পাকিস্তান আমলে এখানে স্থাপিত হয় কোহিনুর জুট মিল। জানা যায়, ১৯৬৪ সালে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে মেঘনার তীরবর্তী এলাকায় প্রয়াত মৌলভী তোফাজ্জল হোসেনের উদ্যোগে ১৭২ বিঘা জমির উপর স্থাপিত হয় এ মিলটি। ১৭শ’ শ্রমিকসহ প্রায় ২ হাজার কর্মচারী নিয়ে মিলটির যাত্রা শুরু হয়। মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন তার জীবদ্দশায় ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দক্ষতার সাথে মিলটি পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে তার অবর্তমানে সঠিক নেতৃত্বের অভাব, বিদ্যুত্ বিভ্রাট, শ্রমিক অসন্তোষ আর্থিক অসচ্ছলতাসহ বিভিন্ন কারণে মিলটি পরিচালনা ব্যাহত হয়। একপর্যায়ে ১৯৯৫ সালে মিলটি লকআউট ঘোষণা করা হয়। এভাবে একাধিকবার মিলটি পরিচালনায় বিঘ্নিত হওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন মালিকপক্ষ। অবশেষে ২০০৯ সালের ৩ মার্চ মিলটির হাল ধরেন মৌলভী তোফাজ্জল হোসেনের কনিষ্ঠ ছেলে আলহাজ্ব তারেক আহমেদ।
মালিকপক্ষ জানান, মিলটি অনেকাংশ বৃদ্ধি করে এখানে অন্তত বিশ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা পেলে এ মিলের উত্পাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। তবে সরেজমিনে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানে ৩/৪ মাস কাজ করার পর তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করে নেয়ার কথা থাকলেও মিল কর্তৃপক্ষ তা করছেন না। এখানে অসংখ্য শ্রমিক রয়েছে যারা প্রায় ২০ বছর যাবত্ কাজ করে যাচ্ছেন অথচ তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে না। ফলে তারা ন্যায্য পারিশ্রমিক ও বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অপরদিকে মিলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করে আসা কয়েকশ’ শ্রমিক বার্ধক্যজনিত কারণে কাজকর্ম করতে পারছেন না। অথচ তাদেরকে অবসরেও যেতে দেয়া হচ্ছে না । শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শেখ রাশেদ মিয়া জানান, বর্তমান ব্যবস্থাপনায় মিলটি ভাল চললেও শ্রমিকরা ন্যায্য পারিশ্রমিক পাচ্ছে না। পুরনো শ্রমিকদের দ্রুত স্থায়ীকরণ ও বকেয়া বেতন-ভাতাদি পরিশোধের দাবি জানান তিনি।
কথা হয় কোহিনুর জুট মিলস লি.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী তারেক আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, বিগত দিনের সমস্যাগুলোর অধিকাংশই ইতিমধ্যে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। অবশিষ্ট সমস্যাগুলো স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সমাধান করে মিলে শ্রমিকবান্ধন পরিবেশ তৈরি করবো। সেইসাথে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
