বিভাগীয় প্রধান
কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ
কমিউনিটি বেজড্ মেডিকেল কলেজ,
ময়মনসিংহ।
বাবুল সাহেবের (ছদ্মনাম) বয়স ৫৫ বছর। সুস্থ সবল মানুষ। কোন অসুখ বিসুখ নেই। নিজেকে সুস্থই ভাবেন। কিন্তু এক সুন্দর সকালে হঠাত্ করেই তাঁর ‘স্ট্রোক’। ভাগ্যগুণে বেঁচে গেলেন। আপাতত সুস্থ একজন মধ্যবয়সী লোকের হঠাত্ করে কেন এমন হলো?
তাঁর ডাক্তার বলেন, অনেক আগে থেকেই বাবুল সাহেবের উচ্চ রক্তচাপ ছিল কিন্তু তা তার কাছে জানা ছিল না। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকার কারণেই তাঁর এই স্ট্রোকটা হয়েছে। শুরুর দিকেই যদি উচ্চ রক্তচাপ সনাক্ত করা হতো এবং চিকিত্সার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো, তাহলে হয়তো এই এ্যাটাকটা
হতো না।
বাবুল সাহেবের স্ট্রোকের মতো ঘটনা কিন্তু খুব একটা বিরল ঘটনা নয়। আমাদের প্রতি তিন জনের মধ্যে একজনেরই উচ্চ রক্তচাপ আছে। আর উচ্চ রক্তচাপ যাদের আছে তাদের শতকরা ৩০ জনই জানেন না যে তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে। কারণ উচ্চ রক্তচাপের কোন উপসর্গ অনেকের ক্ষেত্রেই থাকে না। তাই উচ্চ রক্তচাপ থাকা সত্বেও তারা সুস্থ বোধ করেন এবং কোন অসুখ আছে বলে মনে করেন না। তবে উচ্চ রক্তচাপ বেশ খারাপ একটা রোগ। কারণ, উচ্চ রক্তচাপের কারণে স্ট্রোক, কিডনির অসুখ ইত্যাদি সমস্যা ঘটে যেতে পারে। যত বেশি দিন ধরে উচ্চ রক্তচাপটা আছে, আর উচ্চ রক্তচাপের মাত্রাটা যত বেশি,
এসব সমস্যা ঘটে যাবার সম্ভাবনা ততটাই বেশি। উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপারে তাই আগে ভাগেই
সাবধান সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে উচ্চ রক্তচাপ হবার সম্ভাবনাও বাড়তে থাকে। বয়স ৩৫/৪০ হলেই উচ্চ রক্তচাপ হবার সম্ভাবনা সবার ক্ষেত্রে যে একই রকম, তা কিন্তু নয়। কারো কারো ক্ষেত্রে বেশি। যাদের শরীরটা মোটা অথ্যাত্ বি.এম.আই ৩০ এর বেশি, যারা একটু বেশি চর্বি জাতীয় খাবার খান, খাবারে লবণ বেশি খান, ধূমপান করেন, যাদের হাঁটাহাঁটি করা বা ব্যায়াম করার অভ্যাস কম, যাদের ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ
আছে বা যাদের রক্তে চর্বির
পরিমাণ বেশি কিংবা যাদের
বাবা মা ভাই বোনদের মধ্যে
কারো উচ্চ রক্তচাপ আছে, যাদের স্ট্রেস বেশি, তাদের উচ্চ রক্তচাপ হবার সম্ভাবনা অন্যদের চাইতে একটু বেশিই। এগুলোকে বলে উচ্চ রক্তচাপ হবার ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’। এই রিস্ক ফ্যাক্টরগুলোর মধ্যে বয়স এবং উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস ছাড়া বাকিগুলো পরিবর্তনযোগ্য বা নিয়ন্ত্রণযোগ্য।যেহেতু অনেকের ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের কোন লক্ষণ নাও থাকতে পারে এবং এরূপ অনির্ণীত উচ্চ রক্তচাপ থাকা অবস্থায় অনেক সময় স্ট্রোকের মত দুর্ঘটনা ঘটেও যেতে পারে, তাই বয়স ৩৫ পেরোলেই ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করিয়ে
নিতে হবে। এটা একটা স্ক্রিনিং টেস্ট। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে দুই বছর পর পর পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। তবে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও কোন রিস্ক ফ্যাক্টর থেকে
থাকলে প্রতি বছরই এরূপ পরীক্ষা করাতে হবে। আর উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শমত
বছরে কয়েকবারই রক্তচাপ
পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।
ওষুধের প্রেসক্রিপশন থাকলে
নিয়মিত ওষুধ সেবন করে যেতে
হবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে
রাখার জন্য। যাদের এখনও
উচ্চ রক্তচাপ
হয়নি, তাদেরকে অবশ্যই পরিবর্তনযোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো খেয়াল রেখে সে হিসেবে জীবন
যাপন করতে হবে।
