সিরাজগঞ্জের বৈশাখী শাড়ির আশাতীত সাড়া ভারতে

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৩, ২১:১৯
আর কিছুদিন পরেই আসছে বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ। তাই তাঁতশিল্প সম্পৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের হাজার হাজার তাঁতি দিন-রাত ব্যস্ত এখন বৈশাখী শাড়ি তৈরিতে। ৬শ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা মূল্যের এসব শাড়ি ইতিমধ্যেই ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বাজার দখল করে নিয়েছে। এদিকে ভারতের তৈরি শাড়ির তুলনায় এদেশের শাড়ি আধুনিক রুচিশীল ডিজাইন সমৃদ্ধ ও উন্নতমানের হওয়ায় ভারতেও রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। সেখানে রফতানি হচ্ছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার পণ্য। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক না থাকায় ব্যবসায়ীরা চাহিদাকৃত শত কোটি টাকার বৈশাখী শাড়ি ভারতের কলকাতা, দিল্লীতে রফতানি করতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলার বেলকুচি, শাহজাদপুর, এনায়েতপুর, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ হস্ত ও ইঞ্জিনচালিত তাঁত রয়েছে। আর এর সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ৮ লাখ মানুষ। এরা মৌসুমভেদে সারা বছরই শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, ধুতি, থ্রি পিছ উত্পাদন করে দেশের মানুষের চাহিদার বড় একটি অংশ মিটিয়ে ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে রফতানি করে আসছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জান্ন, ঈদুল ফিতর, দুর্গা পুজা ও ঈদুল আজহার পর টানা কয়েকমাস ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করে। তবে গত ৫ বছর ধরে বাংলা নববর্ষ উত্সব সম্পৃক্ত হওয়ায় তাঁতিদের কপাল ফিরেছে। তাই পহেলা বৈশাখকে ঘিরে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্নরকমের শাড়ি তৈরি হচ্ছে প্রত্যেকের বাড়িতে। এদিকে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এলাকার তাঁতে উত্পাদিত বৈশাখী কটন, জামদানি, সিল্ক, চোষা, ব্লক ও স্কিন প্রিন্ট শাড়ির ব্যাপক রফতানি হবে এবার ভারতে। কারণ এসব বস্ত্র সে দেশের সুতি কাপড়ের চেয়ে উন্নত, টেকসই, কম মূল্য হওয়ায় কোটি কোটি টাকার শাড়ি এবারের বাংলা নববর্ষে সেখানে রফতানি হচ্ছে। বিশেষ করে এলাকায় যেসব শাড়ি ১৪শ টাকায় কিনতে পাওয়া যায় ঐসব জামদানি শাড়ি ভারতে বিক্রি হচ্ছে ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকায়। জাতীয় কারুশিল্পী পুরস্কারপ্রাপ্ত জেলার এনায়েতপুর থানার খামার গ্রামের “টাঙ্গাইল তাঁত বাজার” কারখানার মালিক তোফাজ্জল হোসেন বাবুল জানান, বৈশাখ উপলক্ষে ভারতের ব্যাপারীরা তার কাছে কোটি টাকার শাড়ি চেয়েছিল। কিন্তু দক্ষ শ্রমিক না থাকায় শাড়ি উত্পাদন ব্যাহত হয়েছে। তাই দিতে পেরেছেন মাত্র ২০ লাখ টাকার শাড়ি। তবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার শাড়ি পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে রফতানি করেছে সিরাজগঞ্জের তাঁতিরা। তিনি জানান, মোটামুটি সব ধরনের শাড়িতে এখন কলকাতার বড়বাজারসহ বিভিন্ন রাজ্য বাংলাদেশি তাঁতবস্ত্রে সয়লাভ। সে দেশের কাপড় ব্যবসায়ীরাও এখন আমাদের এলাকাগুলোতে এসে কাপড় কিনে নিয়ে যাচ্ছে সেখানে। তিনি এদেশের কাপড়ের প্রতি ভারতীয়দের আগ্রহের মূল কারণ হিসাবে জানান, ভারতে যে শাড়ি তৈরি করতে তিনশ টাকা মজুরি লাগে, এদেশের সে টাকার পরিমাণ প্রায় ৭শ টাকা। তাঁতি তোফাজ্জল হোসেন বাবুল শুল্কমুক্তভাবে এদেশীয় তাঁতবস্ত্র ভারতীয় বাজারে প্রবেশের দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু সিরাজগঞ্জ থেকেই এবার ঈদ ও বৈশাখ মিলে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার তাঁতবস্ত্র ভারতে রফতানি হয়েছে। আর এ ধারা আগামীতে আরো অব্যাহত থাকবে। তাই শুল্কমুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা থাকলে তাঁতিদের পাশাপাশি সরকারও বেশি রাজস্ব পেত। বৈশাখী শাড়ি তৈরির এই মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫ শতাধিক স্কিন প্রিন্ট কারখানা গড়ে উঠেছে। প্রতি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে নকশা হচ্ছে ৪ শতাধিক শাড়ির। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে আরো প্রায় ৫ হাজার মানুষের।