ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ও নবীনগরে গত ২৪ ঘন্টায় পৃথক সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন গুলিবিদ্ধ এবং স্থানীয় থানার ওসিসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সরাইলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উপজেলার উচালিয়াপাড়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ব্যাপক ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। কয়েকশ’ রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস ছুঁড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া নবীনগরে তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার নিজসরাইল গ্রামের এক স্কুল ছাত্রী তার বন্ধুকে নিয়ে উচালিয়াপাড়ার ঈদগাহে মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় ওই পাড়ার কয়েকজন যুবক তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে সন্ধ্যার পর ওই এলাকার লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় ২০জন আহত হন। এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় কুট্টাপাড়া, সৈয়দটুলা, আলীনগর, পাঠানপাড়া ও জিলুকদার পাড়ার কয়েক শত লোক সংঘবদ্ধ হয়ে উচালিয়া পাড়ায় হামলা চালায়। এ সময় সরাইল-নাসিরনগর সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে এবং ১৬০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৪৪ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি হাজী ইকবাল হোসেন, সোহাগ, রফিকুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, মোস্তফা, আলী হোসেন, আবুল হোসেন, রাজন খাঁসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া সংঘর্ষে সরাইল থানার ওসি (তদন্ত) ফুয়াদ রুহানী, এএসআই মিন্টু ও ৪ কনস্টেবলসহ প্রায় উভয় পক্ষেও শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় সেলিম মিয়ার পাটের গুদাম পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং রহিছ মোল্লা মার্কেটের ৪/৫টি দোকান, জাহাংগীর মিয়ার বাড়িসহ আরো কয়েকটি বাড়ি ও দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় ১২জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্পীডবোটে উঠাকে কেন্দ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষের উপর গুলি ছুঁড়তে দেখা গেছে। এতে পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ১০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৬ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এদের মধ্যে আনু মিয়া, জামাল মিয়া ও নাজমুল আলমকে আশংকাজনক অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন পক্ষই মামলা করেনি বলে জানিয়েছেন নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর।
