ভৈরবে রাষ্ট্রপতির প্রথম জানাজায় শোকার্ত মানুষের ঢল

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৩, ২২:২৩
বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হলেন দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি ও ভৈরব-কুলিয়ারচরের প্রাণপুরুষ-গণমানুষের নেতা মোঃ জিল্লুর রহমান। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় ভৈরব হাজী আসমত কলেজ মাঠে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার জানাজায় অংশ গ্রহণ করতে ভোর থেকে ভৈরবসহ নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা, ময়মনসিংহ, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলা থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হয় স্থানীয় হাজী আসমত কলেজের মাঠসহ আশপাশের এলাকায়। ঢাকা থেকে রাষ্ট্রপতির মরদেহ নিয়ে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভৈরব স্টেডিয়ামে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে পৌঁছালে মরদেহ গ্রহণ করেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর রেজাউল আলম ও ভৈরব আওয়ামী লীগের সভাপতি সায়েদুল্লাহ মিয়া। সেখান থেকে জানাজার জন্য রাষ্ট্রপতির মরদেহ সামরিক বাহিনীর একটি দল গাড়িতে করে জানাজাস্থল হাজী আসমত কলেজ মাঠে নিয়ে আসা হয়। এসময় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজার পূর্বে তার একমাত্র পুত্র ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন বাবার স্মৃতিচারণ করে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন-‘আপনাদের প্রিয় নেতা আজ আর আমাদের মাঝে নেই। আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন এবং বাবার সকল ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’ একথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের সূচনা হয়। জানাজায় উপস্থিত কেউ-ই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। পরে ভৈরব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ মোঃ জামাল উদ্দিনের ইমামতিতে রাষ্ট্রপতির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা হাফেজ মোঃ মুছা। জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় চিপ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, সিলেটের মেয়র বদর উদ্দিন কামরান, বেলাব-মনোহরদীর সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল মজিদ হুমায়ুন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট জিল্লুর রহমান, ভৈরব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ড. মোস্তাক আহমেদ বুলবুল, কুলিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আনিছুর রহমান, ভৈরর বিএনপির সভাপতি হাজী রফিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন, ভৈরব পৌরসভার মেয়র হাজী শাহীনসহ কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলা-উপজেলার বিভিন্ন দলমতের নেতৃবৃন্দসহ লক্ষাধিক মানুষ। মাঠে স্থান না পেয়ে অনেকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ সড়কে, মসজিদ ও আশপাশের বিল্ডিং এর ছাদে অবস্থান করে। জিল্লুর রহমানকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার জন্য হাজার হাজার নারী কলেজ মাঠের আশপাশে এবং বিভিন্ন বাড়ির ছাদে অবস্থান গ্রহণ করেন। জানাজা ও মোনাজাত শেষে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ভাষা সৈনিক প্রয়াত রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন সেনা ও পুলিশ বাহিনীর একটি চৌকস দল। এসময় বিউগল-এ করুণ সুর বেজে ওঠে। গার্ড অব অনারের পর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এলজিআরইডি মন্ত্রী, সংসদের চিপ হুইপ, সিলেটের মেয়র, সংসদ সদস্যসহ কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, নরসিংদী ও কুলিয়ারচর চেম্বার‘স অব কমার্সের নেতৃবৃন্দ, ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপি, ভৈরব ও কুলিয়ারচর মৃুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী আইনজীবী সমিতি, ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলা জাতীয় পার্টি, রোটারী ক্লাব ভৈরব, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ ভৈরব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভৈরবে ৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনতা। পরে রাষ্ট্রপতির মরদেহ একই হেলিকপ্টারে করে বেলা ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থার গত বুধবার বাংলাদেশ সময় ৪টা ৪৭ মিনিটে মারা যান। তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন।