মুশফিকদের প্রতিপক্ষ এখন ইনজুরিও

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৩, ২১:২৯
বছর কখন চলে যায়! এক বছর আগে ঠিক এই মার্চ মাসের ২২ তারিখ ঢাকায় এক স্বপ্নের হাত ছোয়া দূরত্বে পৌছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় দেখতে পাচ্ছিল মুশফিকুর রহিমের দল। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২ রানের পরাজয়ে দেশ জুড়ে মানুষের সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তারকা ক্রিকেটাররা। সাকিব-মুশফিকদের সেই কান্নার দৃশ্য এখনও বাংলাদেশের মানুষের চোখে লেগে আছে। তারপর ক্রিকেট বিশ্বে অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। সেই বাংলাদেশ তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের বিবেচনায় অসাধারণ এক টেস্ট সিরিজ খেলেছে। তারপরও বাংলাদেশের স্মৃতিতে বারবার ফিরে আসে স্বপ্নের খুব কাছে গিয়ে কান্নার সেই দৃশ্য। আজ সেই ঘটনার ‘বর্ষপূর্তির’ ঠিক পরদিন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা সুযোগ পাচ্ছে অন্য এক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সেই কান্নার প্রতিশোধ নেওয়ার। আজ বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটা জিতে সেই দুঃখটা একটু হলেও হয়তো ভুলতে চাইবে। এমনিতে এখন ক্রিকেটীয় বিচারে শ্রীলঙ্কাকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জন্য হারানো খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয়। দু দলের সর্বশেষ সাক্ষাতে, সেই এশিয়া কাপে বাংলাদেশই জিতেছিল। যদিও শ্রীলঙ্কা দলে সাঙ্গাকারা, দিলশান, মালিঙ্গা আছেন; তারপরও তুলনামূলক বাংলাদেশেই ইনফর্ম ওয়ানডে ক্রিকেটার বেশি। ফলে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতেই পারে। কিন্তু বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে ইনজুরি। ইনজুরির ছোবলে সাকিব আল হাসান ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পারেননি। এবার এই সিরিজে বাংলাদেশ পাচ্ছে না মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। একই ইনজুরির কারণে ইনফর্ম নাঈম ইসলাম, সফিউল হোসেন আসতে পারেননি দলের সঙ্গে। সর্বশেষ গতকালই সিরিজ থেকে ইনজুরিতে সরে দাড়িয়েছেন পেসার নাজমুল হোসেন। হাম্বানটোটায় ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ইনজুরিজনিত এই সীমাবদ্ধতার কথা মেনেই নিলেন। তার ভ্রুটাও একটু কুচকে গেছে একটার পর একটা ইনজুরির এই ছোবলে। বিশেষ করে পেস বোলিংটা হঠাত্ এরকম দুর্বল হয়ে পড়ায় তিনিও বেশ চিন্তিত। একে তো হাম্বানটোটা একটু পেসারদের বন্ধুসুলভ ভেন্যু; তারওপর দিবারাত্রির খেলা এবং দু’ পাশে দুটো নতুন বল বিধায় পেস বোলারদের গুরুত্ব আরও বেশি টের পাচ্ছিলেন মুশফিক, ‘এখানে খেলা হবে ডে নাইট। বল এমনিতেই এই উইকেটে মুভ করবে। তারওপর দু পাশ থেকে নতুন বল। ফলে পেসারদের ওপর তো খুবই ভরসা করছিলাম।’ এমন অবস্থায় পেসার সংকট আসলেই বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। তারপরও মুশফিক আশাবাদী মানুষ। শেষ সময় পর্যন্ত হাল ছাড়তে চান না। ফলে তিনি এখন বিকল্প পেসারদের ওপরই ভরসা রাখছেন। আশা করছেন রুবেলরাই একটা কিছু করে দেবেন। তবে মুশফিককে চিন্তায় ফেলার মতো আরও কয়েকটা ব্যাপার এর মধ্যে আছে। অন্যতম বড় একটা চিন্তার ব্যাপার ইদানিং হয়ে দাঁড়িয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। বাংলাদেশের এই সহ অধিনায়ক গত বছরের দূরন্ত ফর্মের কারণে ‘বেস্ট সেভেন’ বলেও পরিচিতি হচ্ছিলেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় এসে যেন ব্যাটিংটাই ভুলে গেছেন। এই প্রসঙ্গটায় অবশ্য মুশফিককে আসলেই খুব চিন্তিত বলে মনে হল না। তিনি সোজা বলে দিলেন, ‘টেস্টে তিনবারের মধ্যে অন্তত দু বারই সে খুব দুর্ভাগ্যবশত আউট হয়েছে। আর এর বাইরে সে খুবই পরিশ্রম করছে। ফলে তাকে নিয়ে চিন্তা নেই। মনে রাখতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সে আমাদের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিল। ফলে তার আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই।’ মাহমুদউল্লাহ আত্মবিশ্বাসী থাকলে আর পেসাররা নিজেদের কাজটা করতে পারলে বাকী জায়গাগুলোতে আসলেই সমস্যা নেই। ইনজুরির পর ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন তামিম, ওয়ানডতে ভালো ফর্মেই আছেন এনামুল। নাসির হোসেন ও নবাগত মোমিনুল দারুণ ধারাবাহিক। ফর্মে আছেন আশরাফুল। এসব বিবেচনায় মুশফিক একটু স্বস্তিতেও আছেন, ‘মোমিনুল, বিজয় খুব ভালো করছে। আশরাফুল ভাই, জহুরুল রানে আছে। দলের ব্যাটসম্যানরা প্রায় সবাই রানে থাকায় পুরো দলই খুব চনমনে অবস্থায় আছে।’ এখন দেখার বিষয়, সেই চনমনে অবস্থার পুরস্কার হিসেবে জয় আসে কী না!