•অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী •
পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস
বারডেম, ঢাকা।
আপনারা তো জানেন শরীরের এই বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলতে হবে শরীর থেকে। স্বাস্থ্যবিদরা বলেন, হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যাবে ৩৫-৫৫ শতাংশ, এমনকি অন্যান্য অসুখ যেমন বহুমূত্র, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমবে অনেক। রক্তের কোলেস্টেরোল, রক্তচাপ, রক্ত শর্করা মান সুস্থিত হবে, স্বাস্থ্য খুব ভালো হবে, একটি ভালো লাগার অনুভূতি আসবে দেহ মনে। এক সময় যখন স্লিম ছিলো শরীর, সুতনকা নামে ডাকতো সবাই, সে সময় যে ড্রেসটি কাঠের ওয়ার্ডরোবে রেখে দেওয়া হয়েছিলো, ধূলো জমেছে যাতে, একে ঝেড়ে ঝুড়ে বের করার সময় হলো। বাড়তি ওজন কেন কমাতে হবে, এতো জানা হলো, এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে কমবে সে ওজন।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ওজন ঝেড়ে ফেলতে এখন এত জটিল ডায়েটিং প্রক্রিয়া আর নেই। গাজরের কুচি, শাক, লতা-পাতা চিবিয়ে দিন গুজরানের দিন শেষ। খুব বেশী ডায়েটিং করে অল্প সময়ে ওজন কমানো যায় হয়ত, কিন্তু এতে শরীরে পুষ্টি ঘাটতি হয়, এ ওজনহানি টিকেও না বেশী দিন। খাদ্য শক্তি দেয় শরীরে। সারাদিন ধরে শক্তির এ যোগান তো চাই। যত বেশী সক্রিয়, যত বেশি পেশী শরীরে, শক্তি চাই তত বেশী। যখন ওজন কমাবার পরিকল্পনা করছেন, তখন প্রতিদিন একটি ক্যালোরি ঘাটতি নজরে আছে। শক্তি যতটুকু পুড়বে, এর চেয়ে কম গ্রহণ করা। শরীরে যদি ঠিকমত শক্তির যোগান না দেন খুব কম ক্যালোরি যদি নেন তাহলে শরীর ক্লান্ত-শ্রান্ত হবে, অনাহার ক্লিষ্ট। এরপরই ক্ষুধা উদ্দীপ্ত হবে এবং গোগ্রাসে গেলার ঘটনা ঘটবে। শক্তির জন্য মরিয়া হয়ে, বঞ্চনা মাথায় নিয়ে, যা ঘটবে তা হলো পিছু হঠা- হারানো ওজন পুনরুদ্ধার- পুরো খাওয়ার অভ্যাস আবার এলো-এবার সেই মেদ থলথল্ শরীর।
সমস্যা সমাধান সহজ। উঁচু এনার্জি খাবার খেলে ক্ষতি নাই-কম চর্বি, বেশী শ্বেতসার, বেশী আঁশ।
পাঁচ রকমের খাদ্য তো আছে-
আলু এবং মিষ্টি আলু
ডাল, শিমের বিচি, মটরশুটি, কিডনি বিন।
লাল চাল, আটা, লাল রুটি।
ফল যেমন আপেল, কলা, জাম, লিচু, তরমুজ, বাঙ্গি, পেয়ারা, শশা।
ননী তোলা দুধ, কটেজ পনির, দধি
এসব খাবার খেয়ে শক্তি তো পাবেনই, জীবনে উদ্দামতাও সঙ্গীে হবে। ‘না খেয়ে’ ওজন ক্ষয়ের হাত থেকেও বাঁচবেন।
রক্ত শর্করা মান থাকবে সুস্থিত।
ভোজন ও উপবাসের নাগরদোলায় চড়লে রক্ত শর্করা চড়াই-উত্রাই হবে খুব বেশী, তখন ক্ষুধা লাগবে প্রচন্ড এবং অতিভোজনে পরিসমাপ্তি।
এগুলো মন ভরানো খাবার। পেট ভরা থাকে অনেকক্ষণ।
প্রতিটি কামড়ে চর্বি খাবারের চেয়ে অন্তত: অর্ধেক ক্যালোরী কম গেলো পেটে। এসব হাই এনার্জি খাবার পেট এত ভরায় যে আর খেতে ইচ্ছেই করবে না।
এ খাবার খেলে এমনিতেই চর্বি খাওয়া হবে কম। যা করতে হবে তা হলো তেলে চপচপ না ভেজে খান। ঘন সসে না ডুবিয়ে খান। এবার বলি ১২ সপ্তায় ১৫ পাউন্ড ওজন হারাবার একটি কৌশল।’ সপ্তাহে ১-২ পাউন্ড হারানো।
দিনে ৫০০ ক্যালোরী কেটে ফেলুন
এক গ্লাস ননী তোলা, সর ছাড়া দুধ খান। (ননীসহ দুধের পরিবর্তে)
এক বাটি মুড়ি, খই, অংকুরিত ছোলা/ খই-দই, ওটমিল।
ফল দিয়ে নাস্তা করলে একটি আপেল (চকলেট, আইচক্রিমের বদলে)
তেলেভাজা খাবারের বদলে/ভাপে সিদ্ধ আলু বা সবজি। সামান্য তেলে ছিটিয়ে সিদ্ধ আলু।
শাক-সবজি সিদ্ধ।
এভাবে ৫০০ ক্যালোরী হারানো যায়। সঙ্গে ব্যায়াম করলে আরো ২০০-৩০০ ক্যালোরী দিনে হারানো যায়। চর্বিও কাটলো। চর্বি খেলে শরীরে জমা হয়। শ্বেতসার খেলে তা পুড়ে যায়। কতটুকু খাচ্ছেন-এর ওজন, মাপ তেমন দরকার নেই। এসব পেট ভরানো, মন ভরানো খাবার খান, যখন মনে হবে পেট ভর্তি খাবেন
না আর। কখন খেতে হবে
তা যেমন জানেন, তেমনি জানেন কখন পেট ভরাট হলো। আহার, ভোজন নাস্তা নিয়ে সৃজনশীল হলো। খই-দই। কোন দিন অংকুরিত
ছোলা সর্ষেতেল ও আদাকুচি নিয়ে। দই-চিড়া-কলা চটকে। পেঁপের ডালনা। সবজির স্যালাড।
ভাপেসিদ্ধ সবজি। সন্ধ্যেবেলা কম চিনি, আটার রুটি দিয়ে সবজি।
যারা গর্ভবতী মহিলা এদের জন্য গোটা দুধ। সর ননী খেলে ক্ষতি নেই। এদের চাই ক্যালসিয়াম। খাওয়া রুচি বদলে-পাল্টে
হূত্ সুখী হবেন।
