতে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হওয়ার প্রয়োজন নেই। সঞ্চালক, অংশগ্রহণকারী কারো কাছেই কাউকে জবাবদিহি করতে হয়নি। কারণ এ আলোচনায় কোনো ভিন্ন মতাবলম্বী নেই। সবাই একমত যে দেশের অর্থনীতি রসাতলে যাচ্ছে। এক বিশ্লেষকের মুখ থেকে এমন কথাও শুনেছি যে আগামী বছর অর্থের অভাবে সরকার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। উন্নয়ন কাজ তো সুদূর পরাহত। কোনো কোনো বক্তা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিত। কিন্তু সেই পরিচিত মুখগুলো এখন আর টক শো ও সভা-সেমিনারে অর্থনীতি নিয়ে কথা বলেন না। কয়েকদিন আগে তাদের কয়েকজনকে দেখেছি জামাতকে নিষিদ্ধ করা ঠিক হবে কিনা এর উপর আয়োজিত একটি সেমিনারে কথা বলতে। অনেকে একে ডিগবাজির পূর্ব লক্ষণ বলে ভাববেন। আসলে যা ইচ্ছে তা অবলীলায় বলে যাওয়ার নতুন ক্ষেত্রটি তারা বেছে নিয়েছেন কথা বলার স্বভাবটা অটুট রাখতে। কথায় আছে, স্বভাব যায় না ম’লে, ইল্লত যায় না ধুলে। ছোটবেলায় শুনেছি মাঠে বক্তৃতা দেয়া সবচেয়ে সহজ কাজ। কারণ এতে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। ভুল তথ্য দিলেও কেউ প্রতিবাদ করে না। আসলে মাঠের বক্তৃতা কেউ মনোযোগ দিয়ে শুনে না। শোনার অভ্যাস নেই। বাঙালির এ অবিচল বৈশিষ্ট্য সত্ত্বেও সম্প্রতি এর বিপরীতটাও দেখা গেছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে এক সমাবেশে বলেছেন যে আন্দোলন করতে গেলে হয়তো আরও কিছু প্রাণহানি হবে। জান-মালের ক্ষতি হবে। কিন্তু দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে এই ক্ষতি মেনে নিতে হবে। তার এ কথায় দেশে সমালোচনা হচ্ছে। এটি নিছক রাজপথের বক্তব্য বলে মেনে নেয়নি কেউ। বেশি কথা বলতে দিলে লাভ এখানেই। মনের গহীনে যে ইচ্ছেটা লুকিয়ে রাখা হয় তাও বেরিয়ে পড়ে। বাঙালি তাতেও দমে না। বলে, নেংটার কি বাটপারের ভয়। তাই কথা আমি বলেই যাবো। কিন্তু হঠাত্ করেই অর্থনীতি নিয়ে কথা বলার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। চলুন, এর কারণটা উদঘাটন করি। সামষ্টিক অর্থনীতিতে একডজনের বেশি সূচক আছে। এগুলোর কোনো একটি সূচকের ইতিবাচক বা নেতিবাচক গতিধারা দিয়ে পুরো অর্থনীতি বিচার করা যায় না। কয়েকটি সূচক একসাথে বিবেচনায় নিতে হয়। দেশ, অর্থনীতির আকার, সরকারের নীতি, কল্যাণ ও উন্নয়ন কৌশল ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে কোন্ সূচকটি অগ্রাধিকার পাবে। যুক্তরাষ্ট্রে পুঁজিবাজার, মূল্যস্ফীতি, জিডিপি ও কর্মসংস্থান এ চারটি সূচককে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়। যেমন গত কোয়ার্টারে যুক্তরাষ্ট্রে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিক ছিল। পুঁজিবাজার চাঙ্গা ছিল। বেকারত্বের হারও ৭ দশমিক ৭-এ নেমে এসেছে। তাই অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন যে জিডিপি ঋণাত্মক হওয়াটা সাময়িক। অচিরেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে। যদিও সরকার ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে ১০ বছর আগে প্রণীত আইন বাস্তবায়ন শুরু করেছে। আবার আফগানিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার প্রায় ১৬ শতাংশ। কিন্তু দেশটিতে মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী। বেকারত্ব প্রকটতর হচ্ছে। সার্বভৌম ঋণ বাড়ছে। তাই বিশ্লেষকদের মতে, আফগাস্তিনের অর্থনীতি ভবিষ্যতে আরো দুর্বল হবে। ইউরোজোনে বেকারত্বের হার ২০ শতাংশের বেশি। মূল্যস্ফীতির হার স্বাভাবিক আছে। ১ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত পাঁচ কোয়ার্টার অর্থাত্ সোয়া বছর ধরেই ঋণাত্মক। তাই বিশ্লেষকরা ইউরোজোনের ভবিষ্যত্ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশ ভেদে কোনো কোনো সূচককে কম বা বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। যেমন, ভোক্তার আস্থা সূচক উন্নত দেশগুলোতে বেশ গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা হয়। এর ওপর পুঁজিবাজার নির্ভর করে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে ভোক্তাকে আস্থায় নেয়ার বিষয়টি সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্ণয়ে কোনো গুরুত্বই পায় না। আবার উন্নত বিশ্বে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার যেমন ৩ শতাংশের কম থাকে তেমনি তাদের মূল্যস্ফীতির হার গড়ও ২ শতাংশের কম হয়। উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর চিত্র অন্যরকম। তাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এবং মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশের বেশি থাকে। বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল আছে। গত চার বছরের অর্থনৈতিক গতি-প্রকৃতি বিচার করলেই তা ফুটে উঠে। এর পূর্বের দুই বছর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ভীত-সন্ত্রস্ত অর্থনীতি এবং তার আগের পাঁচ বছর “লেজে ফেয়ার” পরিস্থিতি ছিল। ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল। যে যেভাবে পারে আখের গুছিয়েছে। গত চার বছরে শেয়ারবাজার কারসাজি, হলমার্ক ঋণ কেলেঙ্কারী, ডেসটিনির অর্থ আত্মসাতের মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রাতিষ্ঠানিকতা পায়নি। বরং তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক সতর্কতা বেড়েছে। আর্থিক ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হয়েছে। দুর্নীতি করা অনেকদিনের অভ্যেস। কথা বলার স্বভাবের মতো। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তা ঢুকে গেছে। রাতারাতি তো আর মূলোত্পাটন করা যাবে না। আর এটা যে শুধু বাঙালির অভ্যাস তা নয়, সব জাতিই দুর্নীতি করে। অন্তত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট তা-ই বলে। দেশভেদে একটু কম-বেশি এই যা পার্থক্য। কারও চাহিদা এক বছরেই বাড়ি-গাড়িসহ সব ভোগ-বিলাস নিজের করে নিতে। এ নেশা ঠেকাতে দুর্নীতি করা ছাড়া আর উপায় কি! অনেক দেশ দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত শক্ত আইন করেছে। স্বজন-দুর্জন নির্বিশেষে আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে। তাই জনগণ লোভ সংবরণ করেছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েছে। দুর্নীতি কমেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াটি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশও একসময় দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। বিগত চার বছর ধরেই বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশের কাছাকাছি। মুদ্রা ব্যবস্থাপনার তারতম্যের কারণে মূল্যস্ফীতি দু্ই অঙ্কে চলে গেলেও উত্পাদন, ভোগ, রপ্তানি, কর্মসংস্থান প্রভৃতি সূচকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। ফলে গড় প্রবৃদ্ধি হার প্রায় সাড়ে ছয় শতাংশ অর্জিত হয়েছে। অনেকেই বলেছিলেন, প্রবৃদ্ধি হার বাড়ার সাথে সাথে ধনী-গরীব বৈষম্য বাড়বে। অনেকে জিডিপি সূচকের উদাহরণও টেনেছেন। কিন্তু তা ধোপে টেকেনি। দেখা গেছে, সরকার তার আয়ের একটা বড় অংশ বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য ব্যয় করেছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। কৃষিকাজকে লাভজনক করার লক্ষ্যে ভর্তুকি দেয়া, বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নত করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফসল, মত্স্য, পোল্ট্রি-খামার ইত্যাদি ক্ষেত্রে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যুবসমাজ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সহজ শর্তে ঋণ পাচ্ছে। এতে তারা লাভবান হচ্ছে। দেশও খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা পাচ্ছে। গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ, আশ্রয়ন, একিট বাড়ি একটি খামার, কম্যুনিটি ক্লিনিক, দুই বছরের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থান, বিনামূল্যে ও সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সরবরাহ, শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি, নারীশিক্ষা অবৈতনিক করার মাধ্যমে সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষামূলক বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত চার বছরে ৫ কোটির বেশি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা জিডিপি দ্রুত বৃদ্ধির সাথে সাথে জিনিসপত্রের দাম বাড়াটাকে উন্নয়নের অনুসর্গ হিসেবে দেখেন। এটি উন্নয়নের অভিঘাত হিসেবে দেখা দেয় যখন গরীব জনগোষ্ঠী এ উন্নয়নের ছোঁয়া পায় না। ধনী-গরীব বৈষম্য বৃদ্ধি পায়। এখন চীনে যা প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। বাংলাদেশে এমন অবস্থা হয়নি। সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচিগুলো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অপচয় কমিয়ে আনতে পারলে কর্মসূচিগুলো আরও ফলপ্রসূ হবে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিশ্লেষকরাও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা ইনক্লুসিভ গ্রোথ বা সকলের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের কৌশল গ্রহণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বাংলাদেশ এ কৌশল গ্রহণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্যই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় বিশ্ব প্রশংসা করছে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা ঊর্ধ্বগতি হলেও খাদ্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। যা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ভোগীদের স্বস্তি এনে দিয়েছে। এ অবস্থা ধরে রাখতে মুদ্রানীতি ও শুল্ক ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। উত্পাদন ও আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতির মনিটরিং জোরদার করতে হবে। নিত্যপণ্যের স্থানীয় উত্পাদন বাড়াতে হবে। উত্পাদন-প্রণোদনা গ্রহণে উদ্যোক্তাদের উত্সাহী করতে হবে। শস্য বহুমুখীকরণের উদ্যোগগুলোর পূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণকে আরও মাঠমুখী করতে হবে। রপ্তানি আয় মন্থরতা কাটিয়ে আবার উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। জনশক্তি রপ্তানি ও রেমিটেন্স প্রাপ্তি উভয় ক্ষেত্রেই প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। আমদানি কিছুটা কমলেও মূলধনী যন্ত্রপাতি এবং কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বেড়েছে। উত্পাদন প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সেবাখাতেরও প্রসার ঘটেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে। মানুষের আয় বেড়েছে। বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি সূচকই ইতিবাচক ধারায় আছে। এ অবস্থা ধরে রাখা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সাম্প্রতিক সময়ে মেক্সিকো, রাশিয়া, ইউরোজোনের স্পেন, ইতালী, আয়ারল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ ধারা বজায় রাখতে পারেনি। বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক। এ ধ্বংসাত্মক চিন্তা-চেতনা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে এমন পথ সকলকেই পরিহার করা উচিত। জনগণকেও উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টাগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। গণতন্ত্র ও সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। যাতে দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে।